ঢাকা, বাংলাদেশ। , সোমবার, ১১ মে ২০২৬

শেরপুর সীমান্তের শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক সম্রাট রাসেল গ্রেপ্তার হলেও মাদক পাঁচারকারি রাসেল বাহিনীর শতাধিক সদস্য বহালতবিয়তে

ঝিনাইগাতী(শেরপুর) সংবাদদাতাঃ
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:০৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৭৩ বার পঠিত

শেরপুরের সীমান্তের শীর্ষ সন্ত্রাসী  মাদক সম্রাট রাসেল দীর্ঘ ২ যুগপর  গ্রেপ্তার করা হলেও এ বাহিনীর  শতাধিক সদস্য এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে । চলছে সীমান্ত পথে অবাধে মাদক পাঁচার। প্রতিদিন গড়ে অর্ধকোটি টাকার মাদক ভারত থেকে পাঁচার হয়ে আসছে বালাদেশে। কমিউনিটিদের অসহযোগিতার কারনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত  অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না মাদক পাঁচার। রাসেল গ্রেফতারের  পর  শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটেছে । ওই বাহীনির প্রধান হিসেবে রাসেলের খালাতো ভাই উমর সানি রাসেল বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।  গত দুইযুগ  ধরে এ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিল  শীর্ষ সন্ত্রাসী মাদক সম্রাট রাসেল । গত (২৮ আগষ্ট)   অভিযান চালিয়ে রাসেলসহ এ বাহিনীর কয়েকজনকে  গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ । গত প্রায় দুইযোগ ধরে রাসেল মাদককারবারির সাথে ছিল  জরিত।  অনুসন্ধানে  গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,  গত দুই যুগেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শীর্ষ   সন্ত্রাসী মাদক সম্রাট  রাসেলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে  বিভিন্ন সময় রাসেল বাহিনীর কোটি কোটি টাকা মূল্যের মাদকও কভারভ্যান জব্দ করেছে । বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী রাসেলের নামে মাদক পাঁচার, ভারত থেকে মোটরসাইকেল চুরিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়ে   দুই ডজনখানেক  মামলা  হলেও রাসেলকে গ্রেপ্তার হয়নি। আবার কোন কোন সময় গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে এসে আবারো পুরো দমে শুরু করেছে  মাদক পাঁচার। । স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে,  মাদক সম্রাট রাসেল উপজেলার নলকুড়া  ইউনিয়নের  সন্ধ্যাকুড়া ওয়ার্ড় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল মিয়ার ভাগিনা।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রাসেল বাহিনীর আইন উপদেষ্টা হিসেবে  গত ১৫ বছর রাসেল বাহিনীর মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক দলসহ সকল দপ্তর নিয়ন্ত্রনের দ্বায়িত্ব পালন করেছে  জামাল মিয়া।  তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের  পর থেকে  এ দায়িত্বে চলে  আসে  জামাল মিয়ার ফুফাতো ভাই সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের ইউপি  সদস্য গোলাম কিবরিয়ার হাতে ।  স্থানীয়রা জানান গোলাম কিবরিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলামের একজন  ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে জাতীয় সংসদ  নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ গ্রহন করে। এমপি শহিদুল ইসলামের   নির্বাচনী প্রচারনায় গোলাম কিবরিয়ার ছবি  এখনও শুভাপাচ্ছে এমপি শহিদুল ইসলামের ছবির সঙ্গে । আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে গোলাম কিবরিয়া একজন খাটি  বিএনপির নেতা  বনে যায় । অভিযোগ রয়েছে গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ও দিক নির্দেশনায়  মাদক সম্রাট রাসেল গারো পাহাড়ে গড়ে তুলে দুই শতাধিক কিশোর গ্যংসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নারী পুরুষ মিলে এক বিশাল   বাহিনী। এ বাহিনী  রাসেল বাহিনি নামে পরিচিত ।   এ বাহিনীর সদস্যরা নালিতাবাড়ী উপজেলার

