অপু দাস, রাজশাহী: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সানাউল্লাহ শাওনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৫, রাজশাহী।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমনে র্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরীর বয়স ১৪ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার নানার বাড়িতে বসবাস করতেন। সেই সুবাদে একই এলাকার বাসিন্দা ও আত্মীয় সানাউল্লাহ শাওনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা যায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় চার মাস আগে অভিযুক্ত সানাউল্লাহ শাওন কিশোরীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পুঠিয়া উপজেলার বিলমারিয়া এলাকার একটি আমবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় ও সুযোগে একই স্থানে নিয়ে গিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুনরায় কিশোরীকে ওই আমবাগানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে রাজশাহীর পুঠিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০২৫) এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সানাউল্লাহ শাওনকে একমাত্র আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিকে গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে র্যাব। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং অনুসন্ধানের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
র্যাব-৫ জানায়, শনিবার (১ আগস্ট) ভোররাত ২টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার খড়খড়ি এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় স্থানীয় একটি বাড়ির সামনে থেকে সানাউল্লাহ শাওনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে র্যাব দাবি করেছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে পুঠিয়া থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপু দাস, রাজশাহী 
















