ঢাকা, বাংলাদেশ। , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি

প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:২৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
  • / ১৯৮ বার পঠিত

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। এটি মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব, যা পরিবারের সবাইকে একত্রিত করে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য পরিবার থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়। তারা চাইলেও নিয়মিত বাড়ি ফিরতে পারে না, মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ নিতে পারে না। প্রয়োজনের বেড়াজালে আটকে তারা শহরে কাটায় দিনগুলো।
তবে ঈদ এলেই শিক্ষার্থীদের মনে এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে। শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদ মানে শুধু উৎসব নয়, বরং দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরার এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস। বাড়ি ফেরার যে তীব্র ইচ্ছা সারাবছর মনে পুষে রাখে, তা সত্যি হওয়ার সুযোগ পায়। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশনের চাপ থেকে মুক্তি মেলে কয়েক দিনের জন্য। হল বা মেসের একঘেয়ে খাবার ছেড়ে শিক্ষার্থীরা মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ পায়।

ঈদ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে থাকে নানা ভাবনা। কেউ পরিকল্পনা করে ঈদের ছুটিটা কীভাবে কাটাবে, কেউ অপেক্ষায় থাকে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য। ঈদের আনন্দ শুধু নতুন জামাকাপড় বা ভালো খাবারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সবচেয়ে বড় আনন্দ পরিবারের কাছে ফেরা, পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সুন্দর সময় কাটানো।

ঈদ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান

❝বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ঈদ কিছুটা আনন্দের বাড়তি মাত্রা যোগ করে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই পরিবার পরিজন রেখে দূরে থাকে। ঈদ সব ব্যস্ততা-পড়াশুনাকে পাশ কাটিয়ে বাড়িতে যাওয়ার উপলক্ষ্য তৈরী করে দেয়। ফলে দীর্ঘদিন পর পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং পাড়া-প্রতিবেশিদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হওয়ায় আমরা আনন্দিত হই। ঈদে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ায় ক্লাস-পরীক্ষা ইত্যাদি দৈনন্দিন একঘেয়ে কার্যক্রম থেকেও আমরা কিছুটা মুক্তি লাভ করি। তাছাড়া বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ঘোরাঘুরি, আড্ডা দেয়াতো আছেই। ঈদ আমাদের জন্য নিয়ে আসে আনন্দের অকৃত্রিম কিছু সময়।❞

আব্দুল্লাহ আল-মামুন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

❝ইদ মানে আনন্দ, উৎসব আর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো। পরিবার-পরিজন ছাড়া ইদ অসম্পূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার পর থেকে আপন শিকড় থেকে দূরে থাকা শুরু। সারা বছর ক্লাস, পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন, ভাইভা, টিউশন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। শত ইচ্ছা থাকলেও সচারাচর বাড়ি ফেরা হয় না। একটি বছর পরে রমজানের দীর্ঘ ছুটি সেই সুযোগ করে দেয় । শুরু হয় বাড়ি ফেরার উচ্ছ্বাস। ক্যাম্পাস জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয় ‘ ভাই, বাড়ি যাবেন কবে?’ বাড়ি থেকে মা বলেন ‘বাড়ি আইবি কবে?’ বাড়ি ফেরার প্রহর যেন কিছুতেই শেষ হতে চায় না। বাস-ট্রেনের টিকিট পাওয়া, দীর্ঘ যাত্রা—সবকিছু মিলিয়ে ইদের আগের দিনগুলো হয় রোমাঞ্চকর ও ক্লান্তিকর। অবশেষে বাড়ি ফিরে পরিবারের মুখের হাসি দেখলে সারা বছরের ক্লান্তি এক নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। মায়ের হাতের রান্না করা সুস্বাদু খাবার আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় । এছাড়া স্কুল, কলেজ এর বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়ার এটাই সুযোগ। এসময় সবাই বাড়িতে থাকে। পুরনো বন্ধুদের সাথে ইফতার করা, আড্ডা দেওয়া, ঘুরতে যাওয়া ইদের ছুটিকে আরও আনন্দময় করে তুলে। নিজ এলাকার মানুষের সাথে ইদ উপভোগ করার মজা-ই আলাদা। ইদের নামাজ, নামাজ শেষে কোলাকুলি করা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেমাই খাওয়া – এসব স্মৃতি কখনো পুরাতন হবার নয়।
কিন্তু ইদ পরবর্তী সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা, আমার ইদের আনন্দকে কিছুটা বিঘ্নিত করেছে।
সকলকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। ইদের আনন্দ ধনী-গরীব সকলের মধ্যে সমান ভাবে বিরাজ করুক। এই ইদ সকলের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনুক। সামর্থ্যবানদের নিকট একটা-ই আবেদন, খেয়াল রাখবেন যেন আপনার আশেপাশের গরীব-অসহায় পরিবারটি অর্থাভাবে ইদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। ইদের আনন্দ হোক সার্বজনিক, সকলের। ❞