মায়াঘাসি, পানিহাতা, রামচন্দ্রকুড়া, কালাকুমা, নাকুগাঁও, দাওধারা-কাটাবাড়ী, আন্ধারুপাড়া, খলচান্দা, বুরুঙাগা, সমশ্চূড়া, কালিস্থান, ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদিগ্রাম, সন্ধ্যাকুড়া, গোমড়া, রাংটিয়া, নওকুঁচি,হালচাটি, গজনী, ছোট গজনী, বাকাকুড়া গান্ধিগাঁও  পানবর গুরুচোরনদুধনই, তাওয়াকোচা শ্রীবরদী উপজেলার রাঙ্গাজান,খাড়ামুড়া বালিজুরি, খ্রিষ্ঠানপাড়া , মেঘাদলসহ প্রায় ৫০ টি গ্রামের ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ভারত  সীমান্ত পথে অবাধে  মাদক গাঁজা, ইয়াবা, হিরোইন , ও অস্ত্রসহ ভারতীয় বিভিন্ন পন্য সামগ্রী আমদানি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে।   জনশ্রুতি রয়েছে  রাসেল বাহিনীর মাদক চোরাচালান অস্ত্র পাঁচারের কাজে ব্যবহৃত হয় পিকআপভ্যন । এ বাহিনীর নিজস্ব অর্থে ক্রয় করা অর্ধশতাধিক কভারভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটো ও  সিএনজি। স্থানীয়দের অভিযোগ রাসেল বাহিনী গারো পাহাড়ের সীমান্তে গত দুইযুগ ধরে  চোরাচালান ব্যবসা চালিয়ে আসছে। আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন অনেই ।  স্থানীয়দের অভিযোগ এ বাহিনীর প্রায়  প্রতিটি সদস্যের হাতে  আগ্নেয়াস্ত্রসহ চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় ধাড়ালো অস্ত্র রয়েছে । রাসেল বাহিনীর সদস্যরা নাকৃগাঁও এলাকা থেকে  কর্ঝুড়া পর্যন্ত  ৪০ কিলোমিটার ভারত সীমান্ত পথে প্রতিদিন কোটি টাকা মুল্যের  মাদকদ্রব্যসহ ভারতীয় বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী পাঁচার করে আসছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও শেরপুর সীমান্ত পথে বন্ধ হচ্ছে না মাদক পাঁচার। ভারতে বসবাসরত চোরাকারবারিদের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের চোরাকারবারিদের রয়েছে সখ্যতা ।  আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা মাঝেমধ্যে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে পালিয়ে থাকেন। এ বাহিনীতে স্থানীয় প্রশাসানের মদদপুষ্ট নামধারী কতিপয় সাংবাদিকের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক  দলের নেতাকর্মীদের  সঙ্গে রয়েছে রাসেল বাহিনীর গোপন আতাদ । স্থানীয়দের অভিযোগ রাসেল বাহিনীর মাদকও চোরাচালান ব্যবসা থেকে বড়খা পাচ্ছে স্থানী জনপ্রতিনিধিসহ অনেক সুবিধাভোগি। বর্তমানে শেরপুর  সীমান্তের উল্লেখিত পাহাড়ি গ্রামগুলোতে  প্রতিটি  ঘরে ঘরে  গড়ে উঠেছে মাদকও  চোরাচালান ব্যবসায়ী নারী পুরুষ। । আবার  পাহাড়ি গ্রামের নিরিহ খেটে খাওয়া লোকজনকে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা জোরপূর্বক মাদক ব্যবসায় ধাপিত করছে । কোনকোন সময় গ্রামের লোকজনকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা। কেউ মাদক ব্যবসা করতে অস্বীকার করলে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা তার ঘরে মাদক রেখে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তাকে ধরিয়ে দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।  ফলে শেরপুর  সীমান্তপথ মাদক ও অস্ত্রসহ চোরাচালানীদের  ট্রানজিট রোডে পরিণত হয়েছে। শেরপুর জেলা সদরসহ ৫ টি উপজেলার ৫২টি ইউনিয়নের যত্রতত্র হাতবাড়ালেই  মিলছে এখন মাদক। ফলে তরুনও যুব সমাজ বিপদগামী হয়ে পড়ার পাশাপাশি  আইন শৃঙ্খলা  পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।  মাদক পাঁচার  প্রতিরোধে  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত  অভিযানে ও বন্ধ হচ্ছে না সীমান্তে মাদক পাঁচার।   জানা গেছে রাসেলের পুর্বে এ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ করতো উপজেলা সদরের জুয়েল নামে এক মাদক চোরাকারবারি। পরে রাসেল জুয়েলকে অস্ত্রের মুখে তাকে বিতারিত করে পুরো বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ দৃখলে নেয় রাসেল । স্থানীয়দের  অভিযোগ  রাসেল বাহিনীর হাতে অস্ত্র ও মাদকের চালান সরবরাহ করে থাকে নলকুড়া ও গৌরীপুর ইউনিয়নের বসবাসকারী আলী নামে এক  মাদক সম্রাট। আলী বাংলাদেশের লোক হলেও কৌশলে  তিনি ভারতের শিশিংপাড়া এলাকার বাসিন্দা বনে গেছে। এ সুবাদে আলী ভারত থেকে ট্রাকে ট্রাকে মাদক ও অস্ত্রসহ চোরাই পন্য ভারত থেকে পৌঁছে দিচ্ছে বাংলা দেশে রাসেল বাহিনীর হাতে। রাসেলের পুরো গোত্রের প্রতিজন সদস্যই বিশেষ করে নারী পুরুষসবাইএখন মাদক পাঁচারের সাথে জরিত। পুরো গারো পাহাড় এলাকার সীমান্তপথে ছরিয়ে ছিটিয়ে রয়েছে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা।  