যৌথ অভিযানে ৪৫ অবৈধ রোহিঙ্গা আটক

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:১২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৬২ বার পঠিত

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় অবৈধভাবে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ। যৌথভাবে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মোট ৪৫ জন অবৈধ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় তাদের ব্যবহৃত ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জব্দ করা হয়, যা স্থানীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লোহাগাড়া উপজেলার ঠাকুরদীঘি ও উজিরভিটা এলাকায় একযোগে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন-এর উপস্থিতিতে পরিচালিত এসব অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে আটক করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, প্রথম ধাপে আটক করা হয় ৩৯ জন রোহিঙ্গাকে। তাদের মধ্যে ২২ জন পুরুষ, ৮ জন নারী এবং ১৫ জন শিশু রয়েছে। পরবর্তীতে একই দিনের আরেকটি অভিযানে আরও ৬ জন পুরুষ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৪৫ জন অবৈধ রোহিঙ্গাকে আটক করে লোহাগাড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে অভিযানের অংশ হিসেবে অবৈধভাবে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জন্য ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন একজন ব্যক্তির বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে ওই বাসা থেকে একাধিক সিম কার্ড, বেশ কয়েকটি জাতীয় পরিচয়পত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং এফসিএন কার্ডের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়। এসব আলামত জাল পরিচয়পত্র তৈরির একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, “উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৪৫ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আটক রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে এবং লোহাগাড়ায় ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।





















