ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

তারেক রহমানের আগমনী বার্তায় নগর জুড়ে উৎসবমুখর আয়োজন!  

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২৬ বার পঠিত
বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো: ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন ও নানান প্রতিকূলতার ঘাত প্রতিঘাতের চড়াই উতরাই পেরিয়ে অবশেষে খুলনার জনমানুষের আশা আখাংকার প্রতিফলন হিসেবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২২ বছর পর খুলনায় আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই খবরে খুলনার রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নগরজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আবেগ, উৎসাহ ও উদ্দীপনার ঢেউ। শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি, যেন বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। খুলনা মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামী ০২ ফেব্রুয়ারি খুলনায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর খুলনার মাটিতে এটি হবে তার সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচি-যা ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিশেষ আবেগ ও প্রত্যাশা।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন জানান, ০২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ১০টায় খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে জনসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে খুলনা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী আলি আসগর লবিসহ মহানগর ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর, জেলা এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এই জনসমাবেশকে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ নির্বাচনী সমাবেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রচারণা কার্যক্রম নিয়ে ধারাবাহিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, তারেক রহমানের খুলনা আগমন শুধু একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়-এটি আমাদের জন্য একটি রাজনৈতিক বার্তা, আত্মবিশ্বাস ও মনোবল ফিরে পাওয়ার উপলক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের জন্য এই সফর নতুন প্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।
খুলনা মহানগর বিএনপির এক সিনিয়র নেতা আবেগভরে বলেন, দীর্ঘ ২২ বছর পর আমাদের প্রিয় নেতা খুলনায় আসছেন-এটা শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, আমাদের আবেগের বিষয়। খুলনা ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা জনসমর্থনের শক্ত বার্তা দিতে চাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে তারেক রহমানের খুলনা সফর বিএনপির নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলে দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন ও ভোটারদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টিতে এই জনসমাবেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের এই সফর খুলনার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, দলীয় সুত্র জানিয়েছে এরআগে ২০০৪ সালে তারেক রহমান খুলনায় এসেছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

তারেক রহমানের আগমনী বার্তায় নগর জুড়ে উৎসবমুখর আয়োজন!  

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৬:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো: ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন ও নানান প্রতিকূলতার ঘাত প্রতিঘাতের চড়াই উতরাই পেরিয়ে অবশেষে খুলনার জনমানুষের আশা আখাংকার প্রতিফলন হিসেবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২২ বছর পর খুলনায় আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই খবরে খুলনার রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নগরজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আবেগ, উৎসাহ ও উদ্দীপনার ঢেউ। শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি, যেন বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। খুলনা মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামী ০২ ফেব্রুয়ারি খুলনায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর খুলনার মাটিতে এটি হবে তার সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচি-যা ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিশেষ আবেগ ও প্রত্যাশা।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন জানান, ০২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ১০টায় খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে জনসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে খুলনা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী আলি আসগর লবিসহ মহানগর ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর, জেলা এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এই জনসমাবেশকে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ নির্বাচনী সমাবেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রচারণা কার্যক্রম নিয়ে ধারাবাহিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, তারেক রহমানের খুলনা আগমন শুধু একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়-এটি আমাদের জন্য একটি রাজনৈতিক বার্তা, আত্মবিশ্বাস ও মনোবল ফিরে পাওয়ার উপলক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের জন্য এই সফর নতুন প্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।
খুলনা মহানগর বিএনপির এক সিনিয়র নেতা আবেগভরে বলেন, দীর্ঘ ২২ বছর পর আমাদের প্রিয় নেতা খুলনায় আসছেন-এটা শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, আমাদের আবেগের বিষয়। খুলনা ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। এই সমাবেশের মাধ্যমে আমরা জনসমর্থনের শক্ত বার্তা দিতে চাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে তারেক রহমানের খুলনা সফর বিএনপির নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলে দলের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন ও ভোটারদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টিতে এই জনসমাবেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের এই সফর খুলনার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, দলীয় সুত্র জানিয়েছে এরআগে ২০০৪ সালে তারেক রহমান খুলনায় এসেছিলেন।