জানা গেছে, রাসেল বাহিনীর সদস্যরা মাদক পাঁচার থেকে শুরু করে অন্যকোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে বিপদ গ্রস্ত হলে মুহূর্তের মধ্যেই রাসেল বাহিনীর সদস্যরা একত্রিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। জনশ্রুতি রয়েছে রাসেল বাহিনীর সঙ্গে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কারো কারো রয়েছে দহরম মহরম সম্পর্ক । ফলে এ বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না । আবার কেউ মুখ খুললেই  তাদের উপর নেমে আসে রাসেল বাহিনীর অমানুষিক নির্যাতন ও বর্বরতা। রাসেল বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ছাড়া   সন্দেহ ভাজন কোন সাংবাদিককে পাহাড়ি এলাকায়  প্রবেশ করতে দেয়া হয়  না। । বর্তমানে   সীমান্তপথে দিনেরাতে   কোটি কোটি টাকা মূল্যের মদ গাঁজা,ইয়াবা, হিরোইন, অস্ত্র,  ফেনসিডিল কম্বল ভারতীয় কসমেটিক, শাড়ী কাপড়, চসমা, গরু, জিরা, ভারতীয় বিভিন্ন সামগ্রী আমদানি ও দেশের  বিভিন্ন স্থানে অবাধে পাঁচার করে আসছে। অভিযোগ  আইন প্রয়োগকারি সংস্থার লোকজন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে  লাখ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্যসহ   চোরাই পন্য আটকও  জব্দও   করা হচ্ছে  ।  কোন কোন সময় দু’একজন শ্রমিক আটক হলেও  গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে। ফলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না সীমান্তে মাদক পাঁচার।  পুলিশ সুত্রে  জানা গেছে বিভিন্ন সময় ঝিনাইগাতীর শীর্ষ সন্ত্রাসী  মাদক সম্রাট রাসেল বাহিনীর  যতগুলো মাদকের চালান জব্দ করা হয়েছে প্রতিটি মাদক উদ্ধারের ঘটনায়  রাসেলের নামে মাদক মামলা দেয়া হয়েছে।  শুধু রাসেলের নামে থানায় ১৯টি মামলা রয়েছে বলে জানান থানা পুলিশ । এরপরে ও বন্ধ হয়নি শেরপুর সীমান্তে বেপরোয়া মাদক পাঁচার। পুলিশ সুত্রে জাগে রাসেল বাহিনী  নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাতে মাদক পাঁচার পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি ঝিনাইগাতীর  শীর্ষ সন্ত্রাসী মাদক সম্রাট   রাসেল তার বাড়ির চার পাশে সাটিয়েছে সেন্সর লাইট। ও বাড়িতে তার পরিবারের  সুরক্ষার জন্য মাটির নিচে স্থাপন করা হয়েছে ব্যাংকার। মানব দেহের স্পর্শে সেন্সর লাইট গুলো জ্বলে  উঠে । এ সময় রাসেল বাহিনীর সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আর  খুজে পাননা। আবার কোন কোন সময় পুলিশী গ্রেপ্তার এড়াতে রাসেলসহ এ বাহিনীর সদস্যরা ভারতে আশ্রয় নেয়।  পুলিশ তাদের আর খুঁজে পায় না।  এভাবে   সীমান্ত পথে  গত দুইযুগ ধরে  চলছে রাসেল বাহিনীর  রাম রাজত্ব। গারো পাহাড়ের গ্রামগুলোতে  মাদক পাঁচারসহ নানা ধরনের  সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে রাসেল বাহিনী । এরা সুধুমাত্র মাদক চোরাচালানের সঙ্গেই সম্পৃক্ত তাই  নয়। অভিযোগ রয়েছে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা সীমান্তের পাহাড়ি গ্রামগুলোতে খুন- ধর্ষণ, ভারতে  নারি পাঁচারসহ এলাকায় বিভিন্ন  বিচার শালিশে প্রভাবশালীদের পক্ষে  দালালীর পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে  তাদের মূল পেশা । এদের  মদদ দিয়ে থাকে স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মি ও প্রাশনের কিছু সংখ্যক কর্তা ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধি। ফলে থানা পুলিশ ও ভয় পায় রাসেল বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।   জানা গেছে ২০২৪সালের   গত ফেব্রুয়ারি মাসে গোমড়া গ্রাম থেকে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা একটি পিক় আপভ্যানে করে অর্ধকোকি টাকা মুল্যেন মাদক ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌঁছে দিয়ে রাতে বাড়ি ফিরছিলো রাসেল বাহিনীর সদস্যরা। রাত ২ টার দিকে  ময়মনসিংহের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাদের ধাওয়া  করে। এসময় শেরপুরের নকলা এলাকায় এসে তারা  আত্মগোপন করে। পরে  গ্রামবাসীরা গরু চোর সন্দেহে তাদের গণধোলাই দেয়। একপর্যায়ে  গ্রামবাসীদের গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে রাসেল বাহিনীর ২ সদস্য  মুসলে উদ্দিন ও আমির হোসেনের মৃত্যু হয়। আহত হয় আরো কয়েকজন। গোমড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম নামে এক যৃবককে গত বছর মাদক ব্যবসা করতে চাপ দেয় রাসেল