ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
বিজ্ঞপ্তি :
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’য় প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য কিছু কর্মী প্রয়োজন। বিস্তারিত জানতে আমাদের ফেসবুক পেইজ ভিজিট করুন, ধন্যবাদ।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস : নোবেলজয়ী থেকে সরকার প্রধান, বাংলা’র এক গৌরবময় অধ্যায়

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:১৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অগাস্ট ২০২৪
  • / ৮৬২৪২ বার পঠিত

« সাইমুম রেজা পিয়াস-এর ডাইরী থেকে »

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যার, আমার পরম শ্রদ্ধেয় একজন মানুষ, যিনি আমার অহংকার, আমার অনুপ্রেরণা, আমার জীবনের লক্ষ্য। স্যারের সম্পর্কে কিছু লেখার আগে বা মন্তব্য করার আগে অথবা স্যার’কে ঘিরে বহুদিন যাবত আমার হৃদয়ের যে আবেগ জমা, তার-ই বহিঃপ্রকাশ ব্যক্ত করতে একটু বিলম্ব হয়েছে, তবে এর কিছু কারণও রয়েছে। আমি ভেবেছিলাম, এই গুণী মানুষটার ব্যাপারে কিছু লেখা আমার পক্ষে অসম্ভব দুঃসাধ্য একটা ব্যাপার। আর সব থেকে বড় কথা, এই গুণী মানুষটিকে নিয়ে লিখতে গেলে কী লিখবো, কি দিয়েই-বা লেখা শুরু করবো- এমন দ্বিধা-দ্বন্ধে ভুগছিলাম দীর্ঘদিন ধরে। কারণ, বিগত দিনে আমরা সকলেই এমন একটা পরিবেশ পরিস্থিতির মাঝে ছিলাম, যে সত্য কথা চাইলেও আমরা প্রকাশ করতে পারতাম না। যদিও-বা সাহস করে কেউ প্রকাশ করতে চাইতো, তাঁর স্থান হতো ‘আয়না ঘর’-এর মতো ভয়ংকর কোনো জায়গায়। কিন্তু এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি। তাই ভাবলাম, স্যারের বিষয়ে কিছু লেখার পরিবেশ-পরিস্থিতি যেহেতু সৃষ্টিকর্তা এখন তৈরি করে দিয়েছেন, এখন এই সুযোগটা আমি অবশ্যই কাজে লাগাবো, এটা কোনভাবেই হাতছাড়া করা যায় না। আসলে স্যারের সম্মন্ধে লিখতে গেলে’তো মাসের পর মাস লিখলেও শুধু কাগজ-কলম শেষ হবে, কিন্তু স্যার সম্পর্কে বর্ণনা করা শেষ হবে না। তবুও সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, ভয়কে জয় করে বসলাম লিখতে। চেষ্টা করেছিলাম অতি সংক্ষেপে কিছু লেখার, কিন্তু লেখাটা বোধহয় একটু লম্বা হয়ে গেল, তাই আগেই সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

প্রথমেই মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে আমি আমার লেখা শুরু করছি। স্যারের মতো মহৎ মানুষের জম্ম হয়েছে আমার জম্মভূমি, এই বাংলাদেশ-এ। যাকে নিয়ে সারাবিশ্ব আজ গর্ব করে, বিশ্বের দরবারে যার বক্তব্য শোনার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ অপেক্ষা করে, তাঁর একটু সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে, যার জীবনী বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হয়, যার জীবনাদর্শ অনুসরণ করে অনেকে গড়তে চায় নিজের জীবন, আর এমন একটা মানুষকে আমি প্রভুর দরবারে বিনা দরখাস্তে জন্মসূত্রেই বাঙ্গালী হিসেবে পেয়েছি, তাই নিজেকে পরম সৌভাগ্যবান বলে মনে হয়। তিনি আমার ও আমার দেশের গর্ব, আমাদের সকলের অহংকার। আমার জীবনে প্রথমে সৃষ্টিকর্তা, এরপর আমার জন্মদাতা পিতা ও আমাকে গর্ভে ধারণকারিনী মাতা, এরপর আমার অর্ধাঙ্গিনী ও আমার সন্তান এবং ঠিক এরপরের স্থানটি-ই হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় স্যার প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। তবে আমি কৃতজ্ঞতার সহিত দ্বিধাহীন কণ্ঠে স্বীকার করি যে, আমার বেঁচে থাকা ও আমার আজকের এই সম্মানজনক অবস্থানে পৌছানোর পেছনে সম্পূর্ণ অবদান আমার স্যার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। তিনি স্বীয় কৃতকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে সারা বিশ্বে এমন এমন পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন এবং তিনি যে সকল বই লিখেছেন, তা মনে রাখতে হলে আমার মত মানুষকে নতুন করে জম্ম নিয়ে, আবার নতুন করে পড়াশোনা শুরু করতে হবে।

স্যারের সাথে আমার প্রথম পরিচয় ২০০৩ সালের কোন এক দিন এবং তৎকালীন সময়ে বহুল জনপ্রিয় জিপি’র পল্লী ফোনের সুবাদে ধীরে ধীরে শুরু হয় আলাপচারিতা, বাড়তে থাকে ঘনিষ্ঠতা। সে সময়ে খুব কাছ থেকে দেখেছি একজন নিরহংকারী, সহজ সরল মানুষ মনের দিক থেকে কতটা বড়, কতটা উদার হতে পারে। আর তখন-ই অলৌকিকভাবে স্যারের প্রতি আমার ভালোবাসা রক্ত থেকে হৃদয়ে সঞ্চালিত হয়েছে। তিনি যে কতটা বড় মনের অধিকারী, তার সাথে না মিশলে কেউ বুঝতে-ই পারবে না। তার সাথে মিশে আমি শুধু এইটুকুই বুঝতে পেরেছি, তাঁর মত মানুষের জুতা বহন করার নূন্যতম যোগ্যতাও আমার নেই, এমনকি এই পৃথিবীতে হাজার বার নতুন করে জম্ম নিলেও আমি কোনদিন সেই যোগ্যতা অর্জন করতে পারবো না। স্যারের প্রতি আমার সম্মান বা ভালোবাসার যে অনুভূতি, তা কখনোই ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না, তবে একটা উদাহরণ দিলে হয়তো আপনারা একটু অনুধাবন করতে পারবেন। মোটামুটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হলেও আমি বরাবরই পরিবারনির্ভর না হয়ে আত্মনির্ভরশীল ছিলাম। যে কারণে ছাত্রজীবন থেকে-ই কিছু কিছু সঞ্চয় করা শুরু করি এবং ছাত্রজীবন শেষ করে সঞ্চিত অর্থ দিয়েই কর্মজীবনে প্রবেশ করি। এক সময় বেছে নেই প্রবাস জীবন। কিন্তু প্রবাস জীবনে পরের দাসত্ব না করে নিজেকে নিজেই গড়ে তুলি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে এবং নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করি। এক সময় ফিরে আসি দেশে এবং জীবনের সকল সঞ্চয় বিনিয়োগ করে শুরু করি শেয়ার ব্যবসা। কিন্তু বিধিবাম, আচমকা পুঁজিবাজারে মাত্রাতিরিক্ত দরপতনে কপাল পোড়ে আমার, সারাজীবন পরিশ্রম করে বিন্দু বিন্দু করে সঞ্চিত সকল অর্থ রাতারাতি হারিয়ে আমি হয়ে যাই রাস্তার ফকির।

