ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

ডেঙ্গুর থাবা আরও বিস্তৃত, হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছেই

আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:    ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ জন। বর্তমানে জেলার চারটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৭ জন রোগী।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২৬ জন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে এবং তিনজন নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্বাস্থ্য বিভাগকে ভাবিয়ে তুলেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৮৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৭৪ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৫৭ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বেসরকারি সূত্রে জেলায় চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনজন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। জ্বর দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে কোথাও পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জেলা প্রশাসন ও ঝালকাঠি পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে শহরের বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়।

অভিযানকালে জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেসব বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা কিংবা প্রজননের উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয়

লোহাগড়া উপজেলা কৃষকদলের নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে মিছিল

20 September 2026

নাঙ্গলকোট গ্রাজুয়েটস অ্যাসোসিয়েশন'র অভিষেক ও আহ্বায়ক কমিটি গঠন

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

ডেঙ্গুর থাবা আরও বিস্তৃত, হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছেই

সর্বশেষ পরিমার্জন : ১১:৩১:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

আবু জাফর বিশ্বাস, ঝালকাঠি:    ঝালকাঠিতে ডেঙ্গু সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ জন। বর্তমানে জেলার চারটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৭ জন রোগী।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২৬ জন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে এবং তিনজন নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্বাস্থ্য বিভাগকে ভাবিয়ে তুলেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৮৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৭৪ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ৫৭ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বেসরকারি সূত্রে জেলায় চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনজন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। জ্বর দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে কোথাও পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জেলা প্রশাসন ও ঝালকাঠি পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে শহরের বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়।

অভিযানকালে জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেসব বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা কিংবা প্রজননের উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card