রাজ্জাক বিশ্বাস, কুষ্টিয়া: টানা দুই মাস ধরে বেতন না পেয়ে তীব্র আর্থিক সংকট ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) থোক বরাদ্দ কর্মচারী ও ডে-লেবাররা।
গত জুন ও জুলাই মাসের পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে; পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসে থোক ভিত্তিতে কর্মরত ৫৩ জন কর্মচারীর পারিশ্রমিক পুনর্নির্ধারণে অনুমোদন দেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নন-টেকনিক্যাল কর্মচারীদের বেতন: ১০,০০০ টাকা,টেকনিক্যাল কর্মচারীদের বেতন: ১১,০০০ টাকা
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট ৬২ জন থোক বরাদ্দ কর্মচারী কর্মরত আছেন।
সিন্ডিকেটের স্পষ্ট অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও গত দুই মাস ধরে তাদের অ্যাকাউন্টে কোনো বেতন পৌঁছেনি। ফলে দুই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তাদের সর্বমোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দফতরে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত চলাকালীন সময় সত্ত্বেও কর্মচারীরা তাদের আগের নিয়মেই স্বাভাবিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সেবা দিলেও মিলছে না তাদের প্রাপ্য সম্মানানি।
বেতন না পাওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হচ্ছে— “রাজস্ব খাত থেকে টাকা আসেনি”। এই এক অজুহাতে থমকে গেছে কর্মচারীদের পরিবার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী কর্মচারী জানান, “আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি, কিন্তু দুই মাস ধরে ঘরে কোনো টাকা নিয়ে যেতে পারছি না।
দোকান বাকি, বাসার খরচ, সন্তানের লেখাপড়া—সব মিলিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। অনতিবিলম্বে আমাদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও রাজস্ব ছাড়ের জটিলতা দ্রুত নিরসন করে কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

রাজ্জাক বিশ্বাস, কুষ্টিয়া 
















