ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
জেলার বিভিন্ন নদী থেকে এক বছরে প্রায় অর্ধ শতাধিক লাশ উদ্ধার!

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৪৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৮০ বার পঠিত

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো: খুলনায় এক বছরে বিভিন্ন নদী থেকে অর্ধ শতাধিক লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও কোস্ট গার্ড। অব্যাহত রয়েছে খুনের মতো জঘন্য ঘটনা, প্রতিদিনই জেলার কোথাও না কোথাও হচ্ছে খুন। খুলনা নগরের বিভিন্ন মহলের অভিযোগ সারা দেশ জুড়ে এক সময়কার নিষিদ্ধ ঘোষিত আন্ডার ওয়ার্ল্ডের সদস্যরা দীর্ঘদিন জেলবন্দি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে তারা এখন খুনের রাজত্ব কায়েম করে আধিপত্য বিস্তার করছে তার মধ্যে অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে খুলনা।
আধিপত্য বিস্তার চাঁদাবাজি দখলদারি প্রেম ঘটিত মাদক বেচাকিনা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে খুনের মতন জঘন্যতম ঘটনা।
আর এ সকল ঘটনায় প্রশাসন রয়েছে একেবারে নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় আর এসকল জঘন্য অপরাধ কর্ম কান্ডর সাথে জড়িত আসামিরা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ালেও তাদের আইনের আওতায় আনতে অক্ষমতা প্রশাসনের, এবিষয়ে নাগরিক সমাজের এমনও অভিযোগ রয়েছে আসামিদের সাথে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একই টেবিলে চা সিগারেটের আড্ডায় মিলিত হচ্ছে ।
ফলে সন্ত্রাসীরা থেকে যাচ্ছে আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে ফলে প্রশাসনের প্রতি আস্তা হারাচ্ছে ভুক্তভোগী জনগণ।
তবে যারা খুন হচ্ছে তারা অধিকাংশই মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য যাদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে।
এবং পাশাপাশি চাঁদাবাজদের লালসায় শিকার হয়ে জীবন দিতে হয়েছে বেশ কিছু নিরপরাধ নিরীহ ব্যবসায়ীদের এবং বেশ কিছু ব্যবসায়ী মোটা অংক চাঁদা দাবির করার কারণে জানমালের ভয়ে রাতারাতি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে অধিকাংশ মৃত্যুর লাশ খুলনার কয়েকটি নদী ও খাল থেকে উদ্ধার হওয়ার তথ্য পুলিশ ও কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে
সূত্রটি আরো জানিয়েছে গত এক বছরে ৪৮ টি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ৩০ টি শনাক্ত এবং বাকী গুলো অশনাক্ত রয়েছে। লাশ উদ্ধার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ১৪ টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮ জন নারী, ৩৩ জন পুরুষ এবং ৭ টি শিশুর মরদেহ রয়েছে। এদের মধ্যে ৩০ টি শনাক্ত করা গেলেও বাকী ১৮ টি মরদেহের টিস্যু পচে যাওয়ার কারণে তাদেরকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
নৌ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খুলনার বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে জানুয়ারি মাসে ১ টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ২ টি, মার্চ মাসে ৪ টি, এপ্রিল মাসে ৩ টি, মে মাসে ৬ টি, জুন মাসে ৬ টি, জুলাই মাসে ৩ টি, আগস্ট মাসে ৮ টি, সেপ্টেম্বরে ৬ টি, অক্টোবরে ৩ টি, নভেম্বরে ৪ টি এবং ডিসেম্বরে ২ টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খুলনা নৌ পুলিশ সুপার ডা. মুহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা ও পিরোজপুর নিয়ে নৌ পুলিশ খুলনা অঞ্চল গঠিত। গত এক বছরে নদী থেকে উদ্ধারকৃত ঘটনায় ১৪ টি হত্যা মামলা, ২৬ টি অপমৃত্যু এবং মামলা ছাড়া ৮ টি মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। ১৪ টি হত্যা মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এখানকার পানি নোনা, ড্যাম ও বৃষ্টিতে লাশগুলে দ্রুত পচে যায়। ৩ দিনের বেশি হলে টিস্যুগুলো পচে গেলে তার পরিচয় শনাক্ত করা আর কঠিন হয়ে পড়ে। জোয়ার ভাটায় বিভিন্ন এলাকা থেকে লাশগুলো ভেসে আসে। সেক্ষেত্রে লাশ উদ্ধারের পর আমরা সারা দেশে খবর পাঠিয়ে দেই।”
তিনি আরও বলেন, কখনো কখনো ১-২ দিনের নবজাতক শিশুর লাশও পাওয়া যায়। পুলিশের মধ্যে একটি চর্চা আছে, এগুলোকে তারা হত্যা মামলা হিসেবে নেয় না। অথচ শিশু তো হেঁটে আসেনি। তাকে কেউ না কেউ ফেলে যায়। তাই শিশুদের মরদেহগুলো শনাক্ত করা যায় না। তবে এগুলো আমরা হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করি।


