প্রায় ছয় মাস পাগলের মতো উদভ্রান্ত হয়ে আমার দিন কাটে রাস্তায় রাস্তায়। আস্তে আস্তে নিজেকে আবারও গোছানো শুরু করি। ঠিক এর কিছুদিন পর, অর্থাৎ ২০০৬ সালের ১৩ অক্টোবর আমার জীবনে আবারও ফিরে আসে উৎসব পালনের মতো একটি দিন। আমার এখনো মনে আছে, দিনটা ছিলো শুক্রবার। লোকমুখে জানতে পেলাম, আমার স্যার বাংলাদেশের গর্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেতে যাচ্ছেন। খবরটি শুনতে পাওয়া মাত্র নিমিষেই আমি ভুলে গেলাম নিজের সকল দুঃখ-কষ্টের কথা, সাথে পুঁজি হারানোর ঐ টাকার শোক। সব ভুলে মেতে উঠলাম আনন্দ উদযাপনে। খুব কাছের কিছু বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা ধার করে ঐদিন রাতে-ই আয়োজন করলাম বিরিয়ানী রান্নার, সবাইকে নিয়ে ঈদের মতো উদযাপন করলাম একটি আনন্দময় রাত। কারণ ঐদিন খবরটা শুনতে পেয়ে আমার মনে হয়েছিল, আমার স্যার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঐদিন নোবেল পান নি, নোবেল পেয়েছিলাম আমি নিজে, সেদিন নোবেল পেয়েছিলো আমার দেশ, বাংলাদেশ।

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের এই নোবেল পাওয়ার কারণে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ লাভ করে এক গৌরবময় পরিচিতি, আর এই দেশের নাগরিক হিসেবে আমি-ও গর্বিত হয়েছিলাম। যদিও আনন্দময় ঐ দিনটিতে আমি সামর্থ্যহীন ছিলাম, কিন্তু তবুও মানুষের কাছে ভিক্ষা করে একটু আনন্দ উদযাপনের উপলক্ষ্য তৈরি করেছিলাম, একটু বিরিয়ানী রান্না করে সকলকে নিয়ে আনন্দ উল্লাস করেছিলাম। কিন্তু আসলে এসব করার কী কারণ ছিল, এসব করার মানে-টাই বা কী ছিল? এই উদযাপন করায় স্যার যে নোবেলটা পেয়েছিলেন, সেটা কি আমাকে দিয়ে দিবেন, এমন কিছু? নিশ্চয়ই তা নয়। আর শুধু আমি একা নই, সেদিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় যারা আমার মতো এমন আনন্দ করেছিলো, সেগুলো আসলে কী ছিল? আমি মনে করি, সেদিন আমিসহ বাংলার যারাই এই অর্জনটা নিজের বা নিজ দেশের মনে করেছিলো, তাদের মনে কোন দুরভিসন্ধি বা কোন চাওয়া-পাওয়া-আশা-আকাঙ্খা ছিল না। সত্যিকারের দেশপ্রেম থেকে বা হৃদয়ের ভালোবাসা থেকে ঐ পবিত্র মনের মানুষগুলো আনন্দ উদযাপন করেছিল, এর পেছনে কারোর’ই কোন ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য বা চাহিদা ছিলো না।

তবে, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের এই নোবেল পাওয়াটাই ছিল তাঁর জীবনে একটি বড় ‘কাল’ বলে আমি মনে করি। কারণ, তাঁর এই অর্জন, এই গৌরব মেনে নিতে পারেনি অনেকে-ই, কিছু মানুষরূপী অমানুষদের শুরু হয়ে যায় চুলকানি। কিন্তু এই চুলকানি বন্ধ করে আমরা সবাই মিলে স্যারকে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারতাম, তাহলে হয়তো কথিত সোনার বাংলা নয়, হয়তো সত্যিকারের সোনার বাংলা-ই গড়তে পারতাম। সারাবিশ্ব আজ স্যারকে নিজেদের প্রয়োজনে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছেন। অথচ আফসোস, এতো বড় সুযোগ পেয়েও নিজেদের দেশেই আমরা স্যারকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলাম না। হায়রে পোড়া কপাল জাতি আমরা, হিরার টুকরা ফেলে দিয়ে লাফালাফি করলাম তামা নিয়ে, তাই নিজেরাই পোড়ালাম নিজেদের কপাল। যে সম্মান প্রাপ্য, তাকে সম্মান দিতে তো পারলাম-ই না বরং ফালতু অপবাদ দিয়ে আমরা তাকে বানালাম দেড়শ’ মামলার আসামী। দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের থেকে এবং তার পিতার থেকে স্যার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বের দরবারে বেশি সম্মান পাওয়ায় তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারকে নিয়ে এতো নোংরামি শুরু করলো, যা দেখে আমরা সকলেই আজ লজ্জিত। বাংলার নাগরিকদের থেকে স্যারকে বিচ্ছিন্ন করতে শেখ হাসিনার হাজারও নাটক পারলেন না দেশের জনগণকে খাওয়াতে, বরং শেষ পর্যন্ত নিজেই রোহিঙ্গা হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলো। অথচ স্যার যদি একবার মনে করতেন, হাসিনা সরকারকে গদি থেকে নামাবেন, তাহলে সেটা অনেক আগেই স্যার করতে পারতেন। কিন্তু স্যার প্রতিহিংসা পরায়ন নন, তাই তিনি সবকিছুই নিরবে সহ্য করে গিয়েছেন এবং উত্তম বিচারের আশায় সঠিক সময়ের অপেক্ষায় চাতক পাখির মত আরশের মালিকের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

বিভিন্ন মামলায় হাজিরা দিতে স্যার যখন আদালতে উপস্থিত হতেন তখন সবসময় আমি-ও আমার সাধ্যমত তাঁর পাশেই থাকতাম। আমি স্যারের চাপা কষ্ট দেখে প্রতিনিয়ত ঐ আরশের মালিকের নামে সদকা দিয়ে ফরিয়াদ করে বলতাম, হে আরশের মালিক! হে কাবার মালিক, হে ইজ্জতের মালিক, তুমিই তো সর্বত্তম বিচারক! তাই আমি তোমার কাছে সঠিক বিচার চাই। তুমি তো অন্ধ নও, তুমি তো হাসিনা সরকারের জুলুম-অবিচার দেখতেছো, বিশ্বমানের একটা সম্মানী মানুষকে অবৈধ হাসিনা সরকার কিভাবে তাকে অসম্মান করতেছে? তুমি’ই তো একমাত্র সম্মান দেওয়ার মালিক! আর এটাও তো চিরন্তন সত্য, স্যারকে তো তুমি’ই সারা বিশ্বে সম্মান দিয়েছো, কিন্তু নিজ জন্মভূমিতে ও নিজ মাতৃভূমিতে কেনো তাকে এতো অসম্মান, এতো অপমান করতেছো? তুমি তো সর্বোচ্চ ইজ্জতের মালিক। তাই তুমি চাইলে তো চোখের পলকে সবকিছুই ওলট-পালট করতে পারো। তাই তুমি দয়া করে মায়া করে স্যারকে এই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মান দান করো। আমি স্যারের জন্য তোমার কাছে তাঁর সম্মান ভিক্ষা চাই! অতএব, আমি মনে করি, আল্লাহ ঠিক তাঁর সঠিক বা উত্তম বিচার করে আমাকে ইতোমধ্যে সেই ভিক্ষা দিয়ে দিয়েছেন। কারণ মহান আল্লাহ পাক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার উছিলায় হাসিনা সরকারকে টেনে হিঁচড়ে এমনভাবে গদি থেকে নামিয়ে দেশ থেকে বিতারিত করলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নজির দেশবাসী আজীবন মনে রাখবে। সব থেকে আশ্চর্যজনক ঘটনা হচ্ছে, ঐ স্বৈরাচারী শাসক হাসিনার কবল থেকে দেশকে মুক্ত করে পূণরায় দেশকে স্বাধীন করলেন এবং ঐ হাসিনার পদমর্যাদায় হাসিনার চেয়ারেই সেই স্যারকে বসিয়ে দিয়েছেন, সাথে বাড়তি হিসেবে দিয়েছেন এই বাংলার সকল নাগরিকের অফুরন্ত ভালোবাসা। তাই আমি সকল মানুষকে জানান দিতে চাই- সৃষ্টিকর্তার দরবারে চাওয়ার মত চাইলে সেটা কখনো বিফলে যায় না। অতএব, আমি মনে করি যে আমার চাওয়া আল্লাহপাক কবুল করেছেন। শুধু তাই নয়! এই মুহুর্তে আল্লাহপাক স্যার’কে সর্বোচ্চ সম্মান দান করে সকলে হৃদয়ের স্পন্দন বানিয়ে দিয়েছেন।

এই মূহুর্তে আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ বা গৌরব, বড় অর্জন অথবা আমার বড়’ই অহংকারের বিষয় হলো যে-অবশেষে আল্লাহপাক আমার স্যারের বিরুদ্ধে থাকা সকল প্রতিকূল আবহাওয়া পাল্টে দিয়ে অশেষ নেয়ামত বা উপহার হিসেবে সকলকিছুই স্যারের নিজের অনুকুলে ফিরিয়ে দিয়ে এবং স্যারকে বাংলাদেশের সকল জনগনের হৃদয়ের মনিকোঠায় জায়গা করে দিয়ে এমনকি তাঁদের সকলের ভালোবাসা অর্জনের মধ্যে দিয়ে নতুন করে দ্বিতীয় বার বাংলাদেশের স্বাধীনতা ২০২৪ অর্জন করার সু-ব্যবস্থাসহ স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সদ্য পতনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে ও নতুন করে এর সংস্কারের দায়িত্ব আল্লাহপাক স্যারকে দিয়েছেন এবং ঐ আল্লাহ যিনি স্যারের সকল গ্লানী মুছে দিয়ে সর্বজনীন সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তাই ঐ মহান প্রভূর দরবারে কোটি কোটি শুকরিয়া আদায় করে আমি মহান প্রভূকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি স্যারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এইজন্য যে, স্যার দয়া করে এবং তিনি বাংলার এই ক্লান্তিলগ্নে বাংলার মায়ায় পরে বাংলাদেশকে ভালোবেসে বাংলার সকল নাগরিকদের চাওয়াকে সম্মান জানিয়ে সমস্ত নাগরিক কে স্বাধীন করতে এবং বিধ্বস্ত বাংলা’কে নতুন করে সংস্কার করার লক্ষে দায়িত্ব গ্রহনের মধ্যে দিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সংস্কারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি স্যারের জন্য সৃষ্টিকর্তার দরবারে ফরিয়াদ করি, এই পৃথিবীর মালিক যেন স্যারকে সুস্থ্য রেখে নেক হায়াত দান করেন এবং আরো কয়েক কোটি গুণ সম্মান বাড়িয়ে দেন। সেই সাথে স্যার যেন এই বাংলাদেশকে সংস্কার করে বিশ্বের দরবারে সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে!

