ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
তাজা খবর
অসুস্থ হনুমান চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিজেই হাসপাতালে হাজির মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:২১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
  • / ১২৫ বার পঠিত

পবিত্র রমাদান মাসের সিয়াম সাধনা শেষে শাওয়াল মাসের আকাশে তরবারির ন্যায় নতুন বাঁকা চাঁদ জানান দেয় পবিত্র ইদুল ফিতরের। ইদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে। ইদ মানে খুশি ইদ মানেই আনন্দ। ইদে সবাই দূর দুরান্ত থেকে ছুটে আসে নাড়ীর টানে পরিবার পরিজন আতœীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধব ছোট বেলার খেলার সাথীদের সাথে ইদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে।
ইদুল ফিতর আরবি শব্দ যার অর্থ- রোজা ভাঙ্গার আনন্দ।যার মধ্য দিয়ে সমাজের বিত্তশালীরা না খেয়ে থাকার যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে। তবে ইদুল ফিতরে যেন আমরা যাকাত,ফেতরা আদায় করে গরীব দুঃখী মানুষের সাথে ইদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি, এটাই হোক আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়।

শাহিন ইসলাম,
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

প্রতি বছর ঈদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে।
ঈদ আমার কাছে সবসময় অনেক অনেক আনন্দের একটা দিন তবে এবার ঈদটা আমার কাছে স্পেশাল। কারণ আমি আমার নিজের উপার্জন দিয়ে এই প্রথম পরিবারের সবাইকে ঈদ উপলক্ষে মোটামুটি ভালো মানের কিছু গিফট করতে যাচ্ছি। তাই অনুভূতিটা একটু অন্যরকম, উষ্ণতায় ভরা
দিনটির জন্য আমি অনেক এক্সাইটেড।
.
উম্মে জাহান উর্মি
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

.
প্রতি বছর এর ন্যায় এবছরও ঈদের আমেজ শুরু হয়ে গিয়েছে। রোজার শুরু থেকেই ঈদের আমেজ বিরাজ করলেও আমার এবারের ঈদে এই আনন্দ বিরাজ করছে না। একাডেমিক পড়াশোনা, সেমিস্টার ফাইনাল সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দ যেন হারিয়ে ফেলেছি। উপরন্তু এই প্রথমবারের মতো ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হবে না। তবে ঢাকায় আব্বু আম্মু আর বড় বোন সহ ঈদ করা হবে। হয়তো সবাই মিলে একটু ঘুরা ঘুরি করতে পারবো। তবে গ্রামের বাড়ি অনেক মিস করবো, অনেক। সেখানে ঈদের মজাই আলাদা।
রাবেয়া সুলতানা রিতু
শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
.
পরিবারের মায়া ছেড়ে বের হওয়া সন্তানেরা চাইলেও সহজে আর ফিরে যেতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করার পর আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি সেখানে সবকিছুর মাঝে অভাব শুধু পরিবারের। সারাদিনের ক্লাস, এ্যাসাইনমেন্ট, মিড, কুইজ, সংগঠন, আড্ডা, টিউশনির ভিড়ে পরিবারের কথা মনে পড়লেও বেশিক্ষণ মন খারাপ নিয়ে থাকা যায় না। চাইলেই ছুটে যেতে পারিনা পরিবারের কাছে। এই দূরত্ব কাটাতে ঈদের ছুটি আমাদের জন্য এক স্বর্গীয় সুখ। সকল ব্যস্ততা উপেক্ষা করে আমরা ফিরে আসি পরিবারের কাছে। পরিবারকে কাছে পাওয়া, তাদের ভালোবাসা, পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়া, সব যেন স্বপ্নের মতো সুন্দর। শুরু হয় বাধ ভাঙ্গা উৎসব। মায়ের ভালোবাসা, বাবার স্নেহ থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক সন্তানের মনে এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক।
.
মো: সিফাত সোহাগ
শিক্ষার্থী, সিএসই বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

এক মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের পর ঈদুল ফিতর আসে আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও কৃতজ্ঞতার বার্তা নিয়ে। তবে ঈদ কেবল নতুন পোশাক ও সুস্বাদু খাবারের উৎসব নয়—এর গভীরে লুকিয়ে আছে সাম্য, মানবতা ও হৃদয়ের বিশুদ্ধতার শিক্ষা।

ঈদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সদকাতুল ফিতর, যা সমাজের দরিদ্র মানুষদের ঈদের আনন্দে শামিল করতে সাহায্য করে। কিন্তু আমরা কি সত্যিই এই শিক্ষাগুলো হৃদয়ে ধারণ করছি? ঈদের দিনে যদি ধনী-গরিবের ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তবে সংযম ও আত্মশুদ্ধির সাধনা অর্থহীন হয়ে যায়।

তরুণদের উচিত ঈদের আনন্দকে শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আশপাশের অসহায় মানুষের সঙ্গেও ভাগ করে নেওয়া। এতিম, দুস্থ ও দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য। যদি সংযম, দানশীলতা ও সহমর্মিতার এই শিক্ষা আমরা সমাজে বাস্তবায়ন করতে পারি, তবেই ঈদ সত্যিকার অর্থে আনন্দ, শান্তি ও কল্যাণের প্রতীক হয়ে উঠবে।

