অরবিন্দ রায় : গ্রীষ্ম ও বর্ষার সন্ধিক্ষণে ফুটে ওঠা জারুল ফুলের সুন্দর্যে মুগ্ধ মানুষ। রাস্তার ধারে, পার্কে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায়, গ্রামীণ জনপদে ফুটে থাকা জারুল ফুল সহজেই মানুষ সৌন্দর্য উপভোগ করেন। ষড়ঋতুর আমাদের বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকৃতি নিজেকে সাঁজিয়ে তোলে।
বসন্ত আর গ্রীষ্মে মনভোলানো ফল-ফুলের ব্যাপক সমারোহ পলাশে। সেই সঙ্গে গ্রীষ্মের এই ঋতুতে প্রকৃতির নজরকাড়া আরেক সৌন্দর্য জারুল ফুল। প্রকৃতির এমনই এক সৌন্দর্য ধারণ করে পলাশের আনাচে কানাচে রয়েছে শত শত জারুল গাছ। যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে পথচারীদের। জারুলফুলের মোহনিয় রূপে থমকে দাঁড়ায় পথচারী। কিশোরকিশোরী তরুণতরুণীরা আসে জারুল ফুল দেখতে, ছবি তুলতে।
পলাশে জারুল গাছ এখন বেগুনি রঙয়ের ফুলে প্রকৃতিকে এক অপার সৌন্দর্যে ফুটিয়ে তুলেছে। গাছটির আদি নিবাস শ্রীলঙ্কায়। মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব এই জারুলফুল। তবে বাংলাদেশসহ চীন, মালয়েশিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে এই বৃক্ষের দেখা মিলে। লেজারস্ট্রমিয়া গণের এই উদ্ভিদ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রজাতি। এটি পত্রমোচী বৃক্ষ। উচ্চতায় প্রায়ই ২০ মিটার হয়। মসৃন পাতায় এপ্রিল মে মাসে হালকা বেগুনী রঙের ফুলে ফুলে গাছগুলো ঝাঁপিয়ে উঠে।
গ্রীষ্মের শুরু থেকে এই ফুল শরৎ পর্যন্ত দেখা যায়। ফুল শেষে গাছে বীজ হয় ও বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে। এই গাছ সাধারণত ১০ থেকে ২০ মিটার উঁচু হয়। গাছটির নানা ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে। তবে নানা কারণে প্রকৃতি থেকে বিলীন হওয়ার পথে এই গাছ।
প্রকৃতির এমনই এক সৌন্দর্য ধারণ করে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার টেঙ্গরপাড়া, পাইকসা, ধলাদিয়া, ক্ষুদ্রাবন, রাবান, ভরারটেক, দিগদা, ছয়দরিয়া, সানেরবাড়ি, পলাশতলী, কুড়াইতলী, পলাশতলী, বরাবো ও লেবুপাড়াসহ পলাশের বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায় জারুল ফুল। যার বেগুনি ফুলের সৌন্দর্য প্রতিটি পথচারীর নজর কাড়ে। তবে গাছটি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার এমনটিও জানিয়েছেন অনেকেই।
ড. চিত্ত রঞ্জন রায় জানান, প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে পলাশের গ্রামে গ্রামে ফুটন্ত জারুলফুল অনন্য শোভা যেকোন মানুষকে বিমোহিত করবেই। বর্তমানে এই জারুল বৃক্ষটি ব্যাপকহারে কর্তনের ফলে আগের মতো আর চোখে পড়ে না।
শিক্ষক শিলা রানী শাখারী জানান, সময়ের বিবর্তনে এখন আর আগের মতো এই গাছটি নেই। তারা বলেন পলাশের প্রকৃতি আরও সুন্দর করতে জারুলফুল গাছ রোপন করা উচিত ।
শিক্ষক নাজমুল শাহীন জানান, জারুল ফুল আবহমান বাংলার এক অপরূপের সাজের মনিহার ছিলো। ছোটবেলায় জারুল ফুল ছিলো শিশু কিশোরদের খেলার উপকরণ। সারাদিন যেন জরুলের ফুলের সাথে মিতালী সঙ্গে ছিলো । জারুল বৃক্ষটি সংরক্ষণে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত।
বেগুনি রংয়ের ফুলেল প্রকৃতিকে এক অপার সৌন্দর্যে ফুটিয়ে তুলছে। চমৎকার এই ফুল সবারই নজড় কাড়ছে প্রতিনিয়ত। জারুল গাছের বেগুনি রঙের ফুলে মনোমুগ্ধকর এক আবেশ তৈরি হয়। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য দেখতে খুবই ভালো লাগে, যদিও বর্তমানে জারুল গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তাই সড়কের দুই পাশসহ বিভিন্ন স্থানে লসৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এই গাছটি বেশি করে রোপণ করা খুব জরুরি। এই বৃক্ষটি বর্ষা মৌসুমের ও গ্রীষ্মের এক নান্দনিক প্রকৃতি উপহার। গ্রামবাংলার নান্দনিকত অরূপ্ শোভা। এটি একটি ওষুধি গুণ সম্পন্ন গাছও। নয়নাভিরাম এসব জারুলফুল গাছের বিস্তৃতি দেশের বিভিন্ন স্হানে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তুলেছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশি জারুল গাছ রোপণ করা হলে পরিবেশ যেমন সবুজ হবে, তেমনি সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

অরবিন্দ রায় 























