১৪ ফেব্রুয়ারি: লোহাগাড়া–চট্টগ্রাম রুটে ভাড়া নৈরাজ্য, যাত্রীদের ক্ষোভ

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:১২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৪৮ বার পঠিত

মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম: ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার দিনের আবহে যখন সারাদেশের মানুষ আপন আপন গ্রামে-গঞ্জে ফিরে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আনন্দে মুখর, তখন লোহাগাড়া–চট্টগ্রাম সড়কে ভেসে উঠেছে এক ভিন্ন চিত্র। গণতন্ত্রের উৎসবে অংশ নিতে কর্মস্থল থেকে নিজ এলাকায় ফিরেছেন অসংখ্য মানুষ। লোহাগাড়ার মানুষও ছিলেন সেই শান্তিপূর্ণ গণজোয়ারের অংশ। নিরিবিলি, সহিংসতামুক্ত পরিবেশে তারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা রেখেছেন।
কিন্তু ভোটের এই আনন্দঘন পরিবেশের মাঝেই সৃষ্টি হয়েছে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে, লোহাগাড়া থেকে চট্টগ্রাম শহরমুখী মিনিবাস, বিশেষ করে ঈগল মিনিবাস সার্ভিস, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। যেখানে নিয়মিত ভাড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে, সেখানে হঠাৎ করেই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা অর্থাৎ দেড়শত টাকা।
যাত্রীরা জানান, বাড়তি এই ভাড়ার কোনো লিখিত ঘোষণা বা প্রশাসনিক নির্দেশনা নেই। তবুও সুযোগ বুঝে যাত্রীদের যেন একপ্রকার জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে নিরুপায়ভাবে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েছেন, কারণ সময়মতো কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল তাদের।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুললে গাড়ির হেলপাররা তাকে তর্কে জড়াচ্ছেন, এমনকি জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দুটিই বেড়েছে।
লোহাগাড়ার সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, গণতান্ত্রিক উৎসব শেষে এমন ভাড়া নৈরাজ্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি দ্রুত নিরসন হয় এবং ভবিষ্যতে কেউ যেন সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করতে না পারে।
গণতন্ত্রের সাফল্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সাধারণ মানুষের অধিকার হোক তা ভোটাধিকার কিংবা ন্যায্য ভাড়ায় যাতায়াতের অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত হয়। তাই লোহাগাড়া–চট্টগ্রাম সড়কে ন্যায়সংগত ভাড়া নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।





















