ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
ভবদহের জলাবদ্ধতা

শত কোটি টাকার প্রকল্পের পরও ডুবছে জনপদ, প্রশ্নের মুখে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন

জেমস আব্দুর রহিম রানা :দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে ভবদহের নাম এখন আর কেবল একটি জলাবদ্ধ এলাকার পরিচয় নয়; এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, ব্যর্থ পরিকল্পনা, অসমাপ্ত প্রকল্প এবং প্রশাসনিক ধীরগতির এক বেদনাদায়ক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই সংকট, একই দুর্ভোগ এবং একই প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি দেখতে দেখতে ভবদহপাড়ের মানুষ আজ ক্লান্ত। অথচ বাস্তবতা হলো, শত কোটি টাকা ব্যয়ে নদী ও খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও চলতি বর্ষায় আবারও যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। নতুন করে মণিরামপুর উপজেলার লখাইডাঙ্গা এলাকায় মুক্তেশ্বরী নদীর বেড়িবাঁধ ধ্বসে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠেছে।
মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার পাশাপাশি খুলনার ডুমুরিয়া এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ বর্তমানে জলাবদ্ধতার কবলে। শতাধিক গ্রামের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, বাজার, সড়ক ও কৃষিজমি পানিতে নিমজ্জিত। বহু পরিবার বাড়ির উঠানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে। কোথাও গবাদিপশু উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে, কোথাও টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পানির নিচে চলে গেছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ সামলানোর মতো কার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটেছে। ভবদহ অঞ্চলের বিভিন্ন বিল উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। কুলটিয়া, নেহালপুর, লখাইডাঙ্গা, পাঁচাকড়ি, বালিদহ, দিঘলিয়া, পোড়াডাঙ্গা, মনোহরপুর, ভবানীপুর, রোজিপুরসহ অসংখ্য গ্রাম এখন জলাবদ্ধতার শিকার। হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সাম্প্রতিক সময়ে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১৪০ কোটি টাকার নদী ও খাল খনন প্রকল্পকে ঘিরে। সরকারিভাবে দাবি করা হয়েছিল, হরি, হরিহর, টেকা, শ্রী, তেলেগাতী ও আপার ভদ্রা নদী খননের মাধ্যমে ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার টেকসই সমাধান হবে। স্থানীয় মানুষও সেই আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু বর্ষার প্রথম ধাক্কাতেই সেই আশার বেলুন যেন চুপসে গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নদী খননের কাজ চলাকালে খুলনার খর্ণিয়া এলাকায় তেলেগাতী নদীর ওপর অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ওই এলাকার নদীপথে ব্যাপক পলি জমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে উজানের পানি এবং বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক গতিতে নিষ্কাশিত হতে পারেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী খননের পাশাপাশি পানি প্রবাহের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না হওয়ায় কোটি টাকার প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে অভয়নগরের আমডাঙ্গা খাল সংস্কার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন আগে কাজের অনুমোদন হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই খাল এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়নি। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, আমডাঙ্গা খাল সচল হলে ভবদহ অঞ্চলের একটি বড় অংশের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ভবদহ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ শুধু ঘরবাড়ি হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাছের ঘের ভেসে যাচ্ছে, কৃষিজমি ডুবে ফসল নষ্ট হচ্ছে, গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং স্যানিটেশন সংকট দিন দিন বাড়ছে। স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় ছোট নৌকা ছাড়া চলাচলের বিকল্প নেই।
স্থানীয় আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, কেবল নদী খনন নয়, ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বৈজ্ঞানিক ও পরিকল্পিত টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তাদের মতে, নদীকে তার স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ফিরিয়ে না দিলে খননকৃত নদী আবারও পলিতে ভরে যাবে এবং কয়েক বছর পর পর একই সংকট ফিরে আসবে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই আশঙ্কাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করছেন, সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকটি স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের আশা, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করার আগেই কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? কেন প্রতিবছর একই সমস্যায় লাখো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে? কেন শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু সড়কে আশ্রয় নিতে হচ্ছে? কেন আমডাঙ্গা খাল, নদী খনন এবং পানি ব্যবস্থাপনার কাজগুলো সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা গেল না?
ভবদহের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি জলাবদ্ধতার ঘটনা নয়; এটি উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষ এখন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা আর সাময়িক সমাধান নয়, ভবদহ সমস্যার স্থায়ী ও বৈজ্ঞানিক সমাধান দেখতে চায়। কারণ প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ, একই কান্না এবং একই প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে ভবদহপাড়ের মানুষের ধৈর্যের বাঁধও এখন ভাঙনের মুখে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়
02 August 2026