সালমান হোসেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

❝ঈদ আমার কাছে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এক গভীর অনুভূতির নাম। বছরের বাকি দিনগুলো যখন ব্যস্ততায় কেটে যায়, তখন ঈদ আসে এক প্রশান্তির বাতাস হয়ে। পরিবারের সান্নিধ্যে থাকা, প্রিয়জনদের হাসিমুখ দেখা, নতুন পোশাকে নিজেকে সাজানোএসবের মধ্যেই ঈদের আসল আনন্দ লুকিয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়, কিন্তু ঈদ মানেই সেই দূরত্ব ঘুচে যাওয়া। সকাল থেকে শুরু হয় ঈদের প্রস্তুতি—সুন্দর করে সাজানো ঘর, আতর-সুগন্ধির মনমাতানো গন্ধ, নামাজ শেষে একে অপরকে জড়িয়ে ধরা, আর মায়ের হাতে রান্না করা খাবারের স্বাদ—সব মিলিয়ে ঈদের দিনটা হয়ে ওঠে এক ভালোবাসার বন্ধন। বড় দের থেকে ঈদ সালামি নেওয়া একটা বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত।
প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রাণচঞ্চল পরিবেশ হয়তো মিস করি, কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে ঠিকই যোগাযোগ হয়। ঈদের শুভেচ্ছা জানানো, একে অপরের ছবি দেখা, কখনো-বা ভিডিও কলে হাসি-ঠাট্টা—সব মিলিয়ে ঈদ শুধু একটা দিনের উৎসব নয়, বরং এটি একটি আবেগ, একটি অপেক্ষার নাম, যেখানে আনন্দ, ভালোবাসা আর আন্তরিকতা একসঙ্গে মিশে থাকে।।❞

মিফতাহুল জান্নাত তাকিয়া
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

❝ঈদ আসলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ি ফেরার এক বিশেষ অনুভূতি। একদিকে যেমন পড়াশোনার চাপে ঘর থেকে দূরে থাকা, তেমনি ঈদে পরিবারকে মিস করার অনুভূতিও বেড়ে যায়। ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরলে সারা বছরের ক্লান্তি মুহূর্তে যেন মিলিয়ে যায়। পাড়া, পাড়া, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি, মা-বাবার স্নেহ এবং বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-খুশিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিরতা আর চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার এক অনন্য সময় এটি, যা আমাদেরকপ মনে রাখার মতো স্মৃতি তৈরি করে। কিন্তু এর ভিন্নতাও রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদের সময় পরীক্ষার প্রস্তুতি বা অ্যাসাইনমেন্টের চাপও থাকে। তবে, তারা ঈদের মাধ্যমে এক ধরনের বিশ্রাম বা মুক্তি অনুভব করতে চায়। এসব কিছুকে পিছনে ফেলে মায়ের ভালোবাসা, বাবার স্নেহ থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক সন্তানের মনে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক।❞

মোঃ সামিন বখশ সাদী
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

❝ঈদ, মুসলমানদের জন্য বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর একটি। ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং ত্যাগ, কৃতজ্ঞতা এবং একে অপরকে সহানুভূতির প্রতীক। ঈদ আসে আনন্দ নিয়ে এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করার সুযোগ নিয়ে,ঈদ আনন্দ আর সম্পর্কের নতুন করে সেতুবন্ধন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রিয়জনদের হাসিমুখ দেখা—এসবই ঈদের আসল সৌন্দর্য।আমরা,জীবন নিয়ে যতই ব্যস্ত থাকি না কেনো,ঈদ এর সময় সব ব্যস্ততা উপেক্ষা করে ছুটে আসি পরিবার এর কাছে ঈদ এর আনন্দ ভাগ করে নিতে।আমার কাছে রোজার ঈদ টা খুব পছন্দের।ছোটবেলায় ভাবতাম কবে রোজা শেষ হবে,কবে ঈদ আসবে। চাঁদরাত টা আমার কাছে খুব স্পেশাল ।পরিবারের সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দেওয়া,বোন রা মিলে মেহেদী পড়া ,একটা আলাদা রকম অনুভুতি কাজ করে।❞

