
মফিজুল ইসলাম, নীলফামারী: নীলফামারীর ডিমলা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২১ পিস ইয়াবা, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও নগদ এক লাখ ৫২ হাজার টাকাসহ মোঃ মোস্তাকিম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তি সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়া মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)।
গ্রেপ্তার মোঃ মোস্তাকিম ডিমলা উপজেলার শোভনগঞ্জ ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়া গ্রামের মোঃ সবুর উদ্দিনের ছেলে।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী তেলিয়াপাড়া মোড় এলাকায় মাদক কারবারের খবর পেয়ে হাবিলদার মোঃ আলী ওসমানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মোস্তাকিম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে টহল দল তাকে ধাওয়া করে আটক করে।
পরে তার দেহ ও সঙ্গে থাকা মালামাল তল্লাশি করে ২১ পিস ইয়াবা, দুটি স্মার্টফোন, দুটি সিমকার্ড, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি স্কুল ব্যাগ এবং মাদক বিক্রির নগদ এক লাখ ৫২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা ইয়াবা ও অন্যান্য আলামতসহ উদ্ধার মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য তিন লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা।
বিজিবি আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তাকিম সীমান্ত এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত আরও দুই ব্যক্তির নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—ডিমলার ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামের মোঃ মোকলেস হোসেন এবং মোঃ জহির উদ্দিন ওরফে জুয়েল। তবে তারা অভিযানের সময় পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে বিজিবি।
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, গ্রেপ্তার মোস্তাকিমকে উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য জব্দ মালামালসহ ডিমলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান ও মাদক কারবার বন্ধে বিজিবির নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশরাফুল ইসলাম দৈনিক নাগরিক ভাবনাকে বলেন, “বিজিবি আলামতসহ আটক আসামিকে থানায় হস্তান্তর করেছে। এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। আটক আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এজাহারভুক্ত পলাতক অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মফিজুল ইসলাম, নীলফামারী 



