আমি সাবেক সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে আমার আম্মাজানকে বলতে চাই, আপনার শাসনামলে আপনি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হামলা, মামলা এমনকি গুম বা খুন করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। নিজের প্রতিপত্তি বিস্তার করে দেশের প্রতিটি সেক্টরে প্রভাব খাটিয়ে আজীবন ক্ষমতা আকড়ে ধরে রাখতে যে বৃথা চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন, পেরেছেন কি শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে? এমনকি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের বিরুদ্ধে যে এতো গলাবাজী/বকাবাজিসহ রীতিমত বস্তিবাসীদের মত করে ঝগড়া গালমন্দ কুমন্তব্য করেছেন কিন্তু আমি তো জীবনে স্যারকে তাঁর নিজ মূখ দিয়ে আপনার বিরুদ্ধে একটা অশ্লীল ভাষা বা বিকৃত ভাষা বের করতে শুনিনি! আপনি বরং স্যারের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র না করে তাকে উপযুক্ত সম্মান দিতেন তাহলে আপনার অন্তত আজ দেশ ছেড়ে পালাতে হত না। আপনি এই দেশে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন ঠিকই অথচ আজ আপনি নিজেই রোহিঙ্গা হয়ে অন্য দেশের বোঝা হয়ে গেলেন! এটাই আল্লাহর বিচার! কেউ যদি নিজের হাতের কামাই অথবা নিজের স্বীয় কৃতকর্মের ইতিহাস ভূলে যায় তাহলে মনে রাখবেন-প্রকৃতিও কিন্তু তাকে ভূলে যায়। আর ঐ প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণ কিন্তু সরাসরি সৃষ্টিকর্তার হাতে! আর সেই সৃষ্টিকর্তা’ই কিন্তু উত্তম বিচারক আর এই দুনিয়ার সকল বিচারকদেরও বিচারক! সেই সূত্রানুসারে সমাজে আজও একটি কথা প্রচলন আছে, আল্লাহ ছাড় দেন কিন্তু কখনো-ই ছেড়ে দেন না। উনি অতি ধৈর্য্যশীল, তাই হয়তো মানুষকে শোধরানোর জন্য সময় দেন। কিন্তু না শোধরালে স্বীয় কৃতকর্ম অনুযায়ী প্রত্যেককে তাঁর ফল ভোগ করান। এটা পৃথিবী জন্মলগ্ন থেকেই কিন্তু আজও ইতিহাস সাক্ষী হয়ে আছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত কালের সাক্ষী হয়ে থাকবেন। তাই বলছি কোরআন হাদীসের সু-স্পষ্ট দলিল আমাদের মাঝে প্রতিনিয়ত বিরাজমান কিন্তু আমরা তা আমাদের বাস্তব জীবনে কাজে লাগাই না, এমনকি মানিও না। তবে আমরা সেটা না মেনেই কিন্তু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি। আর এজন্যই বলে, অহংকার পতনের মূল, যা আল্লাহ আবারও প্রমাণ দিলেন। কিন্তু কথায় আছে অহংকার মানুষকে এমনভাবে ধ্বংস করে যেভাবে আগুন কাঁঠকে পুড়িয়ে ধ্বংস করে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, কাঁঠ পুড়লেও ছাই কিন্তু অবশিষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। আর মানুষ অহংকার বা হিংসার আগুনে পুড়ে ধ্বংস হলে তার কিন্তু কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

সর্বোপরি, এই বাংলার সকল সম্মানীত নাগরিকদের কাছে আমি প্রশ্ন রাখতে চাই। এই হাসিনা সরকারের পতন না হলে আজ যিনি এই বাংলাদেশের সকল নাগরিকের চাওয়া এবং পাওয়াকে সম্মান জানিয়ে সবার আবেগ’কে পূর্ণতা দিতে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের দ্বায়িত্ব না নিতো, তাহলে এই বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো? বা হাসিনা সরকারের পতন না হলে এই প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস স্যারের শেষ অবস্থা আজ কি হতো? আপনাদের নিশ্চই মনে আছে, প্রায় দেড়শত মামলায় আসামী করে-ই কিন্তু ক্ষান্ত হয় নাই স্বৈরাচারী ঐ শাসকেরা। বলে রাখি স্যার মামলার হাজিরা দিতে গেলে লিফট পর্যন্ত বন্ধ করে দিতো এই স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার। স্যার বয়োজৈষ্ঠ্য মানুষ হওয়া সত্ত্বেও ছয় তালা সিড়ি বেয়ে হেটে উঠতে হতো। একটি মামলায় সাজা দিয়ে,এমনকি অপর একটি মামলায় উনি পতনের ঠিক আগের দিনও স্যার’কে বিশাল পরিমাণ একটা অ্যামাউন্ট জরিমানাও করা হয়েছে তাকে। কিন্তু হাসিনা সরকারের উদ্দেশ্যে আসলে কি ছিল …? আমার প্রশ্ন হলো একটা মানুষকে ঘায়েল করতে কয়টা মামলা লাগে? গলাবাজী করে মানুষের কাছ থেকে মানুষের ভালোবাসা থেকে কখনো আলাদা করা যায় না। তাই আমাদের সকলের মনে রাঁখা উচিত যে মানুষের কোনকিছুই চিরস্থায়ী নয়, সবকিছুই কিন্তু পরিবর্তনশীল। অতএব ক্ষমতা,সম্মান যিনি দান করেন সেটা সঠিক ভাবে কাজে না লাগিয়ে যদি অপব্যবহার করেন তাহলে আবার তাকে সমাজে টেনে হিচড়ে বেইজ্জতি করেন এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা’ও কেঁড়ে নেন। এটা স্বর্গীয় জিনিস, তবে তা কাচেঁর মতো, যা সতর্কতার সাথে ব্যবহার করলে যুগ যুগ ধরে নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যায়। এটার আলোকরশ্মী নিজেও যেমন ভোগ করা যায়, তেমনি তা অন্য মানুষের মাঝে ছড়ানো যায়। এর থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে যে, আমরা কেউই কারোর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক কোনো আচরন করবো না। কারণ, আমরা কেউই ভবিষ্যত সম্পর্কে অবগত নই। আজকে আমি ভালো আছি, কিন্তু কাল যে আমি বিপদে পড়বো না, অথবা কাল যে আমার উপর আল্লাহ পরীক্ষা চালাবেন না, তার কোন নিশ্চয়তা আমরা কেউই দিতে পারিনা। মনে রাখবেন, আলোর বিপরীতেই কিন্তু অন্ধকার, মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ মাত্র। আমাদের চরিত্র যেন এমন না হয় যে, আমরা কেউ বিপদে পড়েছি, আর অন্যরা তাঁর দুঃখের অংশীদার না হয়ে বরং মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে আনন্দ উল্লাস করি। মহান আল্লাহ পাক সকলকে হেফাজত করুক, আমিন।

আমার এই লেখাটুকু প্রফেসর ড.মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের সমীপে উৎসর্গ করলাম!

-লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’

ই-মেইল: srpiyas1975@gmail.com

ও ফেসবুক: www.fb.com/srpiyas

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

প্রবন্ধ কলাম

ড. মুহাম্মদ ইউনূস : নোবেলজয়ী থেকে সরকার প্রধান, বাংলা’র এক গৌরবময় অধ্যায়

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:১৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অগাস্ট ২০২৪

« সাইমুম রেজা পিয়াস-এর ডাইরী থেকে »

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যার, আমার পরম শ্রদ্ধেয় একজন মানুষ, যিনি আমার অহংকার, আমার অনুপ্রেরণা, আমার জীবনের লক্ষ্য। স্যারের সম্পর্কে কিছু লেখার আগে বা মন্তব্য করার আগে অথবা স্যার’কে ঘিরে বহুদিন যাবত আমার হৃদয়ের যে আবেগ জমা, তার-ই বহিঃপ্রকাশ ব্যক্ত করতে একটু বিলম্ব হয়েছে, তবে এর কিছু কারণও রয়েছে। আমি ভেবেছিলাম, এই গুণী মানুষটার ব্যাপারে কিছু লেখা আমার পক্ষে অসম্ভব দুঃসাধ্য একটা ব্যাপার। আর সব থেকে বড় কথা, এই গুণী মানুষটিকে নিয়ে লিখতে গেলে কী লিখবো, কি দিয়েই-বা লেখা শুরু করবো- এমন দ্বিধা-দ্বন্ধে ভুগছিলাম দীর্ঘদিন ধরে। কারণ, বিগত দিনে আমরা সকলেই এমন একটা পরিবেশ পরিস্থিতির মাঝে ছিলাম, যে সত্য কথা চাইলেও আমরা প্রকাশ করতে পারতাম না। যদিও-বা সাহস করে কেউ প্রকাশ করতে চাইতো, তাঁর স্থান হতো ‘আয়না ঘর’-এর মতো ভয়ংকর কোনো জায়গায়। কিন্তু এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি। তাই ভাবলাম, স্যারের বিষয়ে কিছু লেখার পরিবেশ-পরিস্থিতি যেহেতু সৃষ্টিকর্তা এখন তৈরি করে দিয়েছেন, এখন এই সুযোগটা আমি অবশ্যই কাজে লাগাবো, এটা কোনভাবেই হাতছাড়া করা যায় না। আসলে স্যারের সম্মন্ধে লিখতে গেলে’তো মাসের পর মাস লিখলেও শুধু কাগজ-কলম শেষ হবে, কিন্তু স্যার সম্পর্কে বর্ণনা করা শেষ হবে না। তবুও সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, ভয়কে জয় করে বসলাম লিখতে। চেষ্টা করেছিলাম অতি সংক্ষেপে কিছু লেখার, কিন্তু লেখাটা বোধহয় একটু লম্বা হয়ে গেল, তাই আগেই সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

প্রথমেই মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া জানিয়ে আমি আমার লেখা শুরু করছি। স্যারের মতো মহৎ মানুষের জম্ম হয়েছে আমার জম্মভূমি, এই বাংলাদেশ-এ। যাকে নিয়ে সারাবিশ্ব আজ গর্ব করে, বিশ্বের দরবারে যার বক্তব্য শোনার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ অপেক্ষা করে, তাঁর একটু সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে, যার জীবনী বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হয়, যার জীবনাদর্শ অনুসরণ করে অনেকে গড়তে চায় নিজের জীবন, আর এমন একটা মানুষকে আমি প্রভুর দরবারে বিনা দরখাস্তে জন্মসূত্রেই বাঙ্গালী হিসেবে পেয়েছি, তাই নিজেকে পরম সৌভাগ্যবান বলে মনে হয়। তিনি আমার ও আমার দেশের গর্ব, আমাদের সকলের অহংকার। আমার জীবনে প্রথমে সৃষ্টিকর্তা, এরপর আমার জন্মদাতা পিতা ও আমাকে গর্ভে ধারণকারিনী মাতা, এরপর আমার অর্ধাঙ্গিনী ও আমার সন্তান এবং ঠিক এরপরের স্থানটি-ই হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় স্যার প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস। তবে আমি কৃতজ্ঞতার সহিত দ্বিধাহীন কণ্ঠে স্বীকার করি যে, আমার বেঁচে থাকা ও আমার আজকের এই সম্মানজনক অবস্থানে পৌছানোর পেছনে সম্পূর্ণ অবদান আমার স্যার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের। তিনি স্বীয় কৃতকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে সারা বিশ্বে এমন এমন পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন এবং তিনি যে সকল বই লিখেছেন, তা মনে রাখতে হলে আমার মত মানুষকে নতুন করে জম্ম নিয়ে, আবার নতুন করে পড়াশোনা শুরু করতে হবে।

স্যারের সাথে আমার প্রথম পরিচয় ২০০৩ সালের কোন এক দিন এবং তৎকালীন সময়ে বহুল জনপ্রিয় জিপি’র পল্লী ফোনের সুবাদে ধীরে ধীরে শুরু হয় আলাপচারিতা, বাড়তে থাকে ঘনিষ্ঠতা। সে সময়ে খুব কাছ থেকে দেখেছি একজন নিরহংকারী, সহজ সরল মানুষ মনের দিক থেকে কতটা বড়, কতটা উদার হতে পারে। আর তখন-ই অলৌকিকভাবে স্যারের প্রতি আমার ভালোবাসা রক্ত থেকে হৃদয়ে সঞ্চালিত হয়েছে। তিনি যে কতটা বড় মনের অধিকারী, তার সাথে না মিশলে কেউ বুঝতে-ই পারবে না। তার সাথে মিশে আমি শুধু এইটুকুই বুঝতে পেরেছি, তাঁর মত মানুষের জুতা বহন করার নূন্যতম যোগ্যতাও আমার নেই, এমনকি এই পৃথিবীতে হাজার বার নতুন করে জম্ম নিলেও আমি কোনদিন সেই যোগ্যতা অর্জন করতে পারবো না। স্যারের প্রতি আমার সম্মান বা ভালোবাসার যে অনুভূতি, তা কখনোই ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না, তবে একটা উদাহরণ দিলে হয়তো আপনারা একটু অনুধাবন করতে পারবেন। মোটামুটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হলেও আমি বরাবরই পরিবারনির্ভর না হয়ে আত্মনির্ভরশীল ছিলাম। যে কারণে ছাত্রজীবন থেকে-ই কিছু কিছু সঞ্চয় করা শুরু করি এবং ছাত্রজীবন শেষ করে সঞ্চিত অর্থ দিয়েই কর্মজীবনে প্রবেশ করি। এক সময় বেছে নেই প্রবাস জীবন। কিন্তু প্রবাস জীবনে পরের দাসত্ব না করে নিজেকে নিজেই গড়ে তুলি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে এবং নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করি। এক সময় ফিরে আসি দেশে এবং জীবনের সকল সঞ্চয় বিনিয়োগ করে শুরু করি শেয়ার ব্যবসা। কিন্তু বিধিবাম, আচমকা পুঁজিবাজারে মাত্রাতিরিক্ত দরপতনে কপাল পোড়ে আমার, সারাজীবন পরিশ্রম করে বিন্দু বিন্দু করে সঞ্চিত সকল অর্থ রাতারাতি হারিয়ে আমি হয়ে যাই রাস্তার ফকির।

প্রায় ছয় মাস পাগলের মতো উদভ্রান্ত হয়ে আমার দিন কাটে রাস্তায় রাস্তায়। আস্তে আস্তে নিজেকে আবারও গোছানো শুরু করি। ঠিক এর কিছুদিন পর, অর্থাৎ ২০০৬ সালের ১৩ অক্টোবর আমার জীবনে আবারও ফিরে আসে উৎসব পালনের মতো একটি দিন। আমার এখনো মনে আছে, দিনটা ছিলো শুক্রবার। লোকমুখে জানতে পেলাম, আমার স্যার বাংলাদেশের গর্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেতে যাচ্ছেন। খবরটি শুনতে পাওয়া মাত্র নিমিষেই আমি ভুলে গেলাম নিজের সকল দুঃখ-কষ্টের কথা, সাথে পুঁজি হারানোর ঐ টাকার শোক। সব ভুলে মেতে উঠলাম আনন্দ উদযাপনে। খুব কাছের কিছু বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা ধার করে ঐদিন রাতে-ই আয়োজন করলাম বিরিয়ানী রান্নার, সবাইকে নিয়ে ঈদের মতো উদযাপন করলাম একটি আনন্দময় রাত। কারণ ঐদিন খবরটা শুনতে পেয়ে আমার মনে হয়েছিল, আমার স্যার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঐদিন নোবেল পান নি, নোবেল পেয়েছিলাম আমি নিজে, সেদিন নোবেল পেয়েছিলো আমার দেশ, বাংলাদেশ।

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের এই নোবেল পাওয়ার কারণে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ লাভ করে এক গৌরবময় পরিচিতি, আর এই দেশের নাগরিক হিসেবে আমি-ও গর্বিত হয়েছিলাম। যদিও আনন্দময় ঐ দিনটিতে আমি সামর্থ্যহীন ছিলাম, কিন্তু তবুও মানুষের কাছে ভিক্ষা করে একটু আনন্দ উদযাপনের উপলক্ষ্য তৈরি করেছিলাম, একটু বিরিয়ানী রান্না করে সকলকে নিয়ে আনন্দ উল্লাস করেছিলাম। কিন্তু আসলে এসব করার কী কারণ ছিল, এসব করার মানে-টাই বা কী ছিল? এই উদযাপন করায় স্যার যে নোবেলটা পেয়েছিলেন, সেটা কি আমাকে দিয়ে দিবেন, এমন কিছু? নিশ্চয়ই তা নয়। আর শুধু আমি একা নই, সেদিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় যারা আমার মতো এমন আনন্দ করেছিলো, সেগুলো আসলে কী ছিল? আমি মনে করি, সেদিন আমিসহ বাংলার যারাই এই অর্জনটা নিজের বা নিজ দেশের মনে করেছিলো, তাদের মনে কোন দুরভিসন্ধি বা কোন চাওয়া-পাওয়া-আশা-আকাঙ্খা ছিল না। সত্যিকারের দেশপ্রেম থেকে বা হৃদয়ের ভালোবাসা থেকে ঐ পবিত্র মনের মানুষগুলো আনন্দ উদযাপন করেছিল, এর পেছনে কারোর’ই কোন ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য বা চাহিদা ছিলো না।

তবে, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের এই নোবেল পাওয়াটাই ছিল তাঁর জীবনে একটি বড় ‘কাল’ বলে আমি মনে করি। কারণ, তাঁর এই অর্জন, এই গৌরব মেনে নিতে পারেনি অনেকে-ই, কিছু মানুষরূপী অমানুষদের শুরু হয়ে যায় চুলকানি। কিন্তু এই চুলকানি বন্ধ করে আমরা সবাই মিলে স্যারকে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারতাম, তাহলে হয়তো কথিত সোনার বাংলা নয়, হয়তো সত্যিকারের সোনার বাংলা-ই গড়তে পারতাম। সারাবিশ্ব আজ স্যারকে নিজেদের প্রয়োজনে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছেন। অথচ আফসোস, এতো বড় সুযোগ পেয়েও নিজেদের দেশেই আমরা স্যারকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলাম না। হায়রে পোড়া কপাল জাতি আমরা, হিরার টুকরা ফেলে দিয়ে লাফালাফি করলাম তামা নিয়ে, তাই নিজেরাই পোড়ালাম নিজেদের কপাল। যে সম্মান প্রাপ্য, তাকে সম্মান দিতে তো পারলাম-ই না বরং ফালতু অপবাদ দিয়ে আমরা তাকে বানালাম দেড়শ’ মামলার আসামী। দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের থেকে এবং তার পিতার থেকে স্যার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বের দরবারে বেশি সম্মান পাওয়ায় তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারকে নিয়ে এতো নোংরামি শুরু করলো, যা দেখে আমরা সকলেই আজ লজ্জিত। বাংলার নাগরিকদের থেকে স্যারকে বিচ্ছিন্ন করতে শেখ হাসিনার হাজারও নাটক পারলেন না দেশের জনগণকে খাওয়াতে, বরং শেষ পর্যন্ত নিজেই রোহিঙ্গা হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলো। অথচ স্যার যদি একবার মনে করতেন, হাসিনা সরকারকে গদি থেকে নামাবেন, তাহলে সেটা অনেক আগেই স্যার করতে পারতেন। কিন্তু স্যার প্রতিহিংসা পরায়ন নন, তাই তিনি সবকিছুই নিরবে সহ্য করে গিয়েছেন এবং উত্তম বিচারের আশায় সঠিক সময়ের অপেক্ষায় চাতক পাখির মত আরশের মালিকের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

