ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
তাজা খবর
“কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র অভিনন্দন
উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ১৪৪ তম খুলনা দিবস!
চট্রগ্রামের জব্বারের বলি খেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হোমনার বাঘা শরীফ
কৃষকের ন্যায্য মূল্য কোথায় যায়?
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
ছদ্মবেশী অস্ত্র ‘পেনগান’
ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট
যশোরে কৃত্রিম তেল সংকটে দিশেহারা চালক ও সাধারণ মানুষ
জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন
ফুয়েল পাস নিতে নিবন্ধনের নিয়ম
সূর্যের দেখা মিললেও শীতের দাপটে কাতর দক্ষিণাঞ্চল!

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৬৭ বার পঠিত

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো: টানা এক সপ্তাহ পরে খুলনায় সূর্যের দেখা মিলেছে সামান্য উত্তাপ ছড়ালেও
উত্তরের হিমেল হাওয়ার ঝাপটায় হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশার দাপট কমেনি এতে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবনে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দিনের বেলায় অধিকাংশ এলাকায় সূর্যের দেখা মেলেনি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল চারপাশ। সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে বাধ্য হয়েছে। শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী, বয়স্ক ও ছিন্নমূল মানুষ।
পৌষের শেষ প্রান্তে এসে শহরের আশপাশ উপজেলাগুলোতে যাপটে ধরা শীতের দাপট যেন প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর রূপের সাক্ষী। ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার নিশ্ছিদ্র চাদরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো জনপদ। সূর্যের দেখা না মেলায় দিন-রাতের পার্থক্য করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই তীব্র শীতের বড় প্রভাব পড়েছে খুলনা-সড়ক মহাসড়কে। দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে সড়কে কুয়াশার কবলে যান চলাচলের ক্ষেত্রে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয় স্থবির হয়ে পরেছে কর্মজীবন । এতটাই বেশি ঘন কুয়াশা যার ফলে কয়েক হাত দূরের যানবাহনও দেখা যাচ্ছিল না। ফলে বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে চালকদের চোখেমুখে ছিল দুর্ঘটনার আতঙ্ক, আর যাত্রীদের কণ্ঠে ছিল দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকার দুর্ভোগ। একই সাথে নিত্যদিনে মাঠে কাজ করা কৃষকরাও পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বোরো ধান রোপণের প্রস্তুতি থাকলেও কনকনে ঠান্ডায় মাঠে নামা কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন কৃষকরা।
এদিকে আবার অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ।
খুলনা ২৫০ সজ্জা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতলে শীতজনিত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের ওয়ার্ড। সাথে বয়স্ক রোগীরাও ভুগছেন হাঁপানি ও তীব্র বুকের ব্যথায়। চিকিৎসকরা অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিলেও খেটে খাওয়া মানুষের সেই সুযোগ নেই। সবচেয়ে করুণ চিত্র দেখা গেছে সড়কের পাশে থাকা ছিন্নমূল মানুষদের মধ্যে। শীত নিবারণের জন্য খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের ওমে একটু উষ্ণতার খোঁজ—এই দৃশ্য নাড়া দিয়েছে মানবিক হৃদয়কে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে প্রায় ৪৭ বছর পর দেশের দক্ষিণ অঞ্চল খুলনা বিভাগ জুড়ে এত বেশি তীব্র শীত পরিলক্ষিত হচ্ছে। খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর থেকেই পুরো জেলা কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে। তীব্র ঠান্ডায় কৃষকরা জমিতে যেতে পারছেন না। ফলে ভরা বোরো মৌসুমে আবাদ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন তারা।
খুলনা শিশু হাসপাতালের কর্মরত একজন চিকিৎসক বলছেন অতিরিক্ত ঠান্ডা পরার কারণে ঠান্ডা শীতজনিত রোগে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকির মধ্য রয়েছে এদেরকে সবসময় গরম কাপড় পরানো এবং গোসলের সময় মৃদু গরম পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।একই সাথে প্রাণী কুলের ওপরও পরেছে তীব্র শীতের প্রভাব শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে কুকুর এবং অন্যান্য প্রাণী গুলো গুটিসুটি মেরে কোনরকম জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে
রোদ না ওঠা ও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে ফলে সন্ধ্যার দিকে নগরীর জজ কোর্ট এলাকায় বহু বছরের পুরাতন গাছে পাখির কলতানিও শোনা যায়নি তাছাড়া খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যারা বের হচ্ছেন, তাদের গায়ে ভারি শীতবস্ত্র দেখা গেছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে ছিন্নমূল মানুষদের খড়কুটো, কাঠ ও আবর্জনা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।


















