ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নৌমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর আশীর্বাদ পুষ্ট মনিরুলের রামরাজত্ব মোংলা বন্দরে

রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:১৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৯০ বার পঠিত
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:
মোংলা বন্দর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর এবং জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এটি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমিয়ে রপ্তানি–আমদানিকে সহজতর করেছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও বাণিজ্য বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে মোংলা বন্দর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নৌমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর আশীর্বাদ ধন্য তথ্য সহকারী মোঃ মনিরুল ইসলাম (২৯৭৭) দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নীতি, বিধিমালা ও আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ, টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বানিজ্য, ড্রেজিং এর বালু বিক্রয়ের সিন্ডিকেট পরিচালনা, রাজনৈতিক প্রভাব,  সহকর্মী ও স্থানীয়দের ওপর হুমকি-ধামকি দেওয়া সহ গুরুতর অভিযোগ এনে  দুদকে অভিযোগ জমা পরেছে। তৎসঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাণকেন্দ্রে স্ত্রী মালিহা খাতুন (দিশা)–এর নামে ১৯৯৭ সনের বন্দরের ভূমি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ৫৪২ বর্গগজ জমি বরাদ্দ নিয়ে তিনতলা বিলাসবহুল ভবন; ২২,৭৬৪ টাকা ইজারার অনুকূলে তিনতলা ভাবন ভাড়া থেকে বছরে প্রায় ৩৬ লাখ টাকার অবৈধ আয়, সরকারি নথি ও আয়কর রিটার্নে উক্ত আয়কর ফাঁকি; সাবেক পরিচালক প্রশাসন প্রণব কুমার রায় কে হুমকি ও বিভিন্ন ব্যাক্তি কতৃক চেয়ারম্যান ও পরিচালক প্রশাসন বরাবর বহুবার অভিযোগ দেয়ার পরও ব্যবস্থাহীনতায় রামরাজত্ব কায়েম করছেন আওয়ামীলীগের দোসর মনিরুল।দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় সেগুনবাগিচা ও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে বাগেরহাটে দায়েরকৃত অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, ২০১৩ সালে নৌমন্ত্রী শাহজাহান ও রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের সুপারিশে নিয়োগ জালিয়াতির মাধ্যমে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এলডিএ কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগদান করেন মনিরুল ইসলাম। যোগদানের সময় তার সম্পদ ছিল মাত্র ১,২০,০০০ টাকা। চাকরিতে যোগদানের পরপরই রাজবাড়ী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জিলুল হাকিম এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের সুপারিশে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের মাধ্যমে চাকরি পান। চাকরির বেতন কাঠামোর বাইরে, এমপি ও মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে ডাবল ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতি পান।দুদকের অভিযোগে বলা হয়, মনিরুলের স্ত্রী বেগম মালিহা খাতুন (দিশা)–এর নামে বন্দরের প্রাণকেন্দ্রে ৫৪২ বর্গগজ জমি বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে তিনতলা বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেছেন। বর্তমান এই ভবন থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা ভাড়া আয় হচ্ছে। সরকারি নথি ও আয়কর রিটার্নে এই সম্পদের কোনো হিসাব নেই। জমি বরাদ্দের মূল উদ্দেশ্য ছিল “উন্নতমানের ক্যান্টিন/হোটেল”, কিন্তু বাস্তবে এটি কার্যকর হয়নি। সরকারি নথি অনুযায়ী, মনিরুল ইসলাম ২০১৭ সালের পর তার ও তার পরিবারের নামে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, ব্যাংকে নগদ অর্থ এবং বেনামী জমি অর্জন করেছেন। তার আয়কর নথি অনুসারে খুলনা সার্কেল ১৭, মোংলা, টিন নং ৬১৬২১১৮৬৭৮৮৫ অনুযায়ী ২৩-২৪ অর্থবছরে আয় মাত্র ৩,৪৮,৫২৮ টাকা, কিন্তু বাস্তবে তার কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ আছে। তার দুদকের অভিযোগের সুত্রধরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মোংলা