ঢাকা, বাংলাদেশ। , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস তাণ্ডব, নগরীতে এক সপ্তাহে তিন খুন!

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:২৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫১ বার পঠিত
 বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো: এক দিককে খুলনা নগরজুড়ে চলছে নির্বাচনের ক্রান্তিলগ্নে শেষ প্রচারণা অপরদিকে সন্ত্রাসীরা  মেতে উঠেছে খুনখারাবি চাঁদাবাজি দখলদারি নিয়ে
নগরীতে হঠাৎ করেই সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে গুলিতে এক যুবক নিহত, এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, চাঁদা না পেয়ে দোকান লুট এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলিবর্ষণের মতো একাধিক ঘটনায় নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উদ্বেগজনক হলেও এসব ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, উদ্ধার হয়নি ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর মধ্যম হরিণটানা এলাকার শিশু বাগান সংলগ্ন একটি স্যালুনে বসে ছিলেন যুবক রাকিব হোসেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দুই যুবক তাঁকে স্যালুন থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে এনে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, এমনকি এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
এ ঘটনায় লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ উজ জামান জানান, ঘটনাস্থলের পাশের আশি বিঘা এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নিহত রাকিব ও হামলাকারীরা ওই চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
অপরদিকে, একই দিনে বিকেলে চাঁদার দাবিতে খুলনার শেখপাড়া লোহাপট্টি এলাকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। পরদিন শুক্রবার সকালে সেই তালা ভেঙে দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। ঘটনার বিষয়টি পুলিশকে জানানোয় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা নগরীর নবীনগর এলাকায় ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে পুরো শেখপাড়া ও নবীনগর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গুলিবর্ষণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, সর্বশেষ শুক্রবার রাতে খুলনা নগরীর রেলওয়ে হাসপাতাল রোডসংলগ্ন মার্কেট এলাকায় বাবুল মোল্লা (৭৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনাতেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। খুলনা সদর থানার ওসি কবির হোসেন জানান, এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা নয়; বরং তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে, এতে বৃদ্ধ মারা যান। আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের পর দ্রুত গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে নিহত বাবুল মোল্লার মেয়ে রিমি বেগমের অভিযোগ ভিন্ন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী নাসু, গামা ও সাব্বির এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারাই তাঁর বাবাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মাদ জাহিদুল হাসান বলেন, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন এবং এর মাধ্যমে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে—এমনটি বলার সুযোগ নেই। প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে খুলনা নগরীতে মোট ৩৬টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ২৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাস তাণ্ডব, নগরীতে এক সপ্তাহে তিন খুন!

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:২৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
 বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো: এক দিককে খুলনা নগরজুড়ে চলছে নির্বাচনের ক্রান্তিলগ্নে শেষ প্রচারণা অপরদিকে সন্ত্রাসীরা  মেতে উঠেছে খুনখারাবি চাঁদাবাজি দখলদারি নিয়ে
নগরীতে হঠাৎ করেই সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে গুলিতে এক যুবক নিহত, এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, চাঁদা না পেয়ে দোকান লুট এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলিবর্ষণের মতো একাধিক ঘটনায় নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উদ্বেগজনক হলেও এসব ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, উদ্ধার হয়নি ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর মধ্যম হরিণটানা এলাকার শিশু বাগান সংলগ্ন একটি স্যালুনে বসে ছিলেন যুবক রাকিব হোসেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দুই যুবক তাঁকে স্যালুন থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে এনে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, এমনকি এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
এ ঘটনায় লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ উজ জামান জানান, ঘটনাস্থলের পাশের আশি বিঘা এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নিহত রাকিব ও হামলাকারীরা ওই চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
অপরদিকে, একই দিনে বিকেলে চাঁদার দাবিতে খুলনার শেখপাড়া লোহাপট্টি এলাকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। পরদিন শুক্রবার সকালে সেই তালা ভেঙে দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। ঘটনার বিষয়টি পুলিশকে জানানোয় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা নগরীর নবীনগর এলাকায় ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে পুরো শেখপাড়া ও নবীনগর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গুলিবর্ষণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, সর্বশেষ শুক্রবার রাতে খুলনা নগরীর রেলওয়ে হাসপাতাল রোডসংলগ্ন মার্কেট এলাকায় বাবুল মোল্লা (৭৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনাতেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। খুলনা সদর থানার ওসি কবির হোসেন জানান, এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা নয়; বরং তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে, এতে বৃদ্ধ মারা যান। আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের পর দ্রুত গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে নিহত বাবুল মোল্লার মেয়ে রিমি বেগমের অভিযোগ ভিন্ন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী নাসু, গামা ও সাব্বির এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারাই তাঁর বাবাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মাদ জাহিদুল হাসান বলেন, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন এবং এর মাধ্যমে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে—এমনটি বলার সুযোগ নেই। প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে খুলনা নগরীতে মোট ৩৬টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ২৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে