ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
চরম সংকটের মধ্য ভোক্তারা!
দ্বিগুন দামেও পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি গ্যাস!

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৯৫ বার পঠিত

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো: একদিকে যেমন দ্রব্যমূল্য যাঁতাকলেপৃষ্ঠ হচ্ছে জনগণ অপরদিকে আবার খুলনায় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে এলপিজি গ্যাস সংকট। সরকার কর ও ভ্যাট কমানো এবং ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে খুচরা বাজারে গ্যাসের দেখা মিলছে না।
কোথাও কোথাও আবার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির বসুন্ধারা, আই গ্যাস, যমুনা ও সান ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দোকানের সামনে সারি সারি খালি সিলিন্ডার পড়ে থাকলেও ভরা সিলিন্ডার নেই—গ্যাসের জন্য যেন হাহাকার বিরাজ করছে। আজ বৃহসতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীর দৌলতপুর, ফুলবাড়ীগেট, রায়পাড়া রোড, পশ্চিম বানিয়াখামার, চিত্রালী বাজার, নিউমার্কেট, বয়রা বাজার, গোয়ালখালিসহ একাধিক এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। দ্বিগুণ দাম দিয়েও গ্যাস মিলছে না খুচরা দোকানিদের ভাষ্য, কোথাও অল্পসংখ্যক সিলিন্ডার এলেও তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০–৪০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
কোথাও আবার ৫০০ টাকারও বেশি নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক গ্রাহক দ্বিগুণ দাম দিয়েও গ্যাস না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। হোটেল-চা দোকানি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি এলপিজি সংকটে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন হোটেল-রেস্টুরেন্ট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও চা দোকানিরা। রান্নার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে কেরোসিন ব্যবহার করছেন। গল্লামারি এলাকার চা দোকান টান্ডা ইসলাম বলেন,
৩০০–৪০০ টাকা বেশি দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। কেরোসিন জ্বালিয়ে কোনোমতে কাজ চালাচ্ছি।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. ফয়সাল বলেন,
গ্যাস না থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সমাধান চাই।
ডিলার-খুচরা বিক্রেতাদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলাররা নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ না করায় তারা বিক্রি করতে পারছেন না। অন্যদিকে ডিলারদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ডিপো থেকেই কয়েকদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
তবে অনেক খুচরা ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ডিপোতে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও অধিক মুনাফার আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর তদারকি নেই বলে তারা অভিযোগ করেন। আরিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক আরিফ শিকারী বলেন,
আগে সপ্তাহে এক-দুইবার গ্যাস পেতাম। এখন কয়েকদিন ধরে একেবারেই পাচ্ছি না। গ্রাহকরা এসে ফিরে যাচ্ছেন, অনেক সময় আমাদের দোষ দিচ্ছেন।
ভোক্তাদের প্রশ্ন: দায় কার।
গৃহিণী নাসিমা আক্তার বলেন,
১ হাজার ২৫৩ টাকার গ্যাস এখন ১৬–১৭শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর দায় কার?”
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে কখনো কখনো ১ হাজার ৪৫০–১ হাজার ৫০০ টাকায় গ্যাস কিনে সার্ভিস চার্জসহ ১ হাজার ৬০০–১ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
কোম্পানি থেকে সরবরাহ নেই: দাবি ডিলারদের
ফুলবাড়ীগেট এলাকার বেক্সিমকোর ডিলার সোহেল রাসেল বলেন,
“কোম্পানি থেকে গ্যাস পাচ্ছি না। সরবরাহ না থাকায় বিক্রি বন্ধ। নিউমার্কেট এলাকার বিএম এলপি গ্যাসের বিক্রেতা সাজ্জাদ বলেন,
“গ্রাহকদের চাপ থাকলেও কোম্পানি থেকে গ্যাস না পেলে আমাদের কিছু করার নেই।
এটা পুরোপুরি সিন্ডিকেটের খেলা’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), খুলনার সভাপতি সাজমুল আজম ডেভিড বলেন,
এটা সম্পূর্ণ সিন্ডিকেটের কারসাজি। আমদানিতে সমস্যা থাকলে আগেই জানানোর কথা। ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান এড়াতে দোকান বন্ধ, পালিয়ে যাওয়া বা ধর্মঘট ডাকা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।
এদিকে সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ কবে কাটবে সংকট
সরকারি সিদ্ধান্ত, ব্যবসায়ীদের ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা—সব মিলিয়ে খুলনায় এলপিজি সংকট এখনো কাটেনি। দ্রুত কার্যকর তদারকি ও সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা


















