ঢাকা, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
ছয় মাসে অনেক খেয়েছেন " দলটাও খেয়ে ফেলবেন"

ক্ষুব্ধ বিএনপি এমপি জামালের ফেসবুক পোস্টে ঝালকাঠিতে তোলপাড়

আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:   ঝালকাঠিতে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, আওয়ামী লীগের নেতাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। তাঁর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, “ঝালকাঠির বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের খাই খাই বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছি। ছয় মাসে অনেক খেয়েছেন—আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাহারার বিনিময়ে খেয়েছেন, আওয়ামীদের পক্ষে ওকালতি করে খেয়েছেন, আওয়ামীদের বাড়িঘর পাহারা দিয়ে খেয়েছেন, ঠিকাদারি পাহারা দিয়ে খেয়েছেন।”
একই পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “শেষ পর্যন্ত টাকার বিনিময়ে আওয়ামীদের দলে যোগদান করিয়েও খাচ্ছেন। মনে হয় দলটা খেয়ে ফেলবেন।”
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, “লজ্জা থাকা উচিত—যাদের রক্তের বিনিময়ে আপনাদের এত খাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সেই ‘৩৬ জুলাই’ শহীদদের জন্য ৫ আগস্ট একটু দোয়া-মোনাজাত করতে পারেননি। শুধু নেতা হতে পদ চাই; খুব দ্রুতই দল থেকে ঝরে পড়বেন।”
সংসদ সদস্যের এই মন্তব্যের পর ঝালকাঠি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভিন্ন অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সম্প্রতি কীর্তিপাশা এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তিনি প্রকাশ্যে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার ঠিকাদারি কাজ বিএনপির পদধারী কিছু নেতা তদারকি করছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক মামলায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মামলা পরিচালনার বিষয়টিও দলীয় ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে জেলা পরিষদের ৪১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প সাময়িক স্থগিত হওয়ার ঘটনাও স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধকে আরও উসকে দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঝালকাঠির দুই সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় না করেই জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেন প্রকল্পগুলোর অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠান।
পরে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ঝালকাঠি-২  আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা এলেন পৃথক ডিও লেটারের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাতিলের অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রকল্পগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
রফিকুল ইসলাম জামালের এই প্রকাশ্য মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয়

ইশারা ভাষার স্বীকৃতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের আহ্বান

22 September 2026

মুরাদনগরে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলের প্রস্তুতি, গ্রেপ্তার-১৩

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

ছয় মাসে অনেক খেয়েছেন " দলটাও খেয়ে ফেলবেন"

ক্ষুব্ধ বিএনপি এমপি জামালের ফেসবুক পোস্টে ঝালকাঠিতে তোলপাড়

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১২:২৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:   ঝালকাঠিতে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, আওয়ামী লীগের নেতাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। তাঁর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, “ঝালকাঠির বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের খাই খাই বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছি। ছয় মাসে অনেক খেয়েছেন—আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাহারার বিনিময়ে খেয়েছেন, আওয়ামীদের পক্ষে ওকালতি করে খেয়েছেন, আওয়ামীদের বাড়িঘর পাহারা দিয়ে খেয়েছেন, ঠিকাদারি পাহারা দিয়ে খেয়েছেন।”
একই পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “শেষ পর্যন্ত টাকার বিনিময়ে আওয়ামীদের দলে যোগদান করিয়েও খাচ্ছেন। মনে হয় দলটা খেয়ে ফেলবেন।”
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, “লজ্জা থাকা উচিত—যাদের রক্তের বিনিময়ে আপনাদের এত খাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সেই ‘৩৬ জুলাই’ শহীদদের জন্য ৫ আগস্ট একটু দোয়া-মোনাজাত করতে পারেননি। শুধু নেতা হতে পদ চাই; খুব দ্রুতই দল থেকে ঝরে পড়বেন।”
সংসদ সদস্যের এই মন্তব্যের পর ঝালকাঠি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভিন্ন অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সম্প্রতি কীর্তিপাশা এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তিনি প্রকাশ্যে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার ঠিকাদারি কাজ বিএনপির পদধারী কিছু নেতা তদারকি করছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক মামলায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মামলা পরিচালনার বিষয়টিও দলীয় ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে জেলা পরিষদের ৪১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প সাময়িক স্থগিত হওয়ার ঘটনাও স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধকে আরও উসকে দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঝালকাঠির দুই সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় না করেই জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেন প্রকল্পগুলোর অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠান।
পরে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ঝালকাঠি-২  আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা এলেন পৃথক ডিও লেটারের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাতিলের অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রকল্পগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
রফিকুল ইসলাম জামালের এই প্রকাশ্য মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Share this news as a Photo Card