ঢাকা , বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220
ময়লার ভাগাড়ে আমুর বাড়ি

পরিত্যক্তভবনে জমছে বর্জ্য: রাতের আঁধারে মাদকসেবীদের আনাগোনা

আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল:   একসময় জেলার রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এই বাড়ি। দলীয় নেতা-কর্মীদের পদচারণায় মুখর থাকা সেই ভবন এখন নীরব, ধ্বংসস্তূপ আর ময়লা-আবর্জনার স্তূপে ঢেকে গেছে। ঝালকাঠি শহরের রোনালসে সড়কে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর বাসভবনটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত। দীর্ঘদিন অরক্ষিত পড়ে থাকায় এটি স্থানীয়দের কাছে ময়লা ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি ভবনটিকে ঘিরে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে এখনও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চিহ্ন স্পষ্ট। ভাঙা দরজা-জানালা, ক্ষতিগ্রস্ত দেয়াল, পোড়া কক্ষ এবং চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা ভবনটির বর্তমান চিত্র তুলে ধরে। ভবনের ভেতর ও বাইরে জমে থাকা বর্জ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে আশপাশের বাসিন্দারা দুর্ভোগের কথা জানান।

ভবনের কয়েকটি কক্ষে মাদক সেবনের ব্যবহৃত বলে ধারণা করা কিছু সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের বেলায় পরিত্যক্ত এই ভবনে বিভিন্ন অসামাজিক ব্যক্তির আনাগোনা থাকে। এতে এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরের মে মাসে রাতের আঁধারে কে বা কারা ভবনের প্রধান ফটক ও সামনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ টিন দিয়ে ঘিরে দেয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী সেই টিনের বেড়া অপসারণ করেন। সে সময় ভবনের সামনে টানানো একটি ব্যানারে লেখা ছিল—“আমাকে ব্যবহার করুন, পৌরবাসীর ময়লা ফেলার স্থান।

ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগে বাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরের আসবাবপত্র পুড়ে যায়। তাঁর ভাষ্য, পরবর্তীতে ওই বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনাও আলোচনায় আসে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভবনটিতে আবারও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে এবং স্থানীয়দের ময়লা ফেলার কারণে কার্যত একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্থানে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “বর্তমানে এটি যে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, তা থেকে ফ্যাসিস্টদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।

আমির হোসেন আমু ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক শিল্পমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ঝালকাঠিতে অবস্থানকালে তিনি এই বাসভবন থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আলোচিত এই ভবনটি এখন অবহেলা, ধ্বংস এবং পরিবেশ দূষণের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিবেশের ক্ষতি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

হালুয়াঘাটে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, প্লাবিত পৌর শহর সহ বিভিন্ন এলাকা

05 August 2026

নীলফামারীতে ক্রিকেট প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান

বিস্তারিত পড়তে কমেন্টে লিংক ... |
nagorikbhabna.com

ময়লার ভাগাড়ে আমুর বাড়ি

পরিত্যক্তভবনে জমছে বর্জ্য: রাতের আঁধারে মাদকসেবীদের আনাগোনা

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০১:০১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল:   একসময় জেলার রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এই বাড়ি। দলীয় নেতা-কর্মীদের পদচারণায় মুখর থাকা সেই ভবন এখন নীরব, ধ্বংসস্তূপ আর ময়লা-আবর্জনার স্তূপে ঢেকে গেছে। ঝালকাঠি শহরের রোনালসে সড়কে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুর বাসভবনটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত। দীর্ঘদিন অরক্ষিত পড়ে থাকায় এটি স্থানীয়দের কাছে ময়লা ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি ভবনটিকে ঘিরে মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে এখনও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চিহ্ন স্পষ্ট। ভাঙা দরজা-জানালা, ক্ষতিগ্রস্ত দেয়াল, পোড়া কক্ষ এবং চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা ভবনটির বর্তমান চিত্র তুলে ধরে। ভবনের ভেতর ও বাইরে জমে থাকা বর্জ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে আশপাশের বাসিন্দারা দুর্ভোগের কথা জানান।

ভবনের কয়েকটি কক্ষে মাদক সেবনের ব্যবহৃত বলে ধারণা করা কিছু সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের বেলায় পরিত্যক্ত এই ভবনে বিভিন্ন অসামাজিক ব্যক্তির আনাগোনা থাকে। এতে এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরের মে মাসে রাতের আঁধারে কে বা কারা ভবনের প্রধান ফটক ও সামনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ টিন দিয়ে ঘিরে দেয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী সেই টিনের বেড়া অপসারণ করেন। সে সময় ভবনের সামনে টানানো একটি ব্যানারে লেখা ছিল—“আমাকে ব্যবহার করুন, পৌরবাসীর ময়লা ফেলার স্থান।

ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগে বাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতরের আসবাবপত্র পুড়ে যায়। তাঁর ভাষ্য, পরবর্তীতে ওই বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনাও আলোচনায় আসে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভবনটিতে আবারও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে এবং স্থানীয়দের ময়লা ফেলার কারণে কার্যত একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্থানে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “বর্তমানে এটি যে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, তা থেকে ফ্যাসিস্টদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।

আমির হোসেন আমু ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক শিল্পমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ঝালকাঠিতে অবস্থানকালে তিনি এই বাসভবন থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আলোচিত এই ভবনটি এখন অবহেলা, ধ্বংস এবং পরিবেশ দূষণের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিবেশের ক্ষতি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।

Share this news as a Photo Card