ঢাকার চক্রাকার নৌপথে চালু হবে ওয়াটার বাস: নৌ-পরিবহনমন্ত্রী

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

ভবদহের জলাবদ্ধতা

শত কোটি টাকার প্রকল্পের পরও ডুবছে জনপদ, প্রশ্নের মুখে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১২:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
জেমস আব্দুর রহিম রানা :দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে ভবদহের নাম এখন আর কেবল একটি জলাবদ্ধ এলাকার পরিচয় নয়; এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, ব্যর্থ পরিকল্পনা, অসমাপ্ত প্রকল্প এবং প্রশাসনিক ধীরগতির এক বেদনাদায়ক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই সংকট, একই দুর্ভোগ এবং একই প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি দেখতে দেখতে ভবদহপাড়ের মানুষ আজ ক্লান্ত। অথচ বাস্তবতা হলো, শত কোটি টাকা ব্যয়ে নদী ও খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও চলতি বর্ষায় আবারও যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। নতুন করে মণিরামপুর উপজেলার লখাইডাঙ্গা এলাকায় মুক্তেশ্বরী নদীর বেড়িবাঁধ ধ্বসে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠেছে।
মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার পাশাপাশি খুলনার ডুমুরিয়া এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ বর্তমানে জলাবদ্ধতার কবলে। শতাধিক গ্রামের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, বাজার, সড়ক ও কৃষিজমি পানিতে নিমজ্জিত। বহু পরিবার বাড়ির উঠানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে। কোথাও গবাদিপশু উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে, কোথাও টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পানির নিচে চলে গেছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ সামলানোর মতো কার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটেছে। ভবদহ অঞ্চলের বিভিন্ন বিল উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। কুলটিয়া, নেহালপুর, লখাইডাঙ্গা, পাঁচাকড়ি, বালিদহ, দিঘলিয়া, পোড়াডাঙ্গা, মনোহরপুর, ভবানীপুর, রোজিপুরসহ অসংখ্য গ্রাম এখন জলাবদ্ধতার শিকার। হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সাম্প্রতিক সময়ে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১৪০ কোটি টাকার নদী ও খাল খনন প্রকল্পকে ঘিরে। সরকারিভাবে দাবি করা হয়েছিল, হরি, হরিহর, টেকা, শ্রী, তেলেগাতী ও আপার ভদ্রা নদী খননের মাধ্যমে ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার টেকসই সমাধান হবে। স্থানীয় মানুষও সেই আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু বর্ষার প্রথম ধাক্কাতেই সেই আশার বেলুন যেন চুপসে গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নদী খননের কাজ চলাকালে খুলনার খর্ণিয়া এলাকায় তেলেগাতী নদীর ওপর অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ওই এলাকার নদীপথে ব্যাপক পলি জমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে উজানের পানি এবং বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক গতিতে নিষ্কাশিত হতে পারেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী খননের পাশাপাশি পানি প্রবাহের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না হওয়ায় কোটি টাকার প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে অভয়নগরের আমডাঙ্গা খাল সংস্কার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন আগে কাজের অনুমোদন হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই খাল এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়নি। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, আমডাঙ্গা খাল সচল হলে ভবদহ অঞ্চলের একটি বড় অংশের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ভবদহ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ শুধু ঘরবাড়ি হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাছের ঘের ভেসে যাচ্ছে, কৃষিজমি ডুবে ফসল নষ্ট হচ্ছে, গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং স্যানিটেশন সংকট দিন দিন বাড়ছে। স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় ছোট নৌকা ছাড়া চলাচলের বিকল্প নেই।
স্থানীয় আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, কেবল নদী খনন নয়, ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বৈজ্ঞানিক ও পরিকল্পিত টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তাদের মতে, নদীকে তার স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ফিরিয়ে না দিলে খননকৃত নদী আবারও পলিতে ভরে যাবে এবং কয়েক বছর পর পর একই সংকট ফিরে আসবে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই আশঙ্কাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করছেন, সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকটি স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের আশা, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করার আগেই কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? কেন প্রতিবছর একই সমস্যায় লাখো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে? কেন শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু সড়কে আশ্রয় নিতে হচ্ছে? কেন আমডাঙ্গা খাল, নদী খনন এবং পানি ব্যবস্থাপনার কাজগুলো সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা গেল না?
ভবদহের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি জলাবদ্ধতার ঘটনা নয়; এটি উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষ এখন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা আর সাময়িক সমাধান নয়, ভবদহ সমস্যার স্থায়ী ও বৈজ্ঞানিক সমাধান দেখতে চায়। কারণ প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ, একই কান্না এবং একই প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে ভবদহপাড়ের মানুষের ধৈর্যের বাঁধও এখন ভাঙনের মুখে।

Share this news as a Photo Card