আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি: সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাত এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে ঝালকাঠির বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে নলছিটি, কাঠালিয়া ও রাজাপুর উপজেলার অন্তত ২০টিরও বেশি গ্রামের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে কৃষি খাতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পাশাপাশি সুগন্ধা, বিষখালীসহ জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। এতে নলছিটি উপজেলার শৌলজালিয়া, কাঠালিয়া উপজেলার আমুয়া, পাটিখালঘাটা, হেতালবুনিয়া, রাজাপুর উপজেলার প্রেমহারসহ অন্তত ২০টিরও বেশি গ্রামের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে।
পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।
এদিকে, কৃষকদের কপালে নেমে এসেছে দুশ্চিন্তার ছাপ। প্লাবিত হয়েছে রোপা আমন ধান, আমনের বীজতলা এবং পেঁপে, লাউ, কাকরোল, চিচিঙ্গা, চালকুমড়াসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ক্ষেত। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও এবার টানা বৃষ্টি ও অতিরিক্ত জোয়ারে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে জনদুর্ভোগ ও কৃষিক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি 



















