শেখ রিফান আহমেদ : মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না; এটি একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও ভয়াবহ হুমকি। মাদকের ভয়াল থাবায় বিপথগামী হচ্ছে অনেক তরুণ। অপরাধ, সহিংসতা, পারিবারিক অশান্তি এবং সামাজিক অবক্ষয়ের পেছনে মাদকের ভূমিকা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
মাদক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান প্রয়োজনীয় হলেও এটি একমাত্র সমাধান নয়। প্রকৃত সমাধান নিহিত রয়েছে সচেতনতা, পারিবারিক বন্ধন এবং নৈতিক শিক্ষার মধ্যে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সন্তানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, নিয়মিত খোঁজখবর এবং মানসিক সহায়তা অনেক ক্ষেত্রে তরুণদের বিপথে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে নিয়মিত আলোচনা, সেমিনার এবং কাউন্সেলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ালে তারা ইতিবাচক জীবনধারার দিকে আগ্রহী হবে।
সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধ, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করাও জরুরি। যারা মাদকাসক্ত হয়েছেন, তাদের অপরাধী হিসেবে নয়, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে—এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়তে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্র, পরিবার এবং সমাজ একসঙ্গে কাজ করলেই একটি মাদকমুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।
-লেখক : সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা

শেখ রিফান আহমেদ, সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা 