বন্দরের জন্য নির্ধারিত বাংলাদেশ গেজেট এর ৩৮ এর (২) এর (৩) অনুযায়ী মবক’র কোন কর্মচারী “কোন ব্যবসায়ের কাজে নিয়োজিত হইবেন না কিংবা নিজে বা অন্য কোন ব্যক্তির প্রতিনিধি হিসাবে অনুরূপ কোন ব্যবসা পরিচালনা করিবেন না অথচ উক্ত নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে ও জমি বরাদ্দ নীতিমালা ১৯৯৭ বহির্ভূতভাবে সুকৌশলে নিজ স্ত্রীর নামে (জনাবা মালিহা খাতুন দিশা) জায়গা বরাদ্দ নিয়ে জনাব মোঃ মনিরুল ইসলাম, তথ্য সহকারী চাকরির পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে ভবন ভাড়ার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। উক্ত বিষয়ে অডিট আপত্তি তুললে পরিচালক প্রশাসন প্রনব কুমার রায়ের সাথে উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।অভিযোগে বলা হয়, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের মোংলাস্থ (পিপি সাইট) এলাকায় তার স্ত্রী (বেগম মালিহা খাতুন দিশা)-এর নামে রেস্টুরেন্টের ব্যবসায় পরিচালনার জন্য বরাদ্দকৃত জমিতে ও স্থাপনায় অফিস/ব্যাংক ও এটিএম বুথ স্থাপনের অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে ই-নথির মাধ্যমে উপস্থাপিত পরিচালক (প্রশাসন)-এর নোট-প্রস্তাব চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত/অনুমোদন ও স্বাক্ষরের পূর্বে উক্ত নোট প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন ই-নথি থেকে বেআইনিভাবে ডাউনলোড/প্রিন্ট-আউট করে নোট সিটে লিখিত প্রস্তাবের/মতামতের বিষয় নিয়ে মনিরুল ইসলাম  ৫ই আগস্ট-১৮ তারিখে আনুিমানিক ১৫.৩০ মিনিটের সময় পরিচালক (প্রশাসন) এর অফিসকক্ষে নোট প্রস্তাবকারী পরিচালক (প্রশাসন) এর সাথে বিতর্ক শুরু করেন, যা রীতিমত অশোভনীয় ও সরকারি চাকরি নীতিমালা সাংঘর্ষিক। যেখানে ঊর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন), ঊর্ধ্বতন অর্থ কর্মকর্তা, উপব্যবস্থাপক (প্রঃ ও সঃ), সহকারী ব্যবস্থাপক(কর্ম), সিবিএ’র সেক্রেটারি, উচ্চমান সহকারী জনাব শওকতসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। মনিরুল ইসলামকে বারবার নিবৃত্ত করার চেষ্টা সত্ত্বেও একজন উচ্চমান সহকারী হয়েও তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্মুখে তার নিয়োগকারী কর্মকর্তার সাথে অশোভন অকর্মচারীসুলভ আচরণ করায় ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট মবক/ব্য(প্র)/কর্ম/২৯৭৭/২০১৮-২৭৯৬/(১-৩) স্মারক মূলে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রদান করেন পরিচালক প্রশাসন ও নিয়োগ কারি কর্তৃপক্ষ। বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, তিনি প্রতিদিন হাজিরা পাবেন এবং অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। কিন্তু দ্রুততর সময়ের মধ্যেই ঘুষ ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে স্বপদে পুনর্বহাল হন মনিরুল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগে তার পদোন্নতি প্রাপ্ত তথ্য সহকারী পদটিতে সে জৈষ্ঠতার তালিকায় অনেক নিম্নে অবস্থান করার পরও চাকরীর প্রবিধানমালা বহির্ভূতভাবে তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) ও বর্তমান পরিচালক বোর্ড কালাচাঁদ সিংহ (যুগ্মসচিব) কে বিরাট অংকের ঘুষ প্রদান করে ও সাবেক রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের প্রভাব খাটিয়ে ২০২২ সালে অবৈধভাবে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, মনিরুল ইসলাম বন্দরের ড্রেজিং কাজ নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন। ২৫ কোটি টাকার চ্যানেল ড্রেজিং কাজ তার কথিত ভাইরার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “এ জে ড্রেজিং লি:” কে পাইয়ে দেওয়া হয়। বিনিময়ে নগদ ঘুষ হিসেবে ৭ কোটি টাকা গ্রহণ করা হয়।
