শেখ রিফান আহমেদ : সভ্য রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন। যেখানে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হয় এবং বিচারব্যবস্থা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে, সেখানেই জনগণের আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। ন্যায়বিচার শুধু আদালতের বিষয় নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের নৈতিক শক্তিরও প্রতীক।
বাংলাদেশের সংবিধান আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি, মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং বিচারপ্রার্থীদের সহজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রযুক্তির ব্যবহার বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পারে। ই-ফাইলিং, ভার্চুয়াল শুনানি, ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আদালত ব্যবস্থা বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ শুধু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নয়; প্রতিটি নাগরিকের মধ্যেও গড়ে তুলতে হবে। আইন মানার সংস্কৃতি যত শক্তিশালী হবে, অপরাধ প্রবণতা তত কমবে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা তত বৃদ্ধি পাবে।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, বিচার বিভাগ, আইনজীবী, প্রশাসন এবং নাগরিক—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। আইনের শাসন সুদৃঢ় হলেই একটি উন্নত, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
-লেখক : সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা

শেখ রিফান আহমেদ, সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা 
