বাহিনী। কিন্তু সাইফুল ইসলাম অস্বীকার করলে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা তাকে মাদক দিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেয়। পরে ওই মামলায় সাইফুল ইসলাম জামিনে আসলে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা তাকে তার পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যা করা হবে বলে হুমকি প্রদর্শন করে আসছে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা। এ প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ  ফলে সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছে বলে জানান সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন। গত মার্চ মাসে  থানা পুলিশ রাসেল বাহিনীর  অর্ধকোটি টাকার মাদক জব্দ করে। ওই মাদক সম্পর্কে  থানা পুলিশকে তথ্য দেয়ার সন্দেহে হাবিবুর রহমান নামে এক যু্বককে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয় রাসেল বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনার কয়েকদিন পর  রাসেল বাহিনীর সদস্যরা  ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণীক অপহরন করে সন্ধ্যাকুড়া রাবার বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় সুজন নামে রাবার বাগানের এক শ্রমিক ধর্ষণের  ওই  ঘটনার ভিডিও  ধারন করে। পরে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা তাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার ও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সুজনের মা সখিনা বেগম বাদি হয়ে  থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্ত কোন কাজে আসেনি। পরে সুজন মিয়া রাবার বাগানের কাজ ফেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।  বর্তমানে গারো পাহাড়ের সীমান্ত পথে দিনেরাতে কোটি টাকা মুল্যের মাদক পাঁচার হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। চলছে বিজিবিসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান। কিন্তু কোনভাবেই মাদক পাঁচার বন্ধ হচ্ছে না। শেরপুরের মাদকদ্রব্য পাঁচার নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না । ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদিগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ নায়েব সুবেদার মো,হেলান উদ্দিন বলেন মাদক নির্মুলে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন রাসেল বাহিনীর মাদকসহ ৮টি পিকআপ ভ্যান জব্দ করেছেন তারা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় লোকজন কেউ তাদের সহযোগিতা করে না। সবাই মাদক কারবারিদের পক্ষে কথা বলে। ফলে মাদক চোরাচালান  নির্মুলে চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরো বলেন অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তুলনায় বিজিবি জোয়ানরা সবচেয়ে বেশি মাদক জব্দ করেছে  জানান তিনি । শেরপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো,রহুল আমীন জানান ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে ২০২৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ইয়াবা, গাঁজা,ভারতীয় মাদক, ১১ টি অস্ত্রসহ কোটি টাকা সুল্যের ভারতীয় বিভিন্ন  সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো, আল আমিন বলেন গত এক বছরে কোটি টাকা মূল্যের মাদকসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এবং পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার জাহিদ বলেন  মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। গত এক বছরে মাদকসহ কোটি টাকার উপরে ভারতীয় বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।   নালিতাবাড়ী,থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা  নকলা,ও শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন বলেছেন একই কথা। বিজিবির ৩৯ ব্যালিয়নের অধিনায়ক

 লেফটেন্যান্ট কর্নেল   মেহেদী হাসান পিপিএম বলেন গত এক বছরে শেরপুর সীসান্ত পথে ভারত থেকে পাচারকালে  মাদকসহ প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের সামগ্রী উদ্ধার করে বিজিবি।  তিনি আরো বলেন সীমান্তের  সর্বভৌমন্ত   রক্ষা ও ভারত থেকে মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেট বন্ধে বিজিবির অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