মোহাম্মদ মাহিদ
বাংলা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঈদ ভাবনা

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:২১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫

পবিত্র রমাদান মাসের সিয়াম সাধনা শেষে শাওয়াল মাসের আকাশে তরবারির ন্যায় নতুন বাঁকা চাঁদ জানান দেয় পবিত্র ইদুল ফিতরের। ইদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে। ইদ মানে খুশি ইদ মানেই আনন্দ। ইদে সবাই দূর দুরান্ত থেকে ছুটে আসে নাড়ীর টানে পরিবার পরিজন আতœীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধব ছোট বেলার খেলার সাথীদের সাথে ইদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে।
ইদুল ফিতর আরবি শব্দ যার অর্থ- রোজা ভাঙ্গার আনন্দ।যার মধ্য দিয়ে সমাজের বিত্তশালীরা না খেয়ে থাকার যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে। তবে ইদুল ফিতরে যেন আমরা যাকাত,ফেতরা আদায় করে গরীব দুঃখী মানুষের সাথে ইদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি, এটাই হোক আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়।

শাহিন ইসলাম,
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

প্রতি বছর ঈদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে।
ঈদ আমার কাছে সবসময় অনেক অনেক আনন্দের একটা দিন তবে এবার ঈদটা আমার কাছে স্পেশাল। কারণ আমি আমার নিজের উপার্জন দিয়ে এই প্রথম পরিবারের সবাইকে ঈদ উপলক্ষে মোটামুটি ভালো মানের কিছু গিফট করতে যাচ্ছি। তাই অনুভূতিটা একটু অন্যরকম, উষ্ণতায় ভরা
দিনটির জন্য আমি অনেক এক্সাইটেড।
.
উম্মে জাহান উর্মি
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

.
প্রতি বছর এর ন্যায় এবছরও ঈদের আমেজ শুরু হয়ে গিয়েছে। রোজার শুরু থেকেই ঈদের আমেজ বিরাজ করলেও আমার এবারের ঈদে এই আনন্দ বিরাজ করছে না। একাডেমিক পড়াশোনা, সেমিস্টার ফাইনাল সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দ যেন হারিয়ে ফেলেছি। উপরন্তু এই প্রথমবারের মতো ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হবে না। তবে ঢাকায় আব্বু আম্মু আর বড় বোন সহ ঈদ করা হবে। হয়তো সবাই মিলে একটু ঘুরা ঘুরি করতে পারবো। তবে গ্রামের বাড়ি অনেক মিস করবো, অনেক। সেখানে ঈদের মজাই আলাদা।
রাবেয়া সুলতানা রিতু
শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
.
পরিবারের মায়া ছেড়ে বের হওয়া সন্তানেরা চাইলেও সহজে আর ফিরে যেতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করার পর আমরা যে স্বাধীনতা পেয়েছি সেখানে সবকিছুর মাঝে অভাব শুধু পরিবারের। সারাদিনের ক্লাস, এ্যাসাইনমেন্ট, মিড, কুইজ, সংগঠন, আড্ডা, টিউশনির ভিড়ে পরিবারের কথা মনে পড়লেও বেশিক্ষণ মন খারাপ নিয়ে থাকা যায় না। চাইলেই ছুটে যেতে পারিনা পরিবারের কাছে। এই দূরত্ব কাটাতে ঈদের ছুটি আমাদের জন্য এক স্বর্গীয় সুখ। সকল ব্যস্ততা উপেক্ষা করে আমরা ফিরে আসি পরিবারের কাছে। পরিবারকে কাছে পাওয়া, তাদের ভালোবাসা, পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়া, সব যেন স্বপ্নের মতো সুন্দর। শুরু হয় বাধ ভাঙ্গা উৎসব। মায়ের ভালোবাসা, বাবার স্নেহ থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক সন্তানের মনে এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক।
.
মো: সিফাত সোহাগ
শিক্ষার্থী, সিএসই বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

এক মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের পর ঈদুল ফিতর আসে আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও কৃতজ্ঞতার বার্তা নিয়ে। তবে ঈদ কেবল নতুন পোশাক ও সুস্বাদু খাবারের উৎসব নয়—এর গভীরে লুকিয়ে আছে সাম্য, মানবতা ও হৃদয়ের বিশুদ্ধতার শিক্ষা।

ঈদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সদকাতুল ফিতর, যা সমাজের দরিদ্র মানুষদের ঈদের আনন্দে শামিল করতে সাহায্য করে। কিন্তু আমরা কি সত্যিই এই শিক্ষাগুলো হৃদয়ে ধারণ করছি? ঈদের দিনে যদি ধনী-গরিবের ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তবে সংযম ও আত্মশুদ্ধির সাধনা অর্থহীন হয়ে যায়।

তরুণদের উচিত ঈদের আনন্দকে শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আশপাশের অসহায় মানুষের সঙ্গেও ভাগ করে নেওয়া। এতিম, দুস্থ ও দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য। যদি সংযম, দানশীলতা ও সহমর্মিতার এই শিক্ষা আমরা সমাজে বাস্তবায়ন করতে পারি, তবেই ঈদ সত্যিকার অর্থে আনন্দ, শান্তি ও কল্যাণের প্রতীক হয়ে উঠবে।

মোহাম্মদ মাহিদ
বাংলা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা