ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ১১ মে ২০২৬
কক্সবাজারে বিজিবি'র অভিযান,দুইশ'

আটারো কোটি টাকার মাদক-চোরাচালান জব্দ

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৩৬ বার পঠিত
শ.ম.গফুর,কক্সবাজার
গত এক বছবে কক্সবাজারের টেকনাফ ব্যাটালিয়ন(২বিজিবি)’র অভিযানে ২শত ১৮ কোটি টাকার মাদক-চোরাচালান জব্দ করেছে।
এছাড়া বছর জুড়ে উদ্ধার অভিযানে ৩শত ৮৭ জন অপহ্নত ব্যক্তি বন্দীশালা থেকে মুক্ত করেছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর)দুপুরে শুরু হওয়া টেকনাফে ২ বিজিবি’র ব্যাটালিয়ন সদর বিজিবি’র ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন’র অধিনায়ক লেফটেন্ট্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ। তাছাড়া বিজিবি-২’র অধিনায়কসহ অন্যান্য কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তা ও অন্য পদবীর সৈনিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।এসময় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যাটালিয়নের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও গত এক বছরের কার্যক্রম তুলে ধরেন।বিজিবি জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে অন্তহীন যুদ্ধে ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮- টানা তিন বছর ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি’ জয় করে গড়েছে অভূতপূর্ব কীর্তি। ক্রিস্টাল মেথ আইস ও ইয়াবার মতো মরণ বিষের বিরুদ্ধে নিরলস যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য শক্তি ‘টেকনাফ ব্যাটালিয়ন’র রয়েছে সাফল্যের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন  ১৭৯ জন আসামি গ্রেপ্তার করেছে, উদ্ধার করেছে ২.০৮৮০৩ কেজি স্বর্ণ, জব্দ করেছে ৪.২০৬ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, আটক করেছে ৫৭ লক্ষাধিক পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নিষ্ক্রিয় করেছে দেশি-বিদেশি অস্ত্র। এ তালিকায় রয়েছে এ-৩ রাইফেল, চারটি এলজি, চারটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি ওয়ান সুটার গান, আটটি রামদা, আটটি দেশীয় কিরিচ, দুটি একনলা বন্দুক,  চারটি চাকু, একটি চাপাতি ও একটি চাইনিজ কুড়াল।এছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে চারটি গ্রেনেড, একটি রকেট বোম্ব, ৬৬৭ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি কম্পাস, চারটি ম্যাগাজিন, একটি রকেট লাঞ্চারের গোলা, চারটি খালি ম্যাগাজিন, একটি প্লাস্টিকের ম্যাগাজিন, ৬৯টি হাত বোমা, ২.৯ কেজি বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি, একটি পিস্তলের গুলি, ছয়টি ওয়ান সুটার গানের গুলি ও  দুটি একনলা বন্দুকের গুলি।টেকনাফ ব্যাটালিয়ন বিগত এক বছরে ২১৮ কোটি ২৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালান জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। মিয়ানমারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ৩৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করেছে। গত এক বছরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন অপহরণকৃত ৩৮৭ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ৮৭ জন মানবপাচারকারীকে আটক করেছে। বিজিবির নিরলস প্রচেষ্টায় আরাকান আর্মির নিকট আটককৃত ১২৪ জন বাংলাদেশি জেলে, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ১৮টি নৌকা ও বিপুল পরিমাণ জাল ফেরত আনা হয়েছে।এছাড়াও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ৪৪০ জনকে শীতবস্ত্র বিতরণ, আটটি মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১ হাজার ৯৭ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে এবং বিভিন্ন সময়ে প্রান্তিক পর্যায়ে প্রায় এক হাজার অসহায় মানুষকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
লেফটেন্ট্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, সততা, আনুগত্য, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা-২ বিজিবি’র প্রতিটি সদস্যের মূল ভিত্তি। সীমান্ত সুরক্ষা, জাতীয় স্বার্থ ও মাদকবিরোধী যুদ্ধ- প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাটালিয়ন হয়ে উঠেছে জাতির গর্ব ও আস্থার প্রতীক। বিজিবির ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র ইউনিট হিসেবে অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করে ৩০ কিলোমিটার উপকূল এবং ২৩ কিলোমিটার সমুদ্রসীমা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে টেকনাফ বিজিবি। সীমান্তে অপরাধ দমনে বিজিবি’র নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান,বিজিবি’র এ কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কক্সবাজারে বিজিবি'র অভিযান,দুইশ'