এবং এই ড্রেজিং কাজ হপার মেশিন দিয়ে কাটিং করে কাটিংকৃত বালিগুলো ফেয়ারওয়ের বাইরে ফেলার চুক্তি থাকলেও তা বাল্কহেডের মাধ্যমে বন্দরের জমিসহ নদীর আশপাশের ব্যক্তি মালিকানার জমিতে ফেলছে। ফলে চ্যানেলেই নোংরকৃত বাল্কহেডের বালি পুনরায় চ্যানেলেই পড়ছে। অন্যদিকে বন্দরের অসাধু কর্মকর্তার সহযোগীতায় ড্রেজিংকৃত বালি প্রতি ঘনফুট ১.৭৫ হারে বিক্রির বিধান থাকলেও ২০১৪ সাল থেকেই বালির পাশ গ্রহীতাদের নিকট হতে নামেমাত্র ২/৩ হাজার ঘনফুট বালির পাশ করিয়ে। লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বালি বিক্রি করে কয়েক লক্ষ ঘনফুট। যা অদ্যাবধি চলমান। মনিরুল আজও বালি গ্রহীতাদের নিকট বালির সেন্টিগেট হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সাল থেকে বন্দরের যত বালি বিক্রি হয়েছে সেখান থেকেই অতিরিক্ত ক্যাশ টাকায় ঘুষ গ্রহণের ফলেই মনিরুল আজ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে মর্মে বলা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এই অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম রাজবাড়ী পৌরসভার মতো নামীদামী স্থানে ৩৬,০০,০০০.০০ (ছত্রিশ লক্ষ) টাকা দিয়ে ৬ শতক জমি ক্রয় করেছে। যার দলিল নম্বর ৭৭৬১৭ ও রেজিষ্ট্রি তারিখ: ১০/০২/২০১৬। যা আয়কর রিটার্নে উক্ত সম্পদের কোন হিসেব দেয়নি।
আরও বলা হয়,  বন্দরে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই মনিরুল ইসলাম নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া ও অন্যদের অংশগ্রহণে বাধা দিতেন। যাতে করে প্রতিযোগিতা হ্রাস এবং বন্দরের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।বলা হয়, মনিরুল ইসলাম বন্দরে বরাদ্দকৃত জমিতে নির্মিত তিনতলা ভবনে তার নিজস্ব খাস রুমে প্রতিনিয়ত পার্টি ও অবৈধ কার্যক্রম করতেন। রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে স্থানীয় ও বন্দরের কর্মকর্তাদেরকে নানা সময় নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করেছেন। ইতিপূর্বে তার সিনিয়র কর্মকর্তা নিয়োগকারী কতৃপক্ষ পরিচালক প্রশাসনকে হুমকি ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে ৫ই আগস্ট ২০১৮ তারিখে চেয়ারম্যান এর নিকট প্রতিকার চেয়ে নিজ স্বাক্ষরিত আবেদন করেন সবেক পরিচালক প্রশাসন প্রনব কুমার রায়। তিনি শুধু কর্মকর্তাই নয়, সহকর্মী, সাংবাদিক এবং স্থানীয় নেতাদের উপরেও বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন সময় হুমকি প্রদর্শন করছেন মর্মে দায়েরকৃত অভিযোগে বলা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমি বরাদ্দ নীতিমালা ১৯৯৭ লঙ্ঘন করে ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের ১, ৩, ৪, ৭, ৮, ১০, ১২, ১৪ নং শর্ত ভঙ্গ করে ও বন্দরের ভূমি বরাদ্দ নীতিমালা ১৯৯৭ বর্হিভূতভাবে বারংবার অবৈধভাবে জোরপূর্বক ভবনের সম্প্রসারণ/নির্মান করে তার স্ত্রী মালিহা আক্তার দিশার নামে বন্দরের জমি লিজ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার প্রতিনিধিত্ব করছেন। উক্ত জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো বন্দর কর্তৃপক্ষের স্টাফ ও বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে সুলভ মূল্যে ও সুস্বাস্থ্যকর খাবার এর ব্যবস্থা করার জন্য। কিন্তু বন্দরের ভূমি বরাদ্দ্য নীতিমালা ১৯৯৭ এর বিধি বহির্ভূতভাবে অন্য উদ্দেশ্যে অর্থাৎ বরাদ্দের উদ্দেশ্য বহির্ভূত বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে মনিরুল। তার অবৈধ ভবনের বিষয়ে ২০২১-২২ অর্থ বছরে অডিট আপত্তি রয়েছে। সে সাবেক রেল মন্ত্রী জনাব মোঃ জিলুল হাকিম এর মাধ্যমে এজি অফিসকে অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে বিষয়টি একপ্রকারে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন। অভিযোগে বলা হয়, পুনঃ তদন্ত করলেই দেখা যাবে বন্দরের ভূমি নীতিমালা ১৯৯৭ মোতাবেক শুধুমাত্র নিম্নবর্নিত ৪টি ক্ষেত্রে বন্দরের জমি বরাদ্দ দেয়ার বিধান থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবে জমি বরাদ্দ পান মনিরুলের স্ত্রী মালিহা আক্তার দিশা। ভূমি নীতিমালায় অনুসারে, বন্দরের জমি বরাদ্দ পেতে হলে ১০০% রপ্তানীমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান হতে হবে, বিদেশী পুজি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হতে হবে, সরকারী, আধা সরকারী, সায়ত্বশাসীত ও ব্যক্তিমালীকাধীন সংস্থ/প্রতিষ্টান কর্তৃক শিল্প কারখানা স্থাপন করতে হবে, বন্দরের প্রয়োজনে আধা সরকারী , সায়ত্বশাসীত ও ব্যক্তিমালীকানাধীন সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের অফিস নির্মাণের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা যেতে পারে।
