ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
খাল খনন থেকে সড়ক সংস্কার

ঝালকাঠি পৌরসভার কাজে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:    ঝালকাঠি পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। খাল খনন, সড়ক সংস্কার, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণসহ প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ প্রকল্পের নামফলক বা ভিত্তিফলকে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ না করায় প্রকৃত ব্যয় সম্পর্কে জনসাধারণকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ঝালকাঠি পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র অপসারিত হলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার ও সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি চলতি বছরের ১৩ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে পৌর এলাকার সাতটি খাল খননের জন্য ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই বছরের ২৮ আগস্ট তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম কাজের উদ্বোধন করেন। তবে সাতটির মধ্যে ছয়টি খালের কাজ শুরু হলেও তা অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং একটি খালের কাজ শুরুই হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অসমাপ্ত খালের কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা বেড়েছে। খালগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়ে মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কাজের অগ্রগতি প্রায় অর্ধেক হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমিরী বিল্ডার্সকে প্রায় ৭০ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পৌর এলাকায় প্রায় ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার, ৮৫০ মিটার ড্রেন, ৫০০ মিটার ফুটপাত এবং ১১টি অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ টাকার বিল ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া এডিবি প্রকল্পের আওতায় জরুরি মেরামতের জন্য আরও ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পৌরবাসীর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিছু প্রকল্পে জেলার বাইরের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, খাল খননের নামে খালগুলো নষ্ট করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি মশার উপদ্রবও বেড়েছে। কলেজ রোডের বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর বাদলের অভিযোগ, শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে কলেজ মোড় পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিং শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই উঠে যেতে শুরু করেছে।
জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুবিনুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেন, প্রশাসকের ঘনিষ্ঠ একটি সিন্ডিকেট অধিকাংশ কাজ নিয়ন্ত্রণ করেছে। অপরদিকে আমিনুল ইসলাম সুমনের দাবি, অতীতে কম ব্যয়ে সম্পন্ন হওয়া একই ধরনের কাজ এবার কয়েক গুণ বেশি ব্যয়ে করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, জেলা সুজনের সম্পাদক ও টিআইবির সনাক সদস্য ইসমাঈল মুসাফির বলেন, কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ বিল পরিশোধের বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের নামফলকে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করা নীতিগতভাবে জরুরি। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সুজন পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে এবং টিআইবির সনাক সভায় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী টি. এম. রেজাউল হক রিজভী বলেন, খাল খননকাজের প্রায় ৫৩ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ায় সে অনুযায়ী চলমান বিল দেওয়া হয়েছে। রাস্তার কার্পেটিংয়ে ত্রুটির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যান্য প্রকল্পেও গুণগত মান নিশ্চিতের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক পৌর প্রশাসক ও ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয়

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও নবগঠিত কমিটির সংবর্ধনা

05 August 2026

যানজটে নাকাল নগরবাসী, কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিরব!

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

খাল খনন থেকে সড়ক সংস্কার

ঝালকাঠি পৌরসভার কাজে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১২:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:    ঝালকাঠি পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। খাল খনন, সড়ক সংস্কার, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণসহ প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ প্রকল্পের নামফলক বা ভিত্তিফলকে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ না করায় প্রকৃত ব্যয় সম্পর্কে জনসাধারণকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর ঝালকাঠি পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র অপসারিত হলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার ও সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি চলতি বছরের ১৩ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে পৌর এলাকার সাতটি খাল খননের জন্য ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই বছরের ২৮ আগস্ট তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম কাজের উদ্বোধন করেন। তবে সাতটির মধ্যে ছয়টি খালের কাজ শুরু হলেও তা অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং একটি খালের কাজ শুরুই হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অসমাপ্ত খালের কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা বেড়েছে। খালগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়ে মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কাজের অগ্রগতি প্রায় অর্ধেক হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমিরী বিল্ডার্সকে প্রায় ৭০ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পৌর এলাকায় প্রায় ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার, ৮৫০ মিটার ড্রেন, ৫০০ মিটার ফুটপাত এবং ১১টি অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ টাকার বিল ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া এডিবি প্রকল্পের আওতায় জরুরি মেরামতের জন্য আরও ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পৌরবাসীর অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিছু প্রকল্পে জেলার বাইরের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, খাল খননের নামে খালগুলো নষ্ট করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি মশার উপদ্রবও বেড়েছে। কলেজ রোডের বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর বাদলের অভিযোগ, শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে কলেজ মোড় পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিং শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই উঠে যেতে শুরু করেছে।
জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুবিনুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করেন, প্রশাসকের ঘনিষ্ঠ একটি সিন্ডিকেট অধিকাংশ কাজ নিয়ন্ত্রণ করেছে। অপরদিকে আমিনুল ইসলাম সুমনের দাবি, অতীতে কম ব্যয়ে সম্পন্ন হওয়া একই ধরনের কাজ এবার কয়েক গুণ বেশি ব্যয়ে করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, জেলা সুজনের সম্পাদক ও টিআইবির সনাক সদস্য ইসমাঈল মুসাফির বলেন, কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ বিল পরিশোধের বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের নামফলকে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করা নীতিগতভাবে জরুরি। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সুজন পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে এবং টিআইবির সনাক সভায় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী টি. এম. রেজাউল হক রিজভী বলেন, খাল খননকাজের প্রায় ৫৩ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ায় সে অনুযায়ী চলমান বিল দেওয়া হয়েছে। রাস্তার কার্পেটিংয়ে ত্রুটির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যান্য প্রকল্পেও গুণগত মান নিশ্চিতের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক পৌর প্রশাসক ও ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

Share this news as a Photo Card