মিথ্যার জালে হারিয়ে যাচ্ছে মানবতা

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০২:২৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / ২২ বার পঠিত

লেখক মো আরমান হোসেন—-
বর্তমান সময়ে আমরা এমন এক সমাজে বসবাস করছি, যেখানে সত্যের চেয়ে মিথ্যার প্রচার অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যক্তিগত স্বার্থ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কিংবা পারিবারিক কলহ—সবখানেই মিথ্যার বিস্তার যেন উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। আর এই মিথ্যার জালেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে মানবতা, নষ্ট হচ্ছে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ।
একটা সময় ছিলো যখন মানুষ কোন বিপদে পরলে তাকে বাঁচানো জন্য সবাই চেষ্টা করেছে, রাতে থাকার সমস্যা হলে আশ্রয় দিয়েছে থাকার জন্য। শহরে এসেছে কাজ পাই না কাজ দিয়েছে, চিকিৎসার করবে টাকার জন্য চিকিৎসা করাতে পারছে না টাকা দিয়েছে। এমন ভাবে যে যেমন বিপদে পরেছে তাকে তেমনি ভাবে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য সবাই চেষ্টা করেছে এবং সে বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে। মুসাফির আসলে থাকে থাকা খাওয়ার ব্যবস্তা করে দেওয়া হয়ছে, তার সাথে এমন ব্যবহার করা হতো যে সে কতই না আপনজন। আর এত সুন্দর মানবতা থাকার কারন তা ছিলো একদম সত্য, যখুনি মানুষ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের সুবিধা ভোগের জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিলো, তখুনি এই মানবতা ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেলো। এই সুবিধা ভোগী মানুষ গুলোর জন্য সত্যিকারে বিপদ গ্রস্ত মানুষ আজ সাহায্য পাচ্ছে না, সবার মনে ঢুকেছে সন্দেহ।
মানবতার মূল ভিত্তি হলো সত্য, ন্যায় ও সততা। কিন্তু যখন মানুষ নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তখন সত্য চাপা পড়ে যায়। নিরপরাধ মানুষ অপমানিত হয়, অনেকের জীবন ধ্বংস হয়ে যায়, অথচ প্রকৃত সত্য অনেক সময় আর প্রকাশই পায় না। একটি মিথ্যা খবর, একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ কিংবা একটি বিকৃত তথ্য মুহূর্তেই একজন মানুষের সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারে। আর কথায় আছে সত্যের মৃত্যু নেই, সত্য যখন প্রকাশ পাই ততদিনে মানুষটির সম্মান মাটির সাথে মিশিয়ে যায়, কেউ আবার তার জীবটা জেলের ভিতর কাটিয়ে ফেলে। তার সত্যতার প্রমান যথা সময়ে দেখাতে না পারার কারনে মিথ্যাকে মেনে নিয়ে মূল্যবান জীবন মূল্যহীন হয়ে পরে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অনেকেই সত্যতা নিশ্চিত না করেই বিভিন্ন গুজব প্রচার করেন। এর ফলে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ে এবং মানবিক সম্পর্কগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। মিথ্যা যখন বারবার বলা হয়, তখন অনেকে সেটাকেই সত্য বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে, যা একটি সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে, মিথ্যা, ভূয়া খবর এমন ভাবে ভিডিও তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছে যা বুঝা বড় দায় হয়ে যায়, যে এটি মিথ্যা। এই সুন্দর প্লাটফর্ম টাও আজ মিথ্যার আশ্রয়ে মানুষের নিকট বিশ্বাস টা হারিয়ে যাবে। যেকোনো সত্য খবর আসলেও নিজের ব্যক্তির স্বার্থে তা বিশ্বাস না করে গুজব বলে চালিয়ে দিবে। তাই এই এআই প্রযুক্তির জন্য আমি মনেকরি তারা এমন কিছু এই সফটওয়্যারে যোগ করুক যার ফলে এআই ব্যবহার করে কেউ কিছু করলে তা যেন সহজে বুঝা যায়, অর্থাৎ কোন লোগো যেন থাকে তাহলে সত্য মিথ্যা সহজে বুঝা যাবে। নতুবা দেখা যাবে মানুষ যে হাড়ে মিথ্যার জালে জড়িয়ে যাচ্ছে একসময় মানবতা আর এই সমাজে থাকবে না।
মানবতা কেবল দান-খয়রাত বা সহানুভূতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানবতা হলো সত্যের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং কাউকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ না করা। কিন্তু যখন মিথ্যার প্রভাব সমাজে বাড়তে থাকে, তখন মানুষ সত্য জানার চেয়ে নিজের সুবিধামতো তথ্য বিশ্বাস করতে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে। ফলে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হয় এবং মানবিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এভাবে আজ সমাজ মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার ফলে মানবতা হারিয়ে যাচ্ছে।
তাই আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো সত্য যাচাই করা, গুজব থেকে দূরে থাকা এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে সচেতন অবস্থান নেওয়া। কারণ মিথ্যার জালে যদি মানবতা হারিয়ে যায়, তবে সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না।
সত্যকে ধারণ করাই মানবতাকে বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র পথ। মিথ্যার অন্ধকার যতই ঘন হোক না কেন, সত্যের আলো একদিন সেই অন্ধকার দূর করবেই। মানবতাকে রক্ষা করতে হলে আমাদের সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।





