অভিযোগের সুত্রধরে সরোজমিনে অনুসন্ধানকালে দেখা যায় যে, বন্দরের ভূমি নীতিমালা ১৯৯৭ এ বর্নিত ৪টি নীতিমালার কোনটিই তার স্ত্রী মালিহা খাতুন (দিশা) এর নামে ভূমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে পালন করা হয়নি। যা সম্পূর্ন অবৈধভাবে ক্ষমতার দাপটে বরাদ্দ হয়েছিল।
অন্যদিকে চাকরী নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন ব্যবসায় যুক্ত হতে পারবেন না। কিন্তু, অডিটে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করায় অডিট আপত্তি করা হয় ও ইহার জন্য বিভাগীয় মামলা ১৩/২০১৮ চলমান রয়েছে। বহুবার পরিচালক (প্রশাসন) এবং চেয়ারম্যান বরাবর মনিরুলের অপকর্ম, অনিয়ম- দুর্নীতি ও  স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি। তার অবৈধ সম্পদ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ঘুষ-প্রথা বিভিন্ন সিন্ডিকেটের হোতার বিনা বাধায় রামরাজত্ব বন্দরের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানকে ক্ষুন্ন করছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
তিনি বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখিয়ে বন্দরের কর্মকর্তা ও সাধারণ কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করছেন। তার অবৈধ সম্পদের উৎস, টেন্ডার সিন্ডিকেট, ড্রেজিং কেলেঙ্কারি এবং সরকারী নীতি লঙ্ঘনের তথ্য সরকারি নথি ও স্থানীয় সূত্রগুলো দিয়ে যাচাইযোগ্য।
মোংলা বন্দর, দেশের দ্বিতীয় প্রধান বন্দর হিসেবে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ জরুরি, যাতে সরকারি সম্পদ ও নীতি রক্ষা করা যায় এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত কল্পে শতভাগ জবাবদিহিতার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারকারীকে দেশের প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্ত মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মনিরুলের নানা অনিয়ম- দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রসঙ্গে মোংলা বন্দর কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহিনুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে তার বক্তব্যে তিনি বলেন, আপনি উনার বস বোর্ড ডিরেক্টর কালাচাঁদ সিংহের সাথে কথা বলেন। তিনি যেন উক্ত বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেন পুটআপ করেন। আপনি বোর্ড ডিরেক্টরকে উক্ত বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
উক্ত বিষয়ে পরিচালক প্রশাসন কাজী আবেদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে ১৫ই জানুয়ারি-২৬ ১টা ৫৫ মিনিটে বক্তব্য চাইলে তিনি জানান, আমাদের সময় কোন বিষয় হলে আমরা সেটা এড্রেস করতে পারবো! আর আপনি তথ্য অধিকারের মাধ্যমে তথ্য চাইলে বিধি মোতাবেক দেখা হবে ধন্যবাদ।
উক্ত বিষয়ে জনসংযোগ বিভাগের বোর্ড ডিরেক্টর কালাচাঁদ সিংহ এর নিকট ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য চাইলে তিনি লিখিত বক্তব্য মারফতে জানান, মোংলা বন্দরে ১৩ টি ডিপার্টমেন্ট আছে। সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তথ্য  প্রশাসন বিভাগে থাকে। সে আমার অধীনে চাকরি করলেও  আপনার অভিযোগের সকল বিষয়  ঐ প্রশাসন বিভাগেই থাকতে পারে। অভিযোগের অনেক বিষয়ে আমি অবগত নই। জমি বন্দোবস্ত / ইজারা সংক্রান্ত কোন তথ্য আমার বিভাগে নেই। জমি এবং ভবন বিষয়ে পূর্বেও  অভিযোগ হয়েছে। আইন অনুযায়ী না হলে বাতিল হয়ে যেত বলে আমার ধারণা।  বন্দরে আমার কার্যক্রম নির্ধারিত বা সীমিত বলা যায়।
অপর প্রশ্নে স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধের জন্য প্রতিবেদকদের বিরুদ্ধে মোংলা বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরির বিষয়ে কতৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা প্রশ্নে তিনি জানান, টোটাল বিষয়টা আমি জানিনা। অনুমতি নেয়ার ঘটনা লিখিত কিছু হলে আমি অবগত থাকতাম। কোনো কর্মকর্তা / কর্মচারীর ব্যক্তিগত বিষয় হলে কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম (২৯৭৭) এর নিকট ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য চাইলে তিনি প্রথমে মোংলা বন্দরে দাওয়াত প্রদান করেন ও প্রতিবেদক পুনরায় বক্তব্য চাইলে উচ্ছৃঙ্খল ভাষায় কথা পূর্বক দেখে নেবার হুমকি প্রদান করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নৌমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর আশীর্বাদ পুষ্ট মনিরুলের রামরাজত্ব মোংলা বন্দরে