রোদেলা রীতি
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:২৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। এটি মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব, যা পরিবারের সবাইকে একত্রিত করে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য পরিবার থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়। তারা চাইলেও নিয়মিত বাড়ি ফিরতে পারে না, মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ নিতে পারে না। প্রয়োজনের বেড়াজালে আটকে তারা শহরে কাটায় দিনগুলো।
তবে ঈদ এলেই শিক্ষার্থীদের মনে এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে। শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদ মানে শুধু উৎসব নয়, বরং দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরার এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস। বাড়ি ফেরার যে তীব্র ইচ্ছা সারাবছর মনে পুষে রাখে, তা সত্যি হওয়ার সুযোগ পায়। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশনের চাপ থেকে মুক্তি মেলে কয়েক দিনের জন্য। হল বা মেসের একঘেয়ে খাবার ছেড়ে শিক্ষার্থীরা মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ পায়।

ঈদ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে থাকে নানা ভাবনা। কেউ পরিকল্পনা করে ঈদের ছুটিটা কীভাবে কাটাবে, কেউ অপেক্ষায় থাকে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য। ঈদের আনন্দ শুধু নতুন জামাকাপড় বা ভালো খাবারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সবচেয়ে বড় আনন্দ পরিবারের কাছে ফেরা, পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সুন্দর সময় কাটানো।

ঈদ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান

❝বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ঈদ কিছুটা আনন্দের বাড়তি মাত্রা যোগ করে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই পরিবার পরিজন রেখে দূরে থাকে। ঈদ সব ব্যস্ততা-পড়াশুনাকে পাশ কাটিয়ে বাড়িতে যাওয়ার উপলক্ষ্য তৈরী করে দেয়। ফলে দীর্ঘদিন পর পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং পাড়া-প্রতিবেশিদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হওয়ায় আমরা আনন্দিত হই। ঈদে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ায় ক্লাস-পরীক্ষা ইত্যাদি দৈনন্দিন একঘেয়ে কার্যক্রম থেকেও আমরা কিছুটা মুক্তি লাভ করি। তাছাড়া বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ঘোরাঘুরি, আড্ডা দেয়াতো আছেই। ঈদ আমাদের জন্য নিয়ে আসে আনন্দের অকৃত্রিম কিছু সময়।❞

আব্দুল্লাহ আল-মামুন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

❝ইদ মানে আনন্দ, উৎসব আর পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো। পরিবার-পরিজন ছাড়া ইদ অসম্পূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার পর থেকে আপন শিকড় থেকে দূরে থাকা শুরু। সারা বছর ক্লাস, পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন, ভাইভা, টিউশন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। শত ইচ্ছা থাকলেও সচারাচর বাড়ি ফেরা হয় না। একটি বছর পরে রমজানের দীর্ঘ ছুটি সেই সুযোগ করে দেয় । শুরু হয় বাড়ি ফেরার উচ্ছ্বাস। ক্যাম্পাস জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয় ‘ ভাই, বাড়ি যাবেন কবে?’ বাড়ি থেকে মা বলেন ‘বাড়ি আইবি কবে?’ বাড়ি ফেরার প্রহর যেন কিছুতেই শেষ হতে চায় না। বাস-ট্রেনের টিকিট পাওয়া, দীর্ঘ যাত্রা—সবকিছু মিলিয়ে ইদের আগের দিনগুলো হয় রোমাঞ্চকর ও ক্লান্তিকর। অবশেষে বাড়ি ফিরে পরিবারের মুখের হাসি দেখলে সারা বছরের ক্লান্তি এক নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। মায়ের হাতের রান্না করা সুস্বাদু খাবার আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় । এছাড়া স্কুল, কলেজ এর বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়ার এটাই সুযোগ। এসময় সবাই বাড়িতে থাকে। পুরনো বন্ধুদের সাথে ইফতার করা, আড্ডা দেওয়া, ঘুরতে যাওয়া ইদের ছুটিকে আরও আনন্দময় করে তুলে। নিজ এলাকার মানুষের সাথে ইদ উপভোগ করার মজা-ই আলাদা। ইদের নামাজ, নামাজ শেষে কোলাকুলি করা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেমাই খাওয়া – এসব স্মৃতি কখনো পুরাতন হবার নয়।
কিন্তু ইদ পরবর্তী সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা, আমার ইদের আনন্দকে কিছুটা বিঘ্নিত করেছে।
সকলকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। ইদের আনন্দ ধনী-গরীব সকলের মধ্যে সমান ভাবে বিরাজ করুক। এই ইদ সকলের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনুক। সামর্থ্যবানদের নিকট একটা-ই আবেদন, খেয়াল রাখবেন যেন আপনার আশেপাশের গরীব-অসহায় পরিবারটি অর্থাভাবে ইদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। ইদের আনন্দ হোক সার্বজনিক, সকলের। ❞

