ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
তাজা খবর
মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও
ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন
১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী
জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ
কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম
বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা
মধুপুর শালবনে লাল সোনার সন্ধান পাওয়া গেল

অরবিন্দ রায়, স্টাফ রিপোর্টার
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:২৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৯২ বার পঠিত

অরবিন্দ রায়, স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবনে মিলেছে বিরল ও মূল্যবান রক্ত চন্দন গাছ। ধীর গতিতে বেড়ে ওঠা রক্ত চন্দন গাছ আন্তর্জাতিক ভাবে ” লাল সোনা ” নামে পরিচিত। মধুপুর দোখলা জাতীয় উদ্যানের বাংলোর সামনে রক্ত চন্দন গাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন মধুপুর গড় এলাকার লাল মাটি ও শুষ্ক পরিবেশরক্ত চন্দন গাছের জন্য উপযোগী। ধীরগতিতে বেড়ে ওঠা রক্ত চন্দন গাছটি মধুপুরের বনভূমিতে নতুন সম্ভাবনা।
মধুপুর দোখলা জাতীয় উদ্যানে কর্মরত স্হানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বল জানান, আমরা স্হানীয়রা অনেকে আগেই জেনেছি এটি রক্ত চন্দন গাছ। মূল্যবান গাছটির ক্ষতি হতে পারে ভেবে কারো কাছে প্রকাশ করিনি। কিন্ত সম্প্রতি রক্ত চন্দন গাছের কথা প্রচারিত হওয়ায় দূর – দূরান্ত থেকে মানুষ গাছটি দেখতে আসেন।
রক্ত চন্দন কাঠ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা পার্বনে ব্যবহার করা হয়। মন্দিরে দেবমূর্তি সাজাতে চন্দনের ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্টানে শুভ ও পবিএ বস্ত হিসেবে রক্ত চন্দন ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়াও আয়ুর্বেদ ওষুধ, সুগন্ধি দ্রব্য, কাঠের গুঁড়া ও নির্যাস ঔষধ, প্রসাধনী, ধর্মীয় আচার, বাদ্যযন্ত্র তৈরি, মূল্যবান আসবাব পএ, হস্তশিল্প যুগ যুগ ধরে ধনী মানুষ ব্যবহার করে আসছে।
উদ্ভিদবিদদের মতে, রক্ত চন্দন ( বৈজ্ঞানিক নাম Pterocarpus santalinus) মূলত রক্ত চন্দন গাঢ লাল রঙের কাঠের জন্য পরিচিত। রক্তচন্দন কাঠের চাহিদা চাহিদা বিশ্ববাজারে ব্যাপক রয়েছে। রক্ত চন্দন গাছ একটি বিরল, মূল্যবান ও ব্যবহার যোগ্য বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্ত চন্দন গাছ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় ও পরিপক্ব হতে দীর্ঘ সময় লাগে। একটি রক্ত চন্দন গাছ পরিপক্ক হতে ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগে ।
মধুপুর দোখলা জাতীয় উদ্যানের গেটম্যান বোলাল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই রক্তচন্দন গাছটিকে এ অবস্হায় দেখে আসছি। স্হায়ীরা অনেকেই জানতেন না এটি রক্ত চন্দন গাছ। সম্প্রতি রক্ত চন্দন গাছের কথা প্রকাশ পাবার পর থেকে দূর দুরান্ত থেকে অনেক মানুষ গাছটি দেখতে আসেন। রক্ত চন্দন গাছে খোঁচা দিলে গাছ থেকে লাল রস বের হয়। বর্তমানে গাছটি সংরক্ষণের উদ্যেগ গ্রহন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখনো রক্ত চন্দন গাছের বানিজ্যিক চাষ অনুমোদিত নয়। বাংলাদেশে রক্ত চন্দন গাছ রোপণ, সংরক্ষন, সঠিক ব্যবস্হাপনায় এই মূল্যবান গাছ ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মান বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।
পরিবেশবিদরা মনে করেন, রক্ত চন্দন শুধু অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময়। পরিকল্পিত বনায়নের মাধ্যমে রক্ত চন্দন গাছ ভবিষ্যতে দেশের বন সম্পদে নতুন মাএা যোগ করতে পারে। রক্ত চন্দন গাছ বাংলাদেশের মাটিতে সঠিক যত্ন, গবেষণা ও সচেতনতার মাধ্যমে দেশের বনভূমিতে একদিন রত্ন হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশে রক্ত চন্দন গাছকে কেন্দ্র করে কোনো আলাদা নীতিমালা, নিরাপত্তা, জরুরি সংরক্ষন পরিকল্পনা চোখে পড়ে না।
মধুপুরে রক্ত চন্দন গাছ একদিকে যেমন জীববৈচিএ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় বনসম্পদে যুক্ত হতে পারে এক নতুন সম্ভাবনা।


















