ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তদারকির পর কর্মচাঞ্চল্য

সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৪.৮% পদই শূন্য,ভোগান্তিতে রোগীরা

মজনু মিয়া, গাইবান্ধা:   স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জেলা সফর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনের পর দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় গাইবান্ধাজুড়ে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক কর্মতৎপরতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও সেবার মানোন্নয়নে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। তবে বিদ্যুৎ সংকট, গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম অকেজো থাকা এবং বিপুল পরিমাণ জনবল সংকটের মুখে পড়ে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (এইচআরএম)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট অনুমোদিত ২২১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১২২ জন কর্মী। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ৯৯টি পদই ফাঁকা পড়ে রয়েছে, যা মোট অনুমোদিত জনবলের প্রায় ৪৪.৮ শতাংশ।
​চিকিৎসক ও মাঠপর্যায়ে চরম সংকট
হাসপাতালটিতে সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে চিকিৎসক ও মাঠপর্যায়ের জনবলে। ৩.১টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন। ফলে ৫৮.৬ শতাংশ অর্থাৎ ১৮টি চিকিৎসকের পদই খালি পড়ে আছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগীর ওপর। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় বহির্বিভাগ (OPD) ও অন্তর্বিভাগে (IPD) সেবা দিতে গিয়ে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত কর্মচাপ তৈরি হচ্ছে।
​অন্যদিকে, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার মূল কারিগর অর্থাৎ ফিল্ড স্টাফের ১০৮টি পদের মধ্যে খালি রয়েছে ৫৩টি পদ; কর্মরত আছেন মাত্র ৫৫ জন। এছাড়া অন্যান্য সাধারণ ক্যাটাগরির ২১টির মধ্যে ১০টি এবং ২০টির মধ্যে ১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। তবে নার্সিং সেবা ও অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রে চিত্র তুলনামূলক ভালো—৩১টি নার্স পদের মধ্যে ৩০ জন কর্মরত রয়েছেন। ৭ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের জায়গায় ৫ জন কর্মরত এবং ডেন্টাল সার্জনের ২টি পদের ১টি শূন্য রয়েছে। হোমিওপ্যাথি (এএমসি) বিভাগের একমাত্র পদটি পূরণ রয়েছে।
​প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও ওটি বন্ধ
জনবল সংকটের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেও ব্যাহত হচ্ছে সেবা। সদ্য যোগদান করা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহের পর্যাপ্ত সক্ষমতা (ভোল্টেজ) না থাকায় হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি বর্তমানে পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এ কারণে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) মূল কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে, যার ফলে সাধারণ রোগীদের বাধ্য হয়ে চড়া দামে বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
​তবে সেবা চালু করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা মমতাজ বেগমের কাছে একটি আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।”
​সচেতন মহল ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা
সম্প্রতি জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের কড়া নজরদারির পর সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিও কর্মতৎপরতা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু অবকাঠামোগত সমস্যা ও ৪৪.৮% শূন্য পদ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুততম সময়ে শূন্য পদে চিকিৎসক ও মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া এবং বন্ধ থাকা এক্স-রে ও অপারেশন থিয়েটার চালু করা হলে উপজেলার লাখো মানুষ নিজ এলাকায় মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

উপজেলা বিভিন্ন উন্নয়নে অর্থ আত্মসাৎ ব্যাখ্যা দিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ।

03 August 2026

মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জন গ্রেপ্তার, এক মাসের কারাদণ্ড

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তদারকির পর কর্মচাঞ্চল্য

সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৪.৮% পদই শূন্য,ভোগান্তিতে রোগীরা

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৬:০৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
মজনু মিয়া, গাইবান্ধা:   স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জেলা সফর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনের পর দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় গাইবান্ধাজুড়ে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক কর্মতৎপরতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও সেবার মানোন্নয়নে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। তবে বিদ্যুৎ সংকট, গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম অকেজো থাকা এবং বিপুল পরিমাণ জনবল সংকটের মুখে পড়ে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
​স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (এইচআরএম)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট অনুমোদিত ২২১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১২২ জন কর্মী। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ৯৯টি পদই ফাঁকা পড়ে রয়েছে, যা মোট অনুমোদিত জনবলের প্রায় ৪৪.৮ শতাংশ।
​চিকিৎসক ও মাঠপর্যায়ে চরম সংকট
হাসপাতালটিতে সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে চিকিৎসক ও মাঠপর্যায়ের জনবলে। ৩.১টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন। ফলে ৫৮.৬ শতাংশ অর্থাৎ ১৮টি চিকিৎসকের পদই খালি পড়ে আছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগীর ওপর। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় বহির্বিভাগ (OPD) ও অন্তর্বিভাগে (IPD) সেবা দিতে গিয়ে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত কর্মচাপ তৈরি হচ্ছে।
​অন্যদিকে, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার মূল কারিগর অর্থাৎ ফিল্ড স্টাফের ১০৮টি পদের মধ্যে খালি রয়েছে ৫৩টি পদ; কর্মরত আছেন মাত্র ৫৫ জন। এছাড়া অন্যান্য সাধারণ ক্যাটাগরির ২১টির মধ্যে ১০টি এবং ২০টির মধ্যে ১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। তবে নার্সিং সেবা ও অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রে চিত্র তুলনামূলক ভালো—৩১টি নার্স পদের মধ্যে ৩০ জন কর্মরত রয়েছেন। ৭ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের জায়গায় ৫ জন কর্মরত এবং ডেন্টাল সার্জনের ২টি পদের ১টি শূন্য রয়েছে। হোমিওপ্যাথি (এএমসি) বিভাগের একমাত্র পদটি পূরণ রয়েছে।
​প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও ওটি বন্ধ
জনবল সংকটের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেও ব্যাহত হচ্ছে সেবা। সদ্য যোগদান করা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহের পর্যাপ্ত সক্ষমতা (ভোল্টেজ) না থাকায় হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি বর্তমানে পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এ কারণে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) মূল কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে, যার ফলে সাধারণ রোগীদের বাধ্য হয়ে চড়া দামে বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
​তবে সেবা চালু করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা মমতাজ বেগমের কাছে একটি আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।”
​সচেতন মহল ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা
সম্প্রতি জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের কড়া নজরদারির পর সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিও কর্মতৎপরতা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু অবকাঠামোগত সমস্যা ও ৪৪.৮% শূন্য পদ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুততম সময়ে শূন্য পদে চিকিৎসক ও মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া এবং বন্ধ থাকা এক্স-রে ও অপারেশন থিয়েটার চালু করা হলে উপজেলার লাখো মানুষ নিজ এলাকায় মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।

Share this news as a Photo Card