
অপু দাস, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীর সবুজায়ন আরও সম্প্রসারণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
নগরীর সিএন্ডবি মোড় এলাকায় আরএমপি সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজশাহীকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন (রিডা)-এর সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচির যৌথ আয়োজন করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) এবং রাজশাহীর সাংবাদিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য রাজশাহী মহানগরীকে আরও বেশি সবুজ করে গড়ে তুলতে হবে। রাজশাহীকে সবুজ নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য গত দুই থেকে তিন দশক ধরে যে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, তার সুফল বর্তমানে নগরবাসী পাচ্ছেন। এ অর্জনের পেছনে রাজশাহী জেলা ও মহানগরের সর্বস্তরের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় রাজশাহী যে সবুজ নগরীর পরিচিতি অর্জন করেছে, সেটি ধরে রাখা সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও নগরীর পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনোভাবেই এ অর্জন নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
নিজের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, তার মেয়র পদে দায়িত্ব পালনকালে গত ১৭ বছরে রাজশাহী মহানগরী বিভিন্ন সময়ে সারা বাংলাদেশের মধ্যে ১৪ বার প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ধারাবাহিকভাবে পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের কারণে রাজশাহী বর্তমানে দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি ও হেলদি সিটি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সবুজায়ন নয়, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। রাজশাহী মহানগরী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রেও একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। নগরীর সার্বিক উন্নয়ন ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা ও পরিবেশ রক্ষায় এর ভূমিকা তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবন ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গাছের কোনো বিকল্প নেই। বৃক্ষ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ছাড়ার মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পৃথিবীতে পর্যাপ্ত গাছপালা না থাকলে কোনো প্রাণীর অস্তিত্বই টিকে থাকা সম্ভব হতো না।
তিনি বলেন, পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক নাগরিককে বৃক্ষরোপণকে দায়িত্ব হিসেবে নিতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণও করতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী মহানগরীর সবুজায়নে আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন ভূমিমন্ত্রী। একই সঙ্গে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন তিনি। নগরীর পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবার অবদানের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
রিডার সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলুর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রাজশাহী মহানগরীর পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। তারা বলেন, নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। পরে উপস্থিত মানুষের মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজশাহী মহানগরীর সবুজ পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করা এবং নাগরিকদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অপু দাস, রাজশাহী 



















