ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা

অবহেলায় হারাচ্ছে প্রাণচাঞ্চল্য, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

মজনু মিয়া, গাইবান্ধা:   গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রে উপজেলা চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ডুবে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টির পরই মাঠজুড়ে পানি জমে থাকায় খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং জনসাধারণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে এমন জলাবদ্ধতা অব্যবস্থাপনারই বহিঃপ্রকাশ।
শহীদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি বাঙালির ভাষা আন্দোলনের গৌরব, আত্মত্যাগ ও জাতীয় চেতনার প্রতীক। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এখানেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন সর্বস্তরের মানুষ। অথচ বছরের অধিকাংশ সময় মাঠে পানি জমে থাকায় এর সৌন্দর্য ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
একসময় বিকেল হলেই এই মাঠে শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী ও যুবকদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকতো পরিবেশ। নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার পাশাপাশি এটি ছিল সুস্থ বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র। স্থানীয়দের মতে, এমন উন্মুক্ত মাঠ তরুণদের মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। কিন্তু দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় সেই পরিবেশ এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
শুধু খেলাধুলাই নয়, মাঠটিতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবসের আয়োজন এবং ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে পানি জমে থাকায় এসব আয়োজনও ব্যাহত হচ্ছে।
মাঠটির এক পাশে উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) কার্যালয় এবং অন্য পাশে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আনসার সদস্যরা দাপ্তরিক কাজে এখানে আসেন। এছাড়া সন্ধ্যার পর সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীদেরও সমাগম ঘটে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে। কিন্তু মাঠে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় তাদের চলাচলেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সাইদার রহমান বলেন,মাঠে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় চলাচলে খুবই সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবী, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাঠটি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হোক। একই সঙ্গে শহীদ মিনারের মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
সচেতন মহলের আশা, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠকে জলাবদ্ধতামুক্ত করে আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

পুলিশের যানবাহনে নাশকতার শঙ্কা, দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

02 August 2026

খুলনা ছাত্রকল্যাণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা

অবহেলায় হারাচ্ছে প্রাণচাঞ্চল্য, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:৩৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
মজনু মিয়া, গাইবান্ধা:   গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রে উপজেলা চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ডুবে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টির পরই মাঠজুড়ে পানি জমে থাকায় খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং জনসাধারণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে এমন জলাবদ্ধতা অব্যবস্থাপনারই বহিঃপ্রকাশ।
শহীদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি বাঙালির ভাষা আন্দোলনের গৌরব, আত্মত্যাগ ও জাতীয় চেতনার প্রতীক। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এখানেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন সর্বস্তরের মানুষ। অথচ বছরের অধিকাংশ সময় মাঠে পানি জমে থাকায় এর সৌন্দর্য ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
একসময় বিকেল হলেই এই মাঠে শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী ও যুবকদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকতো পরিবেশ। নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার পাশাপাশি এটি ছিল সুস্থ বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র। স্থানীয়দের মতে, এমন উন্মুক্ত মাঠ তরুণদের মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। কিন্তু দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় সেই পরিবেশ এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
শুধু খেলাধুলাই নয়, মাঠটিতে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবসের আয়োজন এবং ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে পানি জমে থাকায় এসব আয়োজনও ব্যাহত হচ্ছে।
মাঠটির এক পাশে উপজেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) কার্যালয় এবং অন্য পাশে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আনসার সদস্যরা দাপ্তরিক কাজে এখানে আসেন। এছাড়া সন্ধ্যার পর সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীদেরও সমাগম ঘটে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে। কিন্তু মাঠে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় তাদের চলাচলেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সাইদার রহমান বলেন,মাঠে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় চলাচলে খুবই সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবী, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাঠটি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হোক। একই সঙ্গে শহীদ মিনারের মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
সচেতন মহলের আশা, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠকে জলাবদ্ধতামুক্ত করে আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Share this news as a Photo Card