ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

বর্ষায় জেগে ওঠে ঐতিহ্যের হাট, নৌকার জমজমাট বেচাকেনা

আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:   বর্ষার পানি বাড়তেই আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঝালকাঠির সীমান্তবর্তী শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী আটঘর নৌকার হাট। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই মৌসুমি নৌকার হাটে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা। খালের দুই পাড়জুড়ে সারি সারি কাঠের নৌকা আর ক্রেতাদের দরকষাকষিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো হাট। বর্ষাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে হাজারো নৌকার বেচাকেনা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ডিঙি নৌকা থেকে শুরু করে বড় আকৃতির মালবাহী নৌকা পর্যন্ত বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা—উভয়ভাবেই চলছে কেনাবেচা। কাঠের মান, আকার ও নকশাভেদে নৌকার দাম দেড় হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। একই সঙ্গে ৭০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বৈঠা।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, বর্ষা মৌসুমে পেয়ারা, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনে কাঠের নৌকার বিকল্প নেই। বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজ, যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নৌকাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে আসা এক ক্রেতা বলেন, “বর্ষাকালে জমি থেকে গবাদিপশুর জন্য ঘাস কেটে নৌকায় করেই বাড়িতে আনতে হয়। তাই বছরের প্রায় ছয় মাস নৌকা আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় সঙ্গী।”
আটঘর হাটের ইজারাদার মো. ইকবাল হাওলাদার জানান, বর্ষা মৌসুমে এ হাটে তিন থেকে চার হাজার নৌকা কেনাবেচা হয়। এ বাণিজ্য থেকে প্রতিবছর সরকার কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে।
নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের চামি গ্রামের নৌকা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মো. কবির, আব্দুর রহিম, মো. কাইয়ুম, মো. মালেক ও মো. শাহাবুদ্দিন জানান, বংশপরম্পরায় তাঁরা নৌকা তৈরির সঙ্গে জড়িত। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কম খরচে নৌকা তৈরি করে সাশ্রয়ী দামে বিক্রি করেন। বর্ষা মৌসুমই তাঁদের বছরের প্রধান ব্যবসার সময়।
স্থানীয়দের মতে, আটঘর নৌকার হাট কেবল একটি বাজার নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের নদীনির্ভর জীবন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক। আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের পরও গ্রামীণ জনপদে কাঠের নৌকার গুরুত্ব অটুট রয়েছে। বর্ষা এলেই তাই নতুন উদ্দীপনায় জেগে ওঠে শতবর্ষের এই ঐতিহ্যবাহী হাট।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয়

লোহাগড়া উপজেলা কৃষকদলের নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে মিছিল

20 September 2026

নাঙ্গলকোট গ্রাজুয়েটস অ্যাসোসিয়েশন'র অভিষেক ও আহ্বায়ক কমিটি গঠন

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

বর্ষায় জেগে ওঠে ঐতিহ্যের হাট, নৌকার জমজমাট বেচাকেনা

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:০১:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:   বর্ষার পানি বাড়তেই আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঝালকাঠির সীমান্তবর্তী শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী আটঘর নৌকার হাট। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই মৌসুমি নৌকার হাটে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা। খালের দুই পাড়জুড়ে সারি সারি কাঠের নৌকা আর ক্রেতাদের দরকষাকষিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো হাট। বর্ষাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে হাজারো নৌকার বেচাকেনা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ডিঙি নৌকা থেকে শুরু করে বড় আকৃতির মালবাহী নৌকা পর্যন্ত বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা—উভয়ভাবেই চলছে কেনাবেচা। কাঠের মান, আকার ও নকশাভেদে নৌকার দাম দেড় হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। একই সঙ্গে ৭০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বৈঠা।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, বর্ষা মৌসুমে পেয়ারা, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনে কাঠের নৌকার বিকল্প নেই। বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজ, যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নৌকাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে আসা এক ক্রেতা বলেন, “বর্ষাকালে জমি থেকে গবাদিপশুর জন্য ঘাস কেটে নৌকায় করেই বাড়িতে আনতে হয়। তাই বছরের প্রায় ছয় মাস নৌকা আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় সঙ্গী।”
আটঘর হাটের ইজারাদার মো. ইকবাল হাওলাদার জানান, বর্ষা মৌসুমে এ হাটে তিন থেকে চার হাজার নৌকা কেনাবেচা হয়। এ বাণিজ্য থেকে প্রতিবছর সরকার কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে।
নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের চামি গ্রামের নৌকা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মো. কবির, আব্দুর রহিম, মো. কাইয়ুম, মো. মালেক ও মো. শাহাবুদ্দিন জানান, বংশপরম্পরায় তাঁরা নৌকা তৈরির সঙ্গে জড়িত। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কম খরচে নৌকা তৈরি করে সাশ্রয়ী দামে বিক্রি করেন। বর্ষা মৌসুমই তাঁদের বছরের প্রধান ব্যবসার সময়।
স্থানীয়দের মতে, আটঘর নৌকার হাট কেবল একটি বাজার নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের নদীনির্ভর জীবন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতীক। আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের পরও গ্রামীণ জনপদে কাঠের নৌকার গুরুত্ব অটুট রয়েছে। বর্ষা এলেই তাই নতুন উদ্দীপনায় জেগে ওঠে শতবর্ষের এই ঐতিহ্যবাহী হাট।

Share this news as a Photo Card