বিভিন্ন মামলায় হাজিরা দিতে স্যার যখন আদালতে উপস্থিত হতেন তখন সবসময় আমি-ও আমার সাধ্যমত তাঁর পাশেই থাকতাম। আমি স্যারের চাপা কষ্ট দেখে প্রতিনিয়ত ঐ আরশের মালিকের নামে সদকা দিয়ে ফরিয়াদ করে বলতাম, হে আরশের মালিক! হে কাবার মালিক, হে ইজ্জতের মালিক, তুমিই তো সর্বত্তম বিচারক! তাই আমি তোমার কাছে সঠিক বিচার চাই। তুমি তো অন্ধ নও, তুমি তো হাসিনা সরকারের জুলুম-অবিচার দেখতেছো, বিশ্বমানের একটা সম্মানী মানুষকে অবৈধ হাসিনা সরকার কিভাবে তাকে অসম্মান করতেছে? তুমি’ই তো একমাত্র সম্মান দেওয়ার মালিক! আর এটাও তো চিরন্তন সত্য, স্যারকে তো তুমি’ই সারা বিশ্বে সম্মান দিয়েছো, কিন্তু নিজ জন্মভূমিতে ও নিজ মাতৃভূমিতে কেনো তাকে এতো অসম্মান, এতো অপমান করতেছো? তুমি তো সর্বোচ্চ ইজ্জতের মালিক। তাই তুমি চাইলে তো চোখের পলকে সবকিছুই ওলট-পালট করতে পারো। তাই তুমি দয়া করে মায়া করে স্যারকে এই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মান দান করো। আমি স্যারের জন্য তোমার কাছে তাঁর সম্মান ভিক্ষা চাই! অতএব, আমি মনে করি, আল্লাহ ঠিক তাঁর সঠিক বা উত্তম বিচার করে আমাকে ইতোমধ্যে সেই ভিক্ষা দিয়ে দিয়েছেন। কারণ মহান আল্লাহ পাক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার উছিলায় হাসিনা সরকারকে টেনে হিঁচড়ে এমনভাবে গদি থেকে নামিয়ে দেশ থেকে বিতারিত করলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নজির দেশবাসী আজীবন মনে রাখবে। সব থেকে আশ্চর্যজনক ঘটনা হচ্ছে, ঐ স্বৈরাচারী শাসক হাসিনার কবল থেকে দেশকে মুক্ত করে পূণরায় দেশকে স্বাধীন করলেন এবং ঐ হাসিনার পদমর্যাদায় হাসিনার চেয়ারেই সেই স্যারকে বসিয়ে দিয়েছেন, সাথে বাড়তি হিসেবে দিয়েছেন এই বাংলার সকল নাগরিকের অফুরন্ত ভালোবাসা। তাই আমি সকল মানুষকে জানান দিতে চাই- সৃষ্টিকর্তার দরবারে চাওয়ার মত চাইলে সেটা কখনো বিফলে যায় না। অতএব, আমি মনে করি যে আমার চাওয়া আল্লাহপাক কবুল করেছেন। শুধু তাই নয়! এই মুহুর্তে আল্লাহপাক স্যার’কে সর্বোচ্চ সম্মান দান করে সকলে হৃদয়ের স্পন্দন বানিয়ে দিয়েছেন।

এই মূহুর্তে আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ বা গৌরব, বড় অর্জন অথবা আমার বড়’ই অহংকারের বিষয় হলো যে-অবশেষে আল্লাহপাক আমার স্যারের বিরুদ্ধে থাকা সকল প্রতিকূল আবহাওয়া পাল্টে দিয়ে অশেষ নেয়ামত বা উপহার হিসেবে সকলকিছুই স্যারের নিজের অনুকুলে ফিরিয়ে দিয়ে এবং স্যারকে বাংলাদেশের সকল জনগনের হৃদয়ের মনিকোঠায় জায়গা করে দিয়ে এমনকি তাঁদের সকলের ভালোবাসা অর্জনের মধ্যে দিয়ে নতুন করে দ্বিতীয় বার বাংলাদেশের স্বাধীনতা ২০২৪ অর্জন করার সু-ব্যবস্থাসহ স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সদ্য পতনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে ও নতুন করে এর সংস্কারের দায়িত্ব আল্লাহপাক স্যারকে দিয়েছেন এবং ঐ আল্লাহ যিনি স্যারের সকল গ্লানী মুছে দিয়ে সর্বজনীন সম্মান ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তাই ঐ মহান প্রভূর দরবারে কোটি কোটি শুকরিয়া আদায় করে আমি মহান প্রভূকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি স্যারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এইজন্য যে, স্যার দয়া করে এবং তিনি বাংলার এই ক্লান্তিলগ্নে বাংলার মায়ায় পরে বাংলাদেশকে ভালোবেসে বাংলার সকল নাগরিকদের চাওয়াকে সম্মান জানিয়ে সমস্ত নাগরিক কে স্বাধীন করতে এবং বিধ্বস্ত বাংলা’কে নতুন করে সংস্কার করার লক্ষে দায়িত্ব গ্রহনের মধ্যে দিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সংস্কারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি স্যারের জন্য সৃষ্টিকর্তার দরবারে ফরিয়াদ করি, এই পৃথিবীর মালিক যেন স্যারকে সুস্থ্য রেখে নেক হায়াত দান করেন এবং আরো কয়েক কোটি গুণ সম্মান বাড়িয়ে দেন। সেই সাথে স্যার যেন এই বাংলাদেশকে সংস্কার করে বিশ্বের দরবারে সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে!

