রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী: পদ্মা ও যমুনায় প্রকাশ্যে চলছে চাঁদাবাজি,ছিনতাই ও ডাকাতির মত লোমহর্ষক ঘটনা। এতে প্রতিদিন লুট হচ্ছে নৌযান চালক,মালিক ও শ্রমিকের লাখ লাখ টাকা। মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও সিরাজগঞ্জের উপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা ও যমুনা নদীর পাটুরিয়া,আরিচা ও হরিরামপুর পয়েন্টে চলাচলরত বালুবাহী বাল্বগেট’কে টার্গেট করে একটি সংবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এমন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগের তীর বিআইডব্লিউটিএ এর বিরুদ্ধে।
নৌযান শ্রমিকেরা বলছেন, একটি সংবদ্ধ চক্রের প্রায় ৫০ জন অস্ত্রধারী সদস্য দিবারাত্রি ১০ থেকে ১২ টি ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে নৌচ্যানেল চার্জের কথিত সাইনবোর্ড লাগিয়ে বালুবাহী বাল্গগেট সহ সকল ধরনের নৌযান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা লুট করছে। তাদের দাবী, এদের নেই কোন বৈধ কাগজপত্র, ইজারা নীতি, সীমানা নির্ধারণ ও অর্থ আদায়ের বৈধতা। শুধু অস্ত্রের মুখে নৌযান শ্রমিকদের জিম্মি করে নিজের ইচ্ছে মত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন চক্রটি।
এনিয়ে ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল সহ নানা কর্মসুচি পালন করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধান বলছে, এই চক্রটি সর্বহারা লাল পতাকা বাহিনীর কথিত নামধারী সদস্য। এরা নানা অপকর্ম করে নদীতে গিয়ে নৌকায় ভাঁসমান বসতি তৈরী করেছে। আর লুটের টাকায় প্রত্যেকে বোনে গেছেন কোটিপতি। এরা প্রত্যেকেই
হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এদের অত্যাচার ও নির্যাতনে এক সময়ের নিরাপদ নৌপথ, এখন আতঙ্কে পরিনত হয়েছে। মাঝে মাঝেই এদের গুলিতে নৌশ্রমিক মারা যাচ্ছে। বেশকিছু দিন আগে তেওতা বালু মহলের ম্যানেজার এদের চাঁদা নেওয়ার কাজে বাঁধা সৃষ্টি করলে তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মামলা হলেও আজও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। অদৃশ্য কারণে পুলিশ কাউকে ধরার চেষ্টাও করেনি।
অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের সাথে জরিত রয়েছে বিআইডব্লিউটিএ, কথিত রাজনীতিবিদ ও স্থানীয় প্রশানের অসাধু ব্যক্তিরা। এদের দৈনিক,সাপ্তাহিক ও মাসিক মাসোহারা দিয়ে চলে এমন অপকর্ম।
নৌযান শ্রমিক নেতারা দাবী করেন, দৌলতদিয়া থেকে পাকশি পর্যন্ত সরকারী গেজেট ভুক্ত একটি বৈধ চ্যানেল রয়েছে।
এই চ্যানেল দিয়ে চলাচলকারী নৌযানকে চ্যানেল চার্জ দিতে হয়। উল্লেখিত চ্যানেল এর আওতা মুক্ত নৌপথে চলাচলের জন্য কোন নৌযানকে বিগত সময়ে কোন চার্জ বা টাকা দিতে হয়নি।
এর বাহিরে যমুনা ও হরিরামপুরে নতুন করে গেজেট ভুক্ত কোন চ্যানেল দেওয়ায় হয়েছে কিনা? সে ব্যাপারে নির্ভর যোগ্য সুত্র বা বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তাদের কোন তথ্য জানানো হয়নি। অথচ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি সংবদ্ধ চক্রটি চ্যানেল চার্জের নামে পুরো নদী দখল করে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতি করছে।
বাল্বগেট শ্রমিক,চালক ও মালিকেরা বলছেন, চলন্ত পথে নৌযান থেকে কোন অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। এরা প্রতিটি নৌযান থেকে অবৈধ ভাবে ৩০০০ থেকে ১০,০০০ পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে। চাঁদার টাকা না দিলে অস্ত্র ঠেকিয়ে নৌযানে যা পাচ্ছে তাই লুটে নিয়ে যায় । করছে গাঁলাগাঁলি ও মারধর। আমরা প্রাণের ভয়ে তাদের কিছু বলতে পারি না। তাদের দাবী, এদের সাথে বিআইডব্লিউটিএ জরিত আছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বিষয়টা তাদেরকে বারবার অবগত করা হলেও, তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
তবে ভিন্নকথা বলছে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের পোর্ট অফিসার সুব্রত রায়। তিনি দাবী করেন নৌপথে কোন চাঁদাবাজি হচ্ছে না। ওরা নিয়ম অনুসারে চ্যানেল চার্জ আদায় করছে। এছাড়াও, ইজারা’র বাহিরে যদি কেউ অবৈধ ভাবে টাকা আদায় বা চাঁদাবাজি,ছিনতাই ও ডাকাতি করে তাদের বিরুদ্ধে নৌপুলিশ ব্যবস্থা নিবে। এর কোন দায়ভার বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ নেবে না। প্রশ্ন করা হয়েছিলো চ্যালেন চার্জ আদায়ের নিদিষ্ট কোন এলাকা নির্ধারণ করা আছে কি?না জানতে চাইলে, আরেকটা কল এসেছে বলে ফোনটা কেটে দেন এই কর্মকর্তা। পরে আবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেনি।
এবিষয়ে নৌপুলিশের ফরিদপুর অঞ্চলের নৌপুলিশ সুপার মোঃ বরিউল ইসলাম বলেন, নৌপথে চ্যানেল চার্জের নামে কেউ চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতির মত ঘটনার সাথে জরিত থাকলে, সে যেই হোক তাকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। নৌপুলিশ কঠোর হাতে তা দমন করবে।
নৌপথ নিরাপদ ও চাঁদাবাজ মুক্ত করতে নৌযান শ্রমিকেরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারী দিয়েছেন তারা।

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী 


