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:১৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী:
মোংলা বন্দর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর এবং জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এটি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমিয়ে রপ্তানি–আমদানিকে সহজতর করেছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও বাণিজ্য বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে মোংলা বন্দর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নৌমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর আশীর্বাদ ধন্য তথ্য সহকারী মোঃ মনিরুল ইসলাম (২৯৭৭) দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নীতি, বিধিমালা ও আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ, টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বানিজ্য, ড্রেজিং এর বালু বিক্রয়ের সিন্ডিকেট পরিচালনা, রাজনৈতিক প্রভাব,  সহকর্মী ও স্থানীয়দের ওপর হুমকি-ধামকি দেওয়া সহ গুরুতর অভিযোগ এনে  দুদকে অভিযোগ জমা পরেছে। তৎসঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাণকেন্দ্রে স্ত্রী মালিহা খাতুন (দিশা)–এর নামে ১৯৯৭ সনের বন্দরের ভূমি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ৫৪২ বর্গগজ জমি বরাদ্দ নিয়ে তিনতলা বিলাসবহুল ভবন; ২২,৭৬৪ টাকা ইজারার অনুকূলে তিনতলা ভাবন ভাড়া থেকে বছরে প্রায় ৩৬ লাখ টাকার অবৈধ আয়, সরকারি নথি ও আয়কর রিটার্নে উক্ত আয়কর ফাঁকি; সাবেক পরিচালক প্রশাসন প্রণব কুমার রায় কে হুমকি ও বিভিন্ন ব্যাক্তি কতৃক চেয়ারম্যান ও পরিচালক প্রশাসন বরাবর বহুবার অভিযোগ দেয়ার পরও ব্যবস্থাহীনতায় রামরাজত্ব কায়েম করছেন আওয়ামীলীগের দোসর মনিরুল।দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় সেগুনবাগিচা ও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে বাগেরহাটে দায়েরকৃত অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, ২০১৩ সালে নৌমন্ত্রী শাহজাহান ও রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের সুপারিশে নিয়োগ জালিয়াতির মাধ্যমে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এলডিএ কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগদান করেন মনিরুল ইসলাম। যোগদানের সময় তার সম্পদ ছিল মাত্র ১,২০,০০০ টাকা। চাকরিতে যোগদানের পরপরই রাজবাড়ী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জিলুল হাকিম এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের সুপারিশে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের মাধ্যমে চাকরি পান। চাকরির বেতন কাঠামোর বাইরে, এমপি ও মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে ডাবল ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতি পান।দুদকের অভিযোগে বলা হয়, মনিরুলের স্ত্রী বেগম মালিহা খাতুন (দিশা)–এর নামে বন্দরের প্রাণকেন্দ্রে ৫৪২ বর্গগজ জমি বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে তিনতলা বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেছেন। বর্তমান এই ভবন থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা ভাড়া আয় হচ্ছে। সরকারি নথি ও আয়কর রিটার্নে এই সম্পদের কোনো হিসাব নেই। জমি বরাদ্দের মূল উদ্দেশ্য ছিল “উন্নতমানের ক্যান্টিন/হোটেল”, কিন্তু বাস্তবে এটি কার্যকর হয়নি। সরকারি নথি অনুযায়ী, মনিরুল ইসলাম ২০১৭ সালের পর তার ও তার পরিবারের নামে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, ব্যাংকে নগদ অর্থ এবং বেনামী জমি অর্জন করেছেন। তার আয়কর নথি অনুসারে খুলনা সার্কেল ১৭, মোংলা, টিন নং ৬১৬২১১৮৬৭৮৮৫ অনুযায়ী ২৩-২৪ অর্থবছরে আয় মাত্র ৩,৪৮,৫২৮ টাকা, কিন্তু বাস্তবে তার কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ আছে। তার দুদকের অভিযোগের সুত্রধরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মোংলা বন্দরের জন্য নির্ধারিত