আমি সাবেক সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে আমার আম্মাজানকে বলতে চাই, আপনার শাসনামলে আপনি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হামলা, মামলা এমনকি গুম বা খুন করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। নিজের প্রতিপত্তি বিস্তার করে দেশের প্রতিটি সেক্টরে প্রভাব খাটিয়ে আজীবন ক্ষমতা আকড়ে ধরে রাখতে যে বৃথা চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন, পেরেছেন কি শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে? এমনকি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের বিরুদ্ধে যে এতো গলাবাজী/বকাবাজিসহ রীতিমত বস্তিবাসীদের মত করে ঝগড়া গালমন্দ কুমন্তব্য করেছেন কিন্তু আমি তো জীবনে স্যারকে তাঁর নিজ মূখ দিয়ে আপনার বিরুদ্ধে একটা অশ্লীল ভাষা বা বিকৃত ভাষা বের করতে শুনিনি! আপনি বরং স্যারের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র না করে তাকে উপযুক্ত সম্মান দিতেন তাহলে আপনার অন্তত আজ দেশ ছেড়ে পালাতে হত না। আপনি এই দেশে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন ঠিকই অথচ আজ আপনি নিজেই রোহিঙ্গা হয়ে অন্য দেশের বোঝা হয়ে গেলেন! এটাই আল্লাহর বিচার! কেউ যদি নিজের হাতের কামাই অথবা নিজের স্বীয় কৃতকর্মের ইতিহাস ভূলে যায় তাহলে মনে রাখবেন-প্রকৃতিও কিন্তু তাকে ভূলে যায়। আর ঐ প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণ কিন্তু সরাসরি সৃষ্টিকর্তার হাতে! আর সেই সৃষ্টিকর্তা’ই কিন্তু উত্তম বিচারক আর এই দুনিয়ার সকল বিচারকদেরও বিচারক! সেই সূত্রানুসারে সমাজে আজও একটি কথা প্রচলন আছে, আল্লাহ ছাড় দেন কিন্তু কখনো-ই ছেড়ে দেন না। উনি অতি ধৈর্য্যশীল, তাই হয়তো মানুষকে শোধরানোর জন্য সময় দেন। কিন্তু না শোধরালে স্বীয় কৃতকর্ম অনুযায়ী প্রত্যেককে তাঁর ফল ভোগ করান। এটা পৃথিবী জন্মলগ্ন থেকেই কিন্তু আজও ইতিহাস সাক্ষী হয়ে আছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত কালের সাক্ষী হয়ে থাকবেন। তাই বলছি কোরআন হাদীসের সু-স্পষ্ট দলিল আমাদের মাঝে প্রতিনিয়ত বিরাজমান কিন্তু আমরা তা আমাদের বাস্তব জীবনে কাজে লাগাই না, এমনকি মানিও না। তবে আমরা সেটা না মেনেই কিন্তু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি। আর এজন্যই বলে, অহংকার পতনের মূল, যা আল্লাহ আবারও প্রমাণ দিলেন। কিন্তু কথায় আছে অহংকার মানুষকে এমনভাবে ধ্বংস করে যেভাবে আগুন কাঁঠকে পুড়িয়ে ধ্বংস করে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, কাঁঠ পুড়লেও ছাই কিন্তু অবশিষ্ট হয়ে পড়ে থাকে। আর মানুষ অহংকার বা হিংসার আগুনে পুড়ে ধ্বংস হলে তার কিন্তু কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

সর্বোপরি, এই বাংলার সকল সম্মানীত নাগরিকদের কাছে আমি প্রশ্ন রাখতে চাই। এই হাসিনা সরকারের পতন না হলে আজ যিনি এই বাংলাদেশের সকল নাগরিকের চাওয়া এবং পাওয়াকে সম্মান জানিয়ে সবার আবেগ’কে পূর্ণতা দিতে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের দ্বায়িত্ব না নিতো, তাহলে এই বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো? বা হাসিনা সরকারের পতন না হলে এই প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ইউনূস স্যারের শেষ অবস্থা আজ কি হতো? আপনাদের নিশ্চই মনে আছে, প্রায় দেড়শত মামলায় আসামী করে-ই কিন্তু ক্ষান্ত হয় নাই স্বৈরাচারী ঐ শাসকেরা। বলে রাখি স্যার মামলার হাজিরা দিতে গেলে লিফট পর্যন্ত বন্ধ করে দিতো এই স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার। স্যার বয়োজৈষ্ঠ্য মানুষ হওয়া সত্ত্বেও ছয় তালা সিড়ি বেয়ে হেটে উঠতে হতো। একটি মামলায় সাজা দিয়ে,এমনকি অপর একটি মামলায় উনি পতনের ঠিক আগের দিনও স্যার’কে বিশাল পরিমাণ একটা অ্যামাউন্ট জরিমানাও করা হয়েছে তাকে। কিন্তু হাসিনা সরকারের উদ্দেশ্যে আসলে কি ছিল …? আমার প্রশ্ন হলো একটা মানুষকে ঘায়েল করতে কয়টা মামলা লাগে? গলাবাজী করে মানুষের কাছ থেকে মানুষের ভালোবাসা থেকে কখনো আলাদা করা যায় না। তাই আমাদের সকলের মনে রাঁখা উচিত যে মানুষের কোনকিছুই চিরস্থায়ী নয়, সবকিছুই কিন্তু পরিবর্তনশীল। অতএব ক্ষমতা,সম্মান যিনি দান করেন সেটা সঠিক ভাবে কাজে না লাগিয়ে যদি অপব্যবহার করেন তাহলে আবার তাকে সমাজে টেনে হিচড়ে বেইজ্জতি করেন এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা’ও কেঁড়ে নেন। এটা স্বর্গীয় জিনিস, তবে তা কাচেঁর মতো, যা সতর্কতার সাথে ব্যবহার করলে যুগ যুগ ধরে নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যায়। এটার আলোকরশ্মী নিজেও যেমন ভোগ করা যায়, তেমনি তা অন্য মানুষের মাঝে ছড়ানো যায়। এর থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে যে, আমরা কেউই কারোর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক কোনো আচরন করবো না। কারণ, আমরা কেউই ভবিষ্যত সম্পর্কে অবগত নই। আজকে আমি ভালো আছি, কিন্তু কাল যে আমি বিপদে পড়বো না, অথবা কাল যে আমার উপর আল্লাহ পরীক্ষা চালাবেন না, তার কোন নিশ্চয়তা আমরা কেউই দিতে পারিনা। মনে রাখবেন, আলোর বিপরীতেই কিন্তু অন্ধকার, মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ মাত্র। আমাদের চরিত্র যেন এমন না হয় যে, আমরা কেউ বিপদে পড়েছি, আর অন্যরা তাঁর দুঃখের অংশীদার না হয়ে বরং মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে আনন্দ উল্লাস করি। মহান আল্লাহ পাক সকলকে হেফাজত করুক, আমিন।

আমার এই লেখাটুকু প্রফেসর ড.মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের সমীপে উৎসর্গ করলাম!

-লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’

ই-মেইল: srpiyas1975@gmail.com

ও ফেসবুক: www.fb.com/srpiyas