ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
"কথা একটাই করবো কাজ গড়বো দেশ"
মৃত শিল্পনগরীকে উজ্জীবিত করে পুনরায় শিল্প নগরী হবে খুলনা: তারেক রহমান!

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:২৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৯৮ বার পঠিত

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো: নারীর সর্বোচ্চ মর্যাদা, বন্ধ মিল কলকারখানা রুগ্ননগরীকে শিল্পনগরী তে পরিণত করা, বেকার সমস্যার সমাধান, কৃষি উন্নয়ন, ন্যায্য ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত এবং জনদরদি সরকার উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে দীর্ঘ ২২ বছর পর খুলনায় পদার্পনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী বিশাল জনসভার মাধ্যমে খুলনাবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বিএনপি’র চেয়ারপার্সন তারেক রহমান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেশব্যাপী নির্বাচনী জনসভার অংশ হিসেবে ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার খুলনা নগরীর খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এবং খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীগণ ও লাখো জনতার উপস্থিতিতে খুলনাবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তৃতার মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দিকনির্দেশনা তুলে ধরে
তারেক রহমান বলেছেন, যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে, তারা কখনো দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারে না।
শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে নিয়েই দেশ গড়তে হবে। শুধু একটি শ্রেণিকে নিয়ে কখনোই দেশ পুনর্গঠন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এর মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারীসমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, দেশকে সামনে নেওয়া সম্ভব নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
নির্বাচন সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, একটি দল প্রকাশ্যে নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি ওই দলের এক নেতা কর্মসংস্থানে নিয়োজিত মা-বোনদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা বলতেও লজ্জা লাগে। এটি শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের লক্ষাধিক নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ তাদেরই আজ অপমান করা হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলে, তারা ভুলে যাচ্ছে— নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাহলে নারীদের কর্মজীবনকে অপমান করার এখতিয়ার কারও নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে আজ বিএনপি ও ধানের শীষের এই জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিগত ১৫–১৬ বছরে বিএনপি বহু আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছে। এই সময়ে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। হাজার হাজার, লাখো নেতাকর্মী—বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা—গায়েবি মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ টানা ১৬ বছর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, এমনকি স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি। এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ তাদের মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারেননি। কেউ কথা বলার চেষ্টা করলে তাকে রাতের আঁধারে তুলে নেওয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে কিংবা খুন করা হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট মাসে দল-মত নির্বিশেষে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। আজ সময় এসেছে অধিকার আদায়ের। আগামী ১২ তারিখে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ সেই অধিকার প্রয়োগ করবে, যা থেকে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তাদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল।
বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তারা কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে।
খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক সময়ের শিল্পনগরী খুলনা আজ মৃতপ্রায়। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই অঞ্চলকে আবার জীবন্ত শিল্পনগরীতে রূপান্তর করা হবে, নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
তরুণ সমাজের জন্য আইটি পার্ক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক সহজে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বর্তমানে যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ রয়েছে, তা সুদসহ মওকুফ করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করা, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।


