শেরপুর সীমান্তের শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক সম্রাট রাসেল গ্রেপ্তার হলেও মাদক পাঁচারকারি রাসেল বাহিনীর শতাধিক সদস্য বহালতবিয়তে

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:০৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

শেরপুরের সীমান্তের শীর্ষ সন্ত্রাসী  মাদক সম্রাট রাসেল দীর্ঘ ২ যুগপর  গ্রেপ্তার করা হলেও এ বাহিনীর  শতাধিক সদস্য এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে । চলছে সীমান্ত পথে অবাধে মাদক পাঁচার। প্রতিদিন গড়ে অর্ধকোটি টাকার মাদক ভারত থেকে পাঁচার হয়ে আসছে বালাদেশে। কমিউনিটিদের অসহযোগিতার কারনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত  অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না মাদক পাঁচার। রাসেল গ্রেফতারের  পর  শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটেছে । ওই বাহীনির প্রধান হিসেবে রাসেলের খালাতো ভাই উমর সানি রাসেল বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।  গত দুইযুগ  ধরে এ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিল  শীর্ষ সন্ত্রাসী মাদক সম্রাট রাসেল । গত (২৮ আগষ্ট)   অভিযান চালিয়ে রাসেলসহ এ বাহিনীর কয়েকজনকে  গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ । গত প্রায় দুইযোগ ধরে রাসেল মাদককারবারির সাথে ছিল  জরিত।  অনুসন্ধানে  গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,  গত দুই যুগেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শীর্ষ   সন্ত্রাসী মাদক সম্রাট  রাসেলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে  বিভিন্ন সময় রাসেল বাহিনীর কোটি কোটি টাকা মূল্যের মাদকও কভারভ্যান জব্দ করেছে । বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী রাসেলের নামে মাদক পাঁচার, ভারত থেকে মোটরসাইকেল চুরিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়ে   দুই ডজনখানেক  মামলা  হলেও রাসেলকে গ্রেপ্তার হয়নি। আবার কোন কোন সময় গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে এসে আবারো পুরো দমে শুরু করেছে  মাদক পাঁচার। । স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে,  মাদক সম্রাট রাসেল উপজেলার নলকুড়া  ইউনিয়নের  সন্ধ্যাকুড়া ওয়ার্ড় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল মিয়ার ভাগিনা।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রাসেল বাহিনীর আইন উপদেষ্টা হিসেবে  গত ১৫ বছর রাসেল বাহিনীর মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক দলসহ সকল দপ্তর নিয়ন্ত্রনের দ্বায়িত্ব পালন করেছে  জামাল মিয়া।  তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের  পর থেকে  এ দায়িত্বে চলে  আসে  জামাল মিয়ার ফুফাতো ভাই সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের ইউপি  সদস্য গোলাম কিবরিয়ার হাতে ।  স্থানীয়রা জানান গোলাম কিবরিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলামের একজন  ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে জাতীয় সংসদ  নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ গ্রহন করে। এমপি শহিদুল ইসলামের   নির্বাচনী প্রচারনায় গোলাম কিবরিয়ার ছবি  এখনও শুভাপাচ্ছে এমপি শহিদুল ইসলামের ছবির সঙ্গে । আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে গোলাম কিবরিয়া একজন খাটি  বিএনপির নেতা  বনে যায় । অভিযোগ রয়েছে গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ও দিক নির্দেশনায়  মাদক সম্রাট রাসেল গারো পাহাড়ে গড়ে তুলে দুই শতাধিক কিশোর গ্যংসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নারী পুরুষ মিলে এক বিশাল   বাহিনী। এ বাহিনী  রাসেল বাহিনি নামে পরিচিত ।   এ বাহিনীর সদস্যরা নালিতাবাড়ী উপজেলার