সালমান হোসেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

❝ঈদ আমার কাছে শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এক গভীর অনুভূতির নাম। বছরের বাকি দিনগুলো যখন ব্যস্ততায় কেটে যায়, তখন ঈদ আসে এক প্রশান্তির বাতাস হয়ে। পরিবারের সান্নিধ্যে থাকা, প্রিয়জনদের হাসিমুখ দেখা, নতুন পোশাকে নিজেকে সাজানোএসবের মধ্যেই ঈদের আসল আনন্দ লুকিয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়, কিন্তু ঈদ মানেই সেই দূরত্ব ঘুচে যাওয়া। সকাল থেকে শুরু হয় ঈদের প্রস্তুতি—সুন্দর করে সাজানো ঘর, আতর-সুগন্ধির মনমাতানো গন্ধ, নামাজ শেষে একে অপরকে জড়িয়ে ধরা, আর মায়ের হাতে রান্না করা খাবারের স্বাদ—সব মিলিয়ে ঈদের দিনটা হয়ে ওঠে এক ভালোবাসার বন্ধন। বড় দের থেকে ঈদ সালামি নেওয়া একটা বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত।
প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রাণচঞ্চল পরিবেশ হয়তো মিস করি, কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে ঠিকই যোগাযোগ হয়। ঈদের শুভেচ্ছা জানানো, একে অপরের ছবি দেখা, কখনো-বা ভিডিও কলে হাসি-ঠাট্টা—সব মিলিয়ে ঈদ শুধু একটা দিনের উৎসব নয়, বরং এটি একটি আবেগ, একটি অপেক্ষার নাম, যেখানে আনন্দ, ভালোবাসা আর আন্তরিকতা একসঙ্গে মিশে থাকে।।❞

মিফতাহুল জান্নাত তাকিয়া
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

❝ঈদ আসলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়ি ফেরার এক বিশেষ অনুভূতি। একদিকে যেমন পড়াশোনার চাপে ঘর থেকে দূরে থাকা, তেমনি ঈদে পরিবারকে মিস করার অনুভূতিও বেড়ে যায়। ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরলে সারা বছরের ক্লান্তি মুহূর্তে যেন মিলিয়ে যায়। পাড়া, পাড়া, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি, মা-বাবার স্নেহ এবং বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-খুশিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিরতা আর চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার এক অনন্য সময় এটি, যা আমাদেরকপ মনে রাখার মতো স্মৃতি তৈরি করে। কিন্তু এর ভিন্নতাও রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদের সময় পরীক্ষার প্রস্তুতি বা অ্যাসাইনমেন্টের চাপও থাকে। তবে, তারা ঈদের মাধ্যমে এক ধরনের বিশ্রাম বা মুক্তি অনুভব করতে চায়। এসব কিছুকে পিছনে ফেলে মায়ের ভালোবাসা, বাবার স্নেহ থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক সন্তানের মনে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক।❞

মোঃ সামিন বখশ সাদী
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

❝ঈদ, মুসলমানদের জন্য বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর একটি। ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং ত্যাগ, কৃতজ্ঞতা এবং একে অপরকে সহানুভূতির প্রতীক। ঈদ আসে আনন্দ নিয়ে এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করার সুযোগ নিয়ে,ঈদ আনন্দ আর সম্পর্কের নতুন করে সেতুবন্ধন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রিয়জনদের হাসিমুখ দেখা—এসবই ঈদের আসল সৌন্দর্য।আমরা,জীবন নিয়ে যতই ব্যস্ত থাকি না কেনো,ঈদ এর সময় সব ব্যস্ততা উপেক্ষা করে ছুটে আসি পরিবার এর কাছে ঈদ এর আনন্দ ভাগ করে নিতে।আমার কাছে রোজার ঈদ টা খুব পছন্দের।ছোটবেলায় ভাবতাম কবে রোজা শেষ হবে,কবে ঈদ আসবে। চাঁদরাত টা আমার কাছে খুব স্পেশাল ।পরিবারের সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দেওয়া,বোন রা মিলে মেহেদী পড়া ,একটা আলাদা রকম অনুভুতি কাজ করে।❞

রোদেলা রীতি
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়