বাংলাদেশ গেজেট এর ৩৮ এর (২) এর (৩) অনুযায়ী মবক’র কোন কর্মচারী “কোন ব্যবসায়ের কাজে নিয়োজিত হইবেন না কিংবা নিজে বা অন্য কোন ব্যক্তির প্রতিনিধি হিসাবে অনুরূপ কোন ব্যবসা পরিচালনা করিবেন না অথচ উক্ত নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে ও জমি বরাদ্দ নীতিমালা ১৯৯৭ বহির্ভূতভাবে সুকৌশলে নিজ স্ত্রীর নামে (জনাবা মালিহা খাতুন দিশা) জায়গা বরাদ্দ নিয়ে জনাব মোঃ মনিরুল ইসলাম, তথ্য সহকারী চাকরির পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে ভবন ভাড়ার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। উক্ত বিষয়ে অডিট আপত্তি তুললে পরিচালক প্রশাসন প্রনব কুমার রায়ের সাথে উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।অভিযোগে বলা হয়, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের মোংলাস্থ (পিপি সাইট) এলাকায় তার স্ত্রী (বেগম মালিহা খাতুন দিশা)-এর নামে রেস্টুরেন্টের ব্যবসায় পরিচালনার জন্য বরাদ্দকৃত জমিতে ও স্থাপনায় অফিস/ব্যাংক ও এটিএম বুথ স্থাপনের অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে ই-নথির মাধ্যমে উপস্থাপিত পরিচালক (প্রশাসন)-এর নোট-প্রস্তাব চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত/অনুমোদন ও স্বাক্ষরের পূর্বে উক্ত নোট প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন ই-নথি থেকে বেআইনিভাবে ডাউনলোড/প্রিন্ট-আউট করে নোট সিটে লিখিত প্রস্তাবের/মতামতের বিষয় নিয়ে মনিরুল ইসলাম  ৫ই আগস্ট-১৮ তারিখে আনুিমানিক ১৫.৩০ মিনিটের সময় পরিচালক (প্রশাসন) এর অফিসকক্ষে নোট প্রস্তাবকারী পরিচালক (প্রশাসন) এর সাথে বিতর্ক শুরু করেন, যা রীতিমত অশোভনীয় ও সরকারি চাকরি নীতিমালা সাংঘর্ষিক। যেখানে ঊর্ধ্বতন উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন), ঊর্ধ্বতন অর্থ কর্মকর্তা, উপব্যবস্থাপক (প্রঃ ও সঃ), সহকারী ব্যবস্থাপক(কর্ম), সিবিএ’র সেক্রেটারি, উচ্চমান সহকারী জনাব শওকতসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। মনিরুল ইসলামকে বারবার নিবৃত্ত করার চেষ্টা সত্ত্বেও একজন উচ্চমান সহকারী হয়েও তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্মুখে তার নিয়োগকারী কর্মকর্তার সাথে অশোভন অকর্মচারীসুলভ আচরণ করায় ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট মবক/ব্য(প্র)/কর্ম/২৯৭৭/২০১৮-২৭৯৬/(১-৩) স্মারক মূলে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রদান করেন পরিচালক প্রশাসন ও নিয়োগ কারি কর্তৃপক্ষ। বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, তিনি প্রতিদিন হাজিরা পাবেন এবং অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। কিন্তু দ্রুততর সময়ের মধ্যেই ঘুষ ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে স্বপদে পুনর্বহাল হন মনিরুল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগে তার পদোন্নতি প্রাপ্ত তথ্য সহকারী পদটিতে সে জৈষ্ঠতার তালিকায় অনেক নিম্নে অবস্থান করার পরও চাকরীর প্রবিধানমালা বহির্ভূতভাবে তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) ও বর্তমান পরিচালক বোর্ড কালাচাঁদ সিংহ (যুগ্মসচিব) কে বিরাট অংকের ঘুষ প্রদান করে ও সাবেক রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের প্রভাব খাটিয়ে ২০২২ সালে অবৈধভাবে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, মনিরুল ইসলাম বন্দরের ড্রেজিং কাজ নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন। ২৫ কোটি টাকার চ্যানেল ড্রেজিং কাজ তার কথিত ভাইরার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “এ জে ড্রেজিং লি:” কে পাইয়ে দেওয়া হয়। বিনিময়ে নগদ ঘুষ হিসেবে ৭ কোটি টাকা গ্রহণ করা হয়।