মায়াঘাসি, পানিহাতা, রামচন্দ্রকুড়া, কালাকুমা, নাকুগাঁও, দাওধারা-কাটাবাড়ী, আন্ধারুপাড়া, খলচান্দা, বুরুঙাগা, সমশ্চূড়া, কালিস্থান, ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদিগ্রাম, সন্ধ্যাকুড়া, গোমড়া, রাংটিয়া, নওকুঁচি,হালচাটি, গজনী, ছোট গজনী, বাকাকুড়া গান্ধিগাঁও  পানবর গুরুচোরনদুধনই, তাওয়াকোচা শ্রীবরদী উপজেলার রাঙ্গাজান,খাড়ামুড়া বালিজুরি, খ্রিষ্ঠানপাড়া , মেঘাদলসহ প্রায় ৫০ টি গ্রামের ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ভারত  সীমান্ত পথে অবাধে  মাদক গাঁজা, ইয়াবা, হিরোইন , ও অস্ত্রসহ ভারতীয় বিভিন্ন পন্য সামগ্রী আমদানি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে।   জনশ্রুতি রয়েছে  রাসেল বাহিনীর মাদক চোরাচালান অস্ত্র পাঁচারের কাজে ব্যবহৃত হয় পিকআপভ্যন । এ বাহিনীর নিজস্ব অর্থে ক্রয় করা অর্ধশতাধিক কভারভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটো ও  সিএনজি। স্থানীয়দের অভিযোগ রাসেল বাহিনী গারো পাহাড়ের সীমান্তে গত দুইযুগ ধরে  চোরাচালান ব্যবসা চালিয়ে আসছে। আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন অনেই ।  স্থানীয়দের অভিযোগ এ বাহিনীর প্রায়  প্রতিটি সদস্যের হাতে  আগ্নেয়াস্ত্রসহ চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় ধাড়ালো অস্ত্র রয়েছে । রাসেল বাহিনীর সদস্যরা নাকৃগাঁও এলাকা থেকে  কর্ঝুড়া পর্যন্ত  ৪০ কিলোমিটার ভারত সীমান্ত পথে প্রতিদিন কোটি টাকা মুল্যের  মাদকদ্রব্যসহ ভারতীয় বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী পাঁচার করে আসছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও শেরপুর সীমান্ত পথে বন্ধ হচ্ছে না মাদক পাঁচার। ভারতে বসবাসরত চোরাকারবারিদের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের চোরাকারবারিদের রয়েছে সখ্যতা ।  আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা মাঝেমধ্যে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে পালিয়ে থাকেন। এ বাহিনীতে স্থানীয় প্রশাসানের মদদপুষ্ট নামধারী কতিপয় সাংবাদিকের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক  দলের নেতাকর্মীদের  সঙ্গে রয়েছে রাসেল বাহিনীর গোপন আতাদ । স্থানীয়দের অভিযোগ রাসেল বাহিনীর মাদকও চোরাচালান ব্যবসা থেকে বড়খা পাচ্ছে স্থানী জনপ্রতিনিধিসহ অনেক সুবিধাভোগি। বর্তমানে শেরপুর  সীমান্তের উল্লেখিত পাহাড়ি গ্রামগুলোতে  প্রতিটি  ঘরে ঘরে  গড়ে উঠেছে মাদকও  চোরাচালান ব্যবসায়ী নারী পুরুষ। । আবার  পাহাড়ি গ্রামের নিরিহ খেটে খাওয়া লোকজনকে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা জোরপূর্বক মাদক ব্যবসায় ধাপিত করছে । কোনকোন সময় গ্রামের লোকজনকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা। কেউ মাদক ব্যবসা করতে অস্বীকার করলে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা তার ঘরে মাদক রেখে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তাকে ধরিয়ে দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।  ফলে শেরপুর  সীমান্তপথ মাদক ও অস্ত্রসহ চোরাচালানীদের  ট্রানজিট রোডে পরিণত হয়েছে। শেরপুর জেলা সদরসহ ৫ টি উপজেলার ৫২টি ইউনিয়নের যত্রতত্র হাতবাড়ালেই  মিলছে এখন মাদক। ফলে তরুনও যুব সমাজ বিপদগামী হয়ে পড়ার পাশাপাশি  আইন শৃঙ্খলা  পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।  মাদক পাঁচার  প্রতিরোধে  আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত  অভিযানে ও বন্ধ হচ্ছে না সীমান্তে মাদক পাঁচার।   জানা গেছে রাসেলের পুর্বে এ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ করতো উপজেলা সদরের জুয়েল নামে এক মাদক চোরাকারবারি। পরে রাসেল জুয়েলকে অস্ত্রের মুখে তাকে বিতারিত করে পুরো বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ দৃখলে নেয় রাসেল । স্থানীয়দের  অভিযোগ  রাসেল বাহিনীর হাতে অস্ত্র ও মাদকের চালান সরবরাহ করে থাকে নলকুড়া ও গৌরীপুর ইউনিয়নের বসবাসকারী আলী নামে এক  মাদক সম্রাট। আলী বাংলাদেশের লোক হলেও কৌশলে  তিনি ভারতের শিশিংপাড়া এলাকার বাসিন্দা বনে গেছে। এ সুবাদে আলী ভারত থেকে ট্রাকে ট্রাকে মাদক ও অস্ত্রসহ চোরাই পন্য ভারত থেকে পৌঁছে দিচ্ছে বাংলা দেশে রাসেল বাহিনীর হাতে। রাসেলের পুরো গোত্রের প্রতিজন সদস্যই বিশেষ করে নারী পুরুষসবাইএখন মাদক পাঁচারের সাথে জরিত। পুরো গারো পাহাড় এলাকার সীমান্তপথে ছরিয়ে ছিটিয়ে রয়েছে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা।  