ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন অকেজো

মাদারীপুরে সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

গাউস উর রহমান, মাদারীপুর
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১১৪ বার পঠিত
মাদারীপুর সদর উপজেলার ২০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিত করতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্থাপিত বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ছয় বছরেও একদিনও ব্যবহৃত হয়নি। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগের অভাবে এসব মেশিন অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে, ফলে সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা নিজেরাই।
সরজমিনে দেখা যায়, চরমুগরিয়া ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৭৫নং কলাবাড়ি, ১০১নং দত্ত কেন্দুয়াসহ অধিকাংশ বিদ্যালয়ে মেশিনগুলো দেয়ালে বা টিনের বেড়ায় ঝুলছে, কিছু মেশিন আর খুঁজেই পাওয়া যায় না। তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো প্রকল্পটি ব্যর্থ হতে বসেছে। অথচ, প্রতিটি মেশিন কিনতে ১৫-২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে শিক্ষকদের চাপ দেওয়া হয়েছিল।
রিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন নাহার বলেন, “ভালো উদ্দেশ্যে মেশিনগুলো স্থাপন করা হলেও কখনোই ব্যবহৃত হয়নি।” চরমুগরিয়া ২নং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “কোম্পানি স্থাপনের পর আর কোনো সংযোগ বা রক্ষণাবেক্ষণ করেনি, ফলে মেশিনগুলো অকেজো।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, “সরকারি অর্থ লুটপাটের জন্য এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের বিচার ও আমাদের দেওয়া টাকা ফেরত চাই।” উপজেলার ৪২,২৪০ শিক্ষার্থী ও ১,১৩০ শিক্ষকের জন্য কেনা এসব মেশিনের কোনো তদারকি নেই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ মুহাম্মদ ইমারত হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। নতুন এসেছি, কাগজপত্র দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।” তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব আশ্বাস দিয়ে বলেন, “অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মহৎ উদ্যোগ পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন অকেজো

মাদারীপুরে সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মাদারীপুর সদর উপজেলার ২০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের হাজিরা নিশ্চিত করতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্থাপিত বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ছয় বছরেও একদিনও ব্যবহৃত হয়নি। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগের অভাবে এসব মেশিন অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে, ফলে সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা নিজেরাই।
সরজমিনে দেখা যায়, চরমুগরিয়া ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৭৫নং কলাবাড়ি, ১০১নং দত্ত কেন্দুয়াসহ অধিকাংশ বিদ্যালয়ে মেশিনগুলো দেয়ালে বা টিনের বেড়ায় ঝুলছে, কিছু মেশিন আর খুঁজেই পাওয়া যায় না। তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো প্রকল্পটি ব্যর্থ হতে বসেছে। অথচ, প্রতিটি মেশিন কিনতে ১৫-২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে শিক্ষকদের চাপ দেওয়া হয়েছিল।
রিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন নাহার বলেন, “ভালো উদ্দেশ্যে মেশিনগুলো স্থাপন করা হলেও কখনোই ব্যবহৃত হয়নি।” চরমুগরিয়া ২নং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “কোম্পানি স্থাপনের পর আর কোনো সংযোগ বা রক্ষণাবেক্ষণ করেনি, ফলে মেশিনগুলো অকেজো।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, “সরকারি অর্থ লুটপাটের জন্য এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের বিচার ও আমাদের দেওয়া টাকা ফেরত চাই।” উপজেলার ৪২,২৪০ শিক্ষার্থী ও ১,১৩০ শিক্ষকের জন্য কেনা এসব মেশিনের কোনো তদারকি নেই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফ মুহাম্মদ ইমারত হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। নতুন এসেছি, কাগজপত্র দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।” তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব আশ্বাস দিয়ে বলেন, “অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মহৎ উদ্যোগ পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”