ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ১১ মে ২০২৬

দেবিদ্বারে স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে কৃষকের জমি দখল ও ১৭৫টি গাছ কাটার অভিযোগ

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:২৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৯৩ বার পঠিত
এম.জে.এ মামুন:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে এক কৃষকের ২০ শতাংশ পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল ও বনায়নকৃত ১৭৫টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী কৃষক হাবিবুর রহমান।
অভিযোগে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের জন্য জমি দিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। তাতে রাজি না হওয়ায় ৯ সেপ্টেম্বর তার বাগানের প্রায় ২৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়। পরে গত ২৫ অক্টোবর আবারও রাতের আঁধারে প্রায় ১৬০টি গাছ কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও হুমকি-ধামকি অব্যাহত থাকায় পরিবারসহ গ্রাম ছেড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কয়লা ব্যবসায়ী মো. শাহনেওয়াজ শাহীন দাবি করেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিতে তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। কয়েকজনের সম্মতিতে জমি নির্ধারণের সময় রাস্তা তৈরি করতে গিয়ে কিছু গাছ কাটা হয়েছে মাত্র। তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোরও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে ভুক্তভোগীর আত্মীয় মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা বললেও আসল উদ্দেশ্য খাসজমি দখল ও মাছের প্রজেক্ট করা। কারণ আশপাশের অর্ধ কিলোমিটার এলাকায় ইতোমধ্যে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন — বাবুল মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, নজরুল ইসলাম ও শরীফ হোসেন বলেন, ৯৯ শতাংশ জমির মধ্যে ২২ শতাংশ খাস ও ৭৭ শতাংশ মালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে স্কুল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। হাবিবুর রহমানের জমির বিনিময়ে তাকে আরও ১৭ শতাংশ জমি দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে আগামী ৩০ অক্টোবর থানায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন রুহুল বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি তদন্তে এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। উভয় পক্ষকে আগামী শুক্রবার থানায় ডাকা হয়েছে। সমাধান না হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

দেবিদ্বারে স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে কৃষকের জমি দখল ও ১৭৫টি গাছ কাটার অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১০:২৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
এম.জে.এ মামুন:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে এক কৃষকের ২০ শতাংশ পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল ও বনায়নকৃত ১৭৫টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী কৃষক হাবিবুর রহমান।
অভিযোগে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের জন্য জমি দিতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। তাতে রাজি না হওয়ায় ৯ সেপ্টেম্বর তার বাগানের প্রায় ২৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়। পরে গত ২৫ অক্টোবর আবারও রাতের আঁধারে প্রায় ১৬০টি গাছ কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও হুমকি-ধামকি অব্যাহত থাকায় পরিবারসহ গ্রাম ছেড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কয়লা ব্যবসায়ী মো. শাহনেওয়াজ শাহীন দাবি করেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিতে তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন। কয়েকজনের সম্মতিতে জমি নির্ধারণের সময় রাস্তা তৈরি করতে গিয়ে কিছু গাছ কাটা হয়েছে মাত্র। তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোরও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে ভুক্তভোগীর আত্মীয় মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা বললেও আসল উদ্দেশ্য খাসজমি দখল ও মাছের প্রজেক্ট করা। কারণ আশপাশের অর্ধ কিলোমিটার এলাকায় ইতোমধ্যে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন — বাবুল মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, নজরুল ইসলাম ও শরীফ হোসেন বলেন, ৯৯ শতাংশ জমির মধ্যে ২২ শতাংশ খাস ও ৭৭ শতাংশ মালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে স্কুল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। হাবিবুর রহমানের জমির বিনিময়ে তাকে আরও ১৭ শতাংশ জমি দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে আগামী ৩০ অক্টোবর থানায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন রুহুল বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি তদন্তে এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। উভয় পক্ষকে আগামী শুক্রবার থানায় ডাকা হয়েছে। সমাধান না হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।