জানা গেছে, রাসেল বাহিনীর সদস্যরা মাদক পাঁচার থেকে শুরু করে অন্যকোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে বিপদ গ্রস্ত হলে মুহূর্তের মধ্যেই রাসেল বাহিনীর সদস্যরা একত্রিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। জনশ্রুতি রয়েছে রাসেল বাহিনীর সঙ্গে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কারো কারো রয়েছে দহরম মহরম সম্পর্ক । ফলে এ বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না । আবার কেউ মুখ খুললেই  তাদের উপর নেমে আসে রাসেল বাহিনীর অমানুষিক নির্যাতন ও বর্বরতা। রাসেল বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ছাড়া   সন্দেহ ভাজন কোন সাংবাদিককে পাহাড়ি এলাকায়  প্রবেশ করতে দেয়া হয়  না। । বর্তমানে   সীমান্তপথে দিনেরাতে   কোটি কোটি টাকা মূল্যের মদ গাঁজা,ইয়াবা, হিরোইন, অস্ত্র,  ফেনসিডিল কম্বল ভারতীয় কসমেটিক, শাড়ী কাপড়, চসমা, গরু, জিরা, ভারতীয় বিভিন্ন সামগ্রী আমদানি ও দেশের  বিভিন্ন স্থানে অবাধে পাঁচার করে আসছে। অভিযোগ  আইন প্রয়োগকারি সংস্থার লোকজন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে  লাখ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্যসহ   চোরাই পন্য আটকও  জব্দও   করা হচ্ছে  ।  কোন কোন সময় দু’একজন শ্রমিক আটক হলেও  গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোয়ার বাইরে। ফলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না সীমান্তে মাদক পাঁচার।  পুলিশ সুত্রে  জানা গেছে বিভিন্ন সময় ঝিনাইগাতীর শীর্ষ সন্ত্রাসী  মাদক সম্রাট রাসেল বাহিনীর  যতগুলো মাদকের চালান জব্দ করা হয়েছে প্রতিটি মাদক উদ্ধারের ঘটনায়  রাসেলের নামে মাদক মামলা দেয়া হয়েছে।  শুধু রাসেলের নামে থানায় ১৯টি মামলা রয়েছে বলে জানান থানা পুলিশ । এরপরে ও বন্ধ হয়নি শেরপুর সীমান্তে বেপরোয়া মাদক পাঁচার। পুলিশ সুত্রে জাগে রাসেল বাহিনী  নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাতে মাদক পাঁচার পয়েন্টগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি ঝিনাইগাতীর  শীর্ষ সন্ত্রাসী মাদক সম্রাট   রাসেল তার বাড়ির চার পাশে সাটিয়েছে সেন্সর লাইট। ও বাড়িতে তার পরিবারের  সুরক্ষার জন্য মাটির নিচে স্থাপন করা হয়েছে ব্যাংকার। মানব দেহের স্পর্শে সেন্সর লাইট গুলো জ্বলে  উঠে । এ সময় রাসেল বাহিনীর সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আর  খুজে পাননা। আবার কোন কোন সময় পুলিশী গ্রেপ্তার এড়াতে রাসেলসহ এ বাহিনীর সদস্যরা ভারতে আশ্রয় নেয়।  পুলিশ তাদের আর খুঁজে পায় না।  এভাবে   সীমান্ত পথে  গত দুইযুগ ধরে  চলছে রাসেল বাহিনীর  রাম রাজত্ব। গারো পাহাড়ের গ্রামগুলোতে  মাদক পাঁচারসহ নানা ধরনের  সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে রাসেল বাহিনী । এরা সুধুমাত্র মাদক চোরাচালানের সঙ্গেই সম্পৃক্ত তাই  নয়। অভিযোগ রয়েছে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা সীমান্তের পাহাড়ি গ্রামগুলোতে খুন- ধর্ষণ, ভারতে  নারি পাঁচারসহ এলাকায় বিভিন্ন  বিচার শালিশে প্রভাবশালীদের পক্ষে  দালালীর পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে  তাদের মূল পেশা । এদের  মদদ দিয়ে থাকে স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মি ও প্রাশনের কিছু সংখ্যক কর্তা ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধি। ফলে থানা পুলিশ ও ভয় পায় রাসেল বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।   জানা গেছে ২০২৪সালের   গত ফেব্রুয়ারি মাসে গোমড়া গ্রাম থেকে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা একটি পিক় আপভ্যানে করে অর্ধকোকি টাকা মুল্যেন মাদক ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌঁছে দিয়ে রাতে বাড়ি ফিরছিলো রাসেল বাহিনীর সদস্যরা। রাত ২ টার দিকে  ময়মনসিংহের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তাদের ধাওয়া  করে। এসময় শেরপুরের নকলা এলাকায় এসে তারা  আত্মগোপন করে। পরে  গ্রামবাসীরা গরু চোর সন্দেহে তাদের গণধোলাই দেয়। একপর্যায়ে  গ্রামবাসীদের গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে রাসেল বাহিনীর ২ সদস্য  মুসলে উদ্দিন ও আমির হোসেনের মৃত্যু হয়। আহত হয় আরো কয়েকজন। গোমড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম নামে এক যৃবককে গত বছর মাদক ব্যবসা করতে চাপ দেয় রাসেল বাহিনী। কিন্তু