এবং এই ড্রেজিং কাজ হপার মেশিন দিয়ে কাটিং করে কাটিংকৃত বালিগুলো ফেয়ারওয়ের বাইরে ফেলার চুক্তি থাকলেও তা বাল্কহেডের মাধ্যমে বন্দরের জমিসহ নদীর আশপাশের ব্যক্তি মালিকানার জমিতে ফেলছে। ফলে চ্যানেলেই নোংরকৃত বাল্কহেডের বালি পুনরায় চ্যানেলেই পড়ছে। অন্যদিকে বন্দরের অসাধু কর্মকর্তার সহযোগীতায় ড্রেজিংকৃত বালি প্রতি ঘনফুট ১.৭৫ হারে বিক্রির বিধান থাকলেও ২০১৪ সাল থেকেই বালির পাশ গ্রহীতাদের নিকট হতে নামেমাত্র ২/৩ হাজার ঘনফুট বালির পাশ করিয়ে। লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বালি বিক্রি করে কয়েক লক্ষ ঘনফুট। যা অদ্যাবধি চলমান। মনিরুল আজও বালি গ্রহীতাদের নিকট বালির সেন্টিগেট হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সাল থেকে বন্দরের যত বালি বিক্রি হয়েছে সেখান থেকেই অতিরিক্ত ক্যাশ টাকায় ঘুষ গ্রহণের ফলেই মনিরুল আজ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে মর্মে বলা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এই অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম রাজবাড়ী পৌরসভার মতো নামীদামী স্থানে ৩৬,০০,০০০.০০ (ছত্রিশ লক্ষ) টাকা দিয়ে ৬ শতক জমি ক্রয় করেছে। যার দলিল নম্বর ৭৭৬১৭ ও রেজিষ্ট্রি তারিখ: ১০/০২/২০১৬। যা আয়কর রিটার্নে উক্ত সম্পদের কোন হিসেব দেয়নি।
আরও বলা হয়,  বন্দরে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই মনিরুল ইসলাম নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া ও অন্যদের অংশগ্রহণে বাধা দিতেন। যাতে করে প্রতিযোগিতা হ্রাস এবং বন্দরের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।বলা হয়, মনিরুল ইসলাম বন্দরে বরাদ্দকৃত জমিতে নির্মিত তিনতলা ভবনে তার নিজস্ব খাস রুমে প্রতিনিয়ত পার্টি ও অবৈধ কার্যক্রম করতেন। রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে স্থানীয় ও বন্দরের কর্মকর্তাদেরকে নানা সময় নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করেছেন। ইতিপূর্বে তার সিনিয়র কর্মকর্তা নিয়োগকারী কতৃপক্ষ পরিচালক প্রশাসনকে হুমকি ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে ৫ই আগস্ট ২০১৮ তারিখে চেয়ারম্যান এর নিকট প্রতিকার চেয়ে নিজ স্বাক্ষরিত আবেদন করেন সবেক পরিচালক প্রশাসন প্রনব কুমার রায়। তিনি শুধু কর্মকর্তাই নয়, সহকর্মী, সাংবাদিক এবং স্থানীয় নেতাদের উপরেও বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন সময় হুমকি প্রদর্শন করছেন মর্মে দায়েরকৃত অভিযোগে বলা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমি বরাদ্দ নীতিমালা ১৯৯৭ লঙ্ঘন করে ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্রের ১, ৩, ৪, ৭, ৮, ১০, ১২, ১৪ নং শর্ত ভঙ্গ করে ও বন্দরের ভূমি বরাদ্দ নীতিমালা ১৯৯৭ বর্হিভূতভাবে বারংবার অবৈধভাবে জোরপূর্বক ভবনের সম্প্রসারণ/নির্মান করে তার স্ত্রী মালিহা আক্তার দিশার নামে বন্দরের জমি লিজ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার প্রতিনিধিত্ব করছেন। উক্ত জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো বন্দর কর্তৃপক্ষের স্টাফ ও বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে সুলভ মূল্যে ও সুস্বাস্থ্যকর খাবার এর ব্যবস্থা করার জন্য। কিন্তু বন্দরের ভূমি বরাদ্দ্য নীতিমালা ১৯৯৭ এর বিধি বহির্ভূতভাবে অন্য উদ্দেশ্যে অর্থাৎ বরাদ্দের উদ্দেশ্য বহির্ভূত বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে মনিরুল। তার অবৈধ ভবনের বিষয়ে ২০২১-২২ অর্থ বছরে অডিট আপত্তি রয়েছে। সে সাবেক রেল মন্ত্রী জনাব মোঃ জিলুল হাকিম এর মাধ্যমে এজি অফিসকে অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে বিষয়টি একপ্রকারে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন। অভিযোগে বলা হয়, পুনঃ তদন্ত করলেই দেখা যাবে বন্দরের ভূমি নীতিমালা ১৯৯৭ মোতাবেক শুধুমাত্র নিম্নবর্নিত ৪টি ক্ষেত্রে বন্দরের জমি বরাদ্দ দেয়ার বিধান থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবে জমি বরাদ্দ পান মনিরুলের স্ত্রী মালিহা আক্তার দিশা। ভূমি নীতিমালায় অনুসারে, বন্দরের জমি বরাদ্দ পেতে হলে ১০০% রপ্তানীমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান হতে হবে, বিদেশী পুজি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হতে হবে, সরকারী, আধা সরকারী, সায়ত্বশাসীত ও ব্যক্তিমালীকাধীন সংস্থ/প্রতিষ্টান কর্তৃক শিল্প কারখানা স্থাপন করতে হবে, বন্দরের প্রয়োজনে আধা সরকারী , সায়ত্বশাসীত ও ব্যক্তিমালীকানাধীন সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের অফিস নির্মাণের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা যেতে পারে।
অভিযোগের সুত্রধরে সরোজমিনে অনুসন্ধানকালে দেখা যায় যে, বন্দরের ভূমি নীতিমালা ১৯৯৭ এ বর্নিত ৪টি নীতিমালার কোনটিই তার স্ত্রী মালিহা খাতুন (দিশা) এর নামে ভূমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে পালন করা হয়নি। যা সম্পূর্ন অবৈধভাবে ক্ষমতার দাপটে বরাদ্দ হয়েছিল।
অন্যদিকে চাকরী নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন ব্যবসায় যুক্ত হতে পারবেন না। কিন্তু, অডিটে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করায় অডিট আপত্তি করা হয় ও ইহার জন্য বিভাগীয় মামলা ১৩/২০১৮ চলমান রয়েছে। বহুবার পরিচালক (প্রশাসন) এবং চেয়ারম্যান বরাবর মনিরুলের অপকর্ম, অনিয়ম- দুর্নীতি ও  স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি। তার অবৈধ সম্পদ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং ঘুষ-প্রথা বিভিন্ন সিন্ডিকেটের হোতার বিনা বাধায় রামরাজত্ব বন্দরের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানকে ক্ষুন্ন করছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
তিনি বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখিয়ে বন্দরের কর্মকর্তা ও সাধারণ কর্মচারীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করছেন। তার অবৈধ সম্পদের উৎস, টেন্ডার সিন্ডিকেট, ড্রেজিং কেলেঙ্কারি এবং সরকারী নীতি লঙ্ঘনের তথ্য সরকারি নথি ও স্থানীয় সূত্রগুলো দিয়ে যাচাইযোগ্য।
মোংলা বন্দর, দেশের দ্বিতীয় প্রধান বন্দর হিসেবে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ জরুরি, যাতে সরকারি সম্পদ ও নীতি রক্ষা করা যায় এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত কল্পে শতভাগ জবাবদিহিতার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারকারীকে দেশের প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্ত মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মনিরুলের নানা অনিয়ম- দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রসঙ্গে মোংলা বন্দর কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহিনুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে তার বক্তব্যে তিনি বলেন, আপনি উনার বস বোর্ড ডিরেক্টর কালাচাঁদ সিংহের সাথে কথা বলেন। তিনি যেন উক্ত বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেন পুটআপ করেন। আপনি বোর্ড ডিরেক্টরকে উক্ত বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
উক্ত বিষয়ে পরিচালক প্রশাসন কাজী আবেদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে ১৫ই জানুয়ারি-২৬ ১টা ৫৫ মিনিটে বক্তব্য চাইলে তিনি জানান, আমাদের সময় কোন বিষয় হলে আমরা সেটা এড্রেস করতে পারবো! আর আপনি তথ্য অধিকারের মাধ্যমে তথ্য চাইলে বিধি মোতাবেক দেখা হবে ধন্যবাদ।
উক্ত বিষয়ে জনসংযোগ বিভাগের বোর্ড ডিরেক্টর কালাচাঁদ সিংহ এর নিকট ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য চাইলে তিনি লিখিত বক্তব্য মারফতে জানান, মোংলা বন্দরে ১৩ টি ডিপার্টমেন্ট আছে। সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তথ্য  প্রশাসন বিভাগে থাকে। সে আমার অধীনে চাকরি করলেও  আপনার অভিযোগের সকল বিষয়  ঐ প্রশাসন বিভাগেই থাকতে পারে। অভিযোগের অনেক বিষয়ে আমি অবগত নই। জমি বন্দোবস্ত / ইজারা সংক্রান্ত কোন তথ্য আমার বিভাগে নেই। জমি এবং ভবন বিষয়ে পূর্বেও  অভিযোগ হয়েছে। আইন অনুযায়ী না হলে বাতিল হয়ে যেত বলে আমার ধারণা।  বন্দরে আমার কার্যক্রম নির্ধারিত বা সীমিত বলা যায়।
অপর প্রশ্নে স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধের জন্য প্রতিবেদকদের বিরুদ্ধে মোংলা বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরির বিষয়ে কতৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা প্রশ্নে তিনি জানান, টোটাল বিষয়টা আমি জানিনা। অনুমতি নেয়ার ঘটনা লিখিত কিছু হলে আমি অবগত থাকতাম। কোনো কর্মকর্তা / কর্মচারীর ব্যক্তিগত বিষয় হলে কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম (২৯৭৭) এর নিকট ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য চাইলে তিনি প্রথমে মোংলা বন্দরে দাওয়াত প্রদান করেন ও প্রতিবেদক পুনরায় বক্তব্য চাইলে উচ্ছৃঙ্খল ভাষায় কথা পূর্বক দেখে নেবার হুমকি প্রদান করেন।