আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠিঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঝালকাঠিতে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা কেবল একটি স্মৃতি নয়; এটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কাওছার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বায়জিদ ইবনে আকবর, সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন কবীর, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন, জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মন্টু, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আলী হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ সালাহউদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ইয়ামিন সিদ্দিকী, শহীদ সেলিমের স্ত্রী সুমি বেগম এবং আহত জুলাই যোদ্ধা মো. আবু মুসা।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ঘটনা। এই আন্দোলনের মূল চেতনা—ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য—বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। শহীদদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
সভায় বক্তারা ঝালকাঠির ১০ জন শহীদের কবর সরকারি অর্থায়নে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও পাকা করার দাবি জানান। পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো ঝালকাঠিতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দিবসটি উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বক্তারা বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাঁদের পরিবারের পাশে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠিঃ 



