সাইফুল ইসলাম অস্বীকার করলে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা তাকে মাদক দিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেয়। পরে ওই মামলায় সাইফুল ইসলাম জামিনে আসলে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা তাকে তার পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যা করা হবে বলে হুমকি প্রদর্শন করে আসছে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা। এ প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ  ফলে সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছে বলে জানান সাইফুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন। গত মার্চ মাসে  থানা পুলিশ রাসেল বাহিনীর  অর্ধকোটি টাকার মাদক জব্দ করে। ওই মাদক সম্পর্কে  থানা পুলিশকে তথ্য দেয়ার সন্দেহে হাবিবুর রহমান নামে এক যু্বককে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয় রাসেল বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনার কয়েকদিন পর  রাসেল বাহিনীর সদস্যরা  ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণীক অপহরন করে সন্ধ্যাকুড়া রাবার বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় সুজন নামে রাবার বাগানের এক শ্রমিক ধর্ষণের  ওই  ঘটনার ভিডিও  ধারন করে। পরে রাসেল বাহিনীর সদস্যরা তাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার ও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সুজনের মা সখিনা বেগম বাদি হয়ে  থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্ত কোন কাজে আসেনি। পরে সুজন মিয়া রাবার বাগানের কাজ ফেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।  বর্তমানে গারো পাহাড়ের সীমান্ত পথে দিনেরাতে কোটি টাকা মুল্যের মাদক পাঁচার হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। চলছে বিজিবিসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান। কিন্তু কোনভাবেই মাদক পাঁচার বন্ধ হচ্ছে না। শেরপুরের মাদকদ্রব্য পাঁচার নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না । ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদিগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ নায়েব সুবেদার মো,হেলান উদ্দিন বলেন মাদক নির্মুলে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন রাসেল বাহিনীর মাদকসহ ৮টি পিকআপ ভ্যান জব্দ করেছেন তারা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় লোকজন কেউ তাদের সহযোগিতা করে না। সবাই মাদক কারবারিদের পক্ষে কথা বলে। ফলে মাদক চোরাচালান  নির্মুলে চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরো বলেন অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তুলনায় বিজিবি জোয়ানরা সবচেয়ে বেশি মাদক জব্দ করেছে  জানান তিনি । শেরপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো,রহুল আমীন জানান ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে ২০২৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ইয়াবা, গাঁজা,ভারতীয় মাদক, ১১ টি অস্ত্রসহ কোটি টাকা সুল্যের ভারতীয় বিভিন্ন  সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো, আল আমিন বলেন গত এক বছরে কোটি টাকা মূল্যের মাদকসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এবং পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার জাহিদ বলেন  মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। গত এক বছরে মাদকসহ কোটি টাকার উপরে ভারতীয় বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।   নালিতাবাড়ী,থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা  নকলা,ও শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন বলেছেন একই কথা। বিজিবির ৩৯ ব্যালিয়নের অধিনায়ক

 লেফটেন্যান্ট কর্নেল   মেহেদী হাসান পিপিএম বলেন গত এক বছরে শেরপুর সীসান্ত পথে ভারত থেকে পাচারকালে  মাদকসহ প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের সামগ্রী উদ্ধার করে বিজিবি।  তিনি আরো বলেন সীমান্তের  সর্বভৌমন্ত   রক্ষা ও ভারত থেকে মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেট বন্ধে বিজিবির অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।