আটারো কোটি টাকার মাদক-চোরাচালান জব্দ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
শ.ম.গফুর,কক্সবাজার
গত এক বছবে কক্সবাজারের টেকনাফ ব্যাটালিয়ন(২বিজিবি)’র অভিযানে ২শত ১৮ কোটি টাকার মাদক-চোরাচালান জব্দ করেছে।
এছাড়া বছর জুড়ে উদ্ধার অভিযানে ৩শত ৮৭ জন অপহ্নত ব্যক্তি বন্দীশালা থেকে মুক্ত করেছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর)দুপুরে শুরু হওয়া টেকনাফে ২ বিজিবি’র ব্যাটালিয়ন সদর বিজিবি’র ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন’র অধিনায়ক লেফটেন্ট্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ। তাছাড়া বিজিবি-২’র অধিনায়কসহ অন্যান্য কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তা ও অন্য পদবীর সৈনিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।এসময় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যাটালিয়নের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও গত এক বছরের কার্যক্রম তুলে ধরেন।বিজিবি জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে অন্তহীন যুদ্ধে ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮- টানা তিন বছর ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি’ জয় করে গড়েছে অভূতপূর্ব কীর্তি। ক্রিস্টাল মেথ আইস ও ইয়াবার মতো মরণ বিষের বিরুদ্ধে নিরলস যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য শক্তি ‘টেকনাফ ব্যাটালিয়ন’র রয়েছে সাফল্যের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন  ১৭৯ জন আসামি গ্রেপ্তার করেছে, উদ্ধার করেছে ২.০৮৮০৩ কেজি স্বর্ণ, জব্দ করেছে ৪.২০৬ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, আটক করেছে ৫৭ লক্ষাধিক পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নিষ্ক্রিয় করেছে দেশি-বিদেশি অস্ত্র। এ তালিকায় রয়েছে এ-৩ রাইফেল, চারটি এলজি, চারটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি ওয়ান সুটার গান, আটটি রামদা, আটটি দেশীয় কিরিচ, দুটি একনলা বন্দুক,  চারটি চাকু, একটি চাপাতি ও একটি চাইনিজ কুড়াল।এছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে চারটি গ্রেনেড, একটি রকেট বোম্ব, ৬৬৭ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি কম্পাস, চারটি ম্যাগাজিন, একটি রকেট লাঞ্চারের গোলা, চারটি খালি ম্যাগাজিন, একটি প্লাস্টিকের ম্যাগাজিন, ৬৯টি হাত বোমা, ২.৯ কেজি বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি, একটি পিস্তলের গুলি, ছয়টি ওয়ান সুটার গানের গুলি ও  দুটি একনলা বন্দুকের গুলি।টেকনাফ ব্যাটালিয়ন বিগত এক বছরে ২১৮ কোটি ২৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালান জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। মিয়ানমারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ৩৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করেছে। গত এক বছরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন অপহরণকৃত ৩৮৭ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ৮৭ জন মানবপাচারকারীকে আটক করেছে। বিজিবির নিরলস প্রচেষ্টায় আরাকান আর্মির নিকট আটককৃত ১২৪ জন বাংলাদেশি জেলে, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ১৮টি নৌকা ও বিপুল পরিমাণ জাল ফেরত আনা হয়েছে।এছাড়াও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ৪৪০ জনকে শীতবস্ত্র বিতরণ, আটটি মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১ হাজার ৯৭ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে এবং বিভিন্ন সময়ে প্রান্তিক পর্যায়ে প্রায় এক হাজার অসহায় মানুষকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
লেফটেন্ট্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, সততা, আনুগত্য, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা-২ বিজিবি’র প্রতিটি সদস্যের মূল ভিত্তি। সীমান্ত সুরক্ষা, জাতীয় স্বার্থ ও মাদকবিরোধী যুদ্ধ- প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাটালিয়ন হয়ে উঠেছে জাতির গর্ব ও আস্থার প্রতীক। বিজিবির ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র ইউনিট হিসেবে অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন করে ৩০ কিলোমিটার উপকূল এবং ২৩ কিলোমিটার সমুদ্রসীমা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে টেকনাফ বিজিবি। সীমান্তে অপরাধ দমনে বিজিবি’র নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান,বিজিবি’র এ কর্মকর্তা।