
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার রুস্তমপুর বাজারে ভ্যানচালককে চেতনানাশক খাওয়ানোর সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন – বাঘা নতুনপাড়া গ্রামের ছাপাত আলীর ছেলে মিলন ও তরিকুল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও তারা মাদক ও চুরির একাধিক মামলায় জেলহাজতে গিয়েছেন।
জানা যায়, চক সিংগা গ্রামের হাফিজুল রহমানের ছেলে ভ্যানচালক হামিদুল রহমান মাহাফুজের ভ্যানে দুই যাত্রী আড়ানী বাজার থেকে নন্দনগাছি বাজারে যাওয়ার কথা বলে রিজার্ভ করেন। পথে তারা গন্তব্য পরিবর্তন করে জানান, মিলনের স্ত্রী চারঘাট মেডিকেলে ভর্তি থাকায় সেখানে যেতে হবে। এতে ভ্যানচালক মাহাফুজের সন্দেহ হয়।
মাহাফুজ জানান, চারঘাটের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে ওই দুই ব্যক্তি হঠাৎ ভ্যান থামাতে বলেন। পরে একটি দোকান থেকে দুটি লাচ্ছির বোতল কিনে তারা নিজেরা পান করার পর তাকে খেতে দেন। প্রথমে তিনি লাচ্ছি খেতে রাজি হননি। পরে তাদের জোরাজুরিতে খাওয়ার সময় লাচ্ছির সঙ্গে মুখে শক্ত কিছু অনুভব করেন। সেটি মুখ থেকে বের করে তিনি হলুদ রঙের একটি ট্যাবলেটের অংশ দেখতে পান। এরপর সেটি ফেলে দেন। এরই মধ্যে লাচ্ছির কিছু অংশ খাওয়ায় তার মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে।
বিষয়টি বুঝতে পেরে মাহাফুজ কৌশলে ভ্যান ঘুরিয়ে রুস্তমপুর বাজারের দিকে ফিরে আসেন এবং স্থানীয়দের বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয়রা ওই দুইজনকে আটক করে রাখেন।
খবর পেয়ে বাঘা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিলন ও তরিকুলকে হেফাজতে নেয়। পরে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সল তালুকদার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে মিলনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং তরিকুলকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে গাঁজা ও সেবনের উপকরণ, একটি চুল কাটার আধুনিক মেশিন এবং ব্যান্ডেজের কাজে ব্যবহৃত গজ পাওয়া যায় বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে জব্দ করা এসব সামগ্রী ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট করা হয়।
আড়ানী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন লিটন বলেন, চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন কাউকে আটক করলে কেউ যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেন এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সল তালুকদার বলেন, থানা সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া মাদক ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করে ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট করা হয়েছে।

রবিউল ইসলাম 



















