
নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘায় মাদকবিরোধী অভিযানে কুখ্যাত মাদক কারবারি সাইফুল ইসলামসহ চারজনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকি ফয়সাল তালুকদার এ সাজা দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাঘা-লালপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় বাঘা থানার এসআই (নিঃ) শেখ আবু জামিল হাসানের নেতৃত্বে চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল পুলিশ। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে তল্লাশি চালিয়ে নাজমুল ইসলাম ও শিমুল উদ্দিনের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদকসেবী জীবন উদ্দিনকেও আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত সাইফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশ। অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ছিলেন বাঘা থানার এসআই শেখ আবু জামিল হাসান, বজলুর রহমান ও এএসআই (নিঃ) ফিরোজ আহাম্মদ সহ পুলিশের সদস্যরা। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাইফুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
পরে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে তেঁথুলিয়া বাজারের চার রাস্তার মোড়ে যান ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সেখানে স্থানীয় জনসাধারণের উদ্দেশে মাদকবিরোধী ও জনসচেতনতামূলক বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকি ফয়সাল তালুকদার। এ সময় তিনি মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে মাদক নির্মূলে সবাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হকের নির্দেশে এসআই ফিরোজ আহমেদ ও বজলুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল তেঁথুলিয়া কামারপাড়া মোড়ের নিরা নামের এক ব্যাক্তির বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চিহ্নিত মাদক কারবারী সাইফুল ইসলাম কে আটক করা হয়। আটক চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, বাঘা উপজেলার তেঁথুলিয়া মাউদপাড়া গ্রামের মৃত আলহাজ্ব হযরত আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৫২), আহমদপুর গ্রামের জারমান আলীর ছেলে জীবন উদ্দিন (২৮), নাটোরের লালপুর উপজেলার অমৃতপাড়া গ্রামের বয়েজ উদ্দিনের ছেলে নাজমুল ইসলাম (২৮) এবং বেরিলাবাড়ী গ্রামের আলিম উদ্দিনের ছেলে শিমুল উদ্দিন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সাইফুল ইসলামকে এক বছরের কারাদণ্ড, নাজমুল ইসলামকে এক মাস, জীবন উদ্দিনকে এক মাস এবং শিমুল উদ্দিনকে দুই সপ্তাহের কারাদণ্ড দেন।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকি ফয়সাল তালুকদার বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের সাজা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বাঘা সীমান্ত ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

রবিউল ইসলাম 



















