রাজ্জাক বিশ্বাস কুষ্টিয়া :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের ছাত্রীদের গোপন ছবি তুলে প্রবাসে পাঠানোর ঘটনায় ক্যাম্পাসে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তোবাউল জান্নাতী ঐশীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে প্রক্টরিয়াল বডি এবং ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর সরাসরি দায় স্বীকার করে মুখ খুলেছেন অভিযুক্ত তোবাউল জান্নাতী ঐশী। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও অনুসন্ধানে তার একের পর এক একাধিক প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত ছাত্রী শুধু বাংলাদেশেই নয়, লন্ডনপ্রবাসী প্রেমিকের কাছ থেকেও নিয়মিত বিকাশের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করতেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসী প্রেমিক হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিকদের জানান, “আমার সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। বিয়ের কথা বলে সে যা চেয়েছে, আমি তা-ই দিয়েছি। এ পর্যন্ত প্রায় লাখ টাকার কাছাকাছি পাঠিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। গোপন ছবি পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কোনো ছবি পাঠাতে বলিনি, সে নিজেই বানিয়ে বা নিজ উদ্যোগে রুমমেট এমনকি নিজের খালাতো বোনের ছবিও পাঠাত।”
রুমমেট ও বান্ধবীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ছাত্রী নিজে বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে তাদের সবাইকে বিপদে ফেলছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক বান্ধবী জানান, “সে প্রবাসীদের পাশাপাশি একাধিক প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।
কুষ্টিয়ার বিলাসবহুল ‘দিশা টাওয়ার’-এ প্রেমিকের সাথে ডেটিংয়ে যেত। প্রবাসীদের কাছ থেকে রাইস কুকার কেনার কথা বলেও টাকা নিয়েছে। এমনকি রুমে থাকার সময়ও কারেন্ট নেই বলে প্রেমিকের কাছে মিথ্যে অজুহাত দিত। মূলত অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে প্রবাসী প্রেমিকের টাকায় চলত সে।”
অভিযোগের বিষয়ে তোবাউল জান্নাতী ঐশী বলেন, “ছেলেটি আমাকে খুশি করার জন্যই কিছু উপহার ও টাকা দিয়েছিল।
পরবর্তীতে সে বান্ধবীদের কাছে দাবি করে যে আমার পেছনে অনেক টাকা খরচ করেছে। সে দেশে আসার পর কুষ্টিয়ার দিশা টাওয়ারে আমাদের দেখা হয়।
তখন আমার রুমের বান্ধবীরা খুব উচ্ছ্বসিত ছিল এবং সেখানে আমার আরেকজন ছেলে বন্ধুও উপস্থিত ছিল। বান্ধবীরা আমাকে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু আমি বলেছিলাম এই মুহূর্তে বিয়ে করব না, তবে পরিবারে কথা বলব, কারণ তাকে আমার পছন্দ হয়েছিল।”
হল ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা হওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 
















