নাঈম ইসলাম
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক প্রস্তাবিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘ তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সরকারিকরন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনতিবিলম্বে বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি প্রেরন করা হয়েছে।
বলছিলাম ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা পৌর সদরে অবস্থিত কটিয়াদী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কথা ।
জানা যায়, “শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ১৯৯৩ সালে অবহেলিত এই অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে তৎকালীন সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়া নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের প্রস্তাবনা দেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয়টি জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসরণের পাশাপাশি বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের নিকট জরুরি হস্তক্ষেপ চান স্থানীয়রা। তাঁর মায়ের স্মৃতিবিজড়িত এই বিদ্যাপিঠটিকে সরকারীকরণের লক্ষে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা উপজেলাবাসীর”।
বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থী শান্তা রহমান বলেন, সরকারীকরণ না হওয়ায় অন্যান্য সরকারি স্কুলের তুলনায় পরিক্ষার বেতন-ফি,বোর্ড পরিক্ষার রেজিস্ট্রেশন বা ফরম পূরণসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালাউদ্দিন ভূঁইয়া সবুজ বলেন, উপজেলার সবচেয়ে বড় নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এটি। কিন্তু সরকারীকরণ করার প্রস্তাবনা থাকলেও বিগত আ.লীগ সরকার কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা এই স্কুলটি সরকারীকরণ হলে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না।
এই বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও অত্র প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরিফুর রহমান কাঞ্চন বলেন, “এই বিদ্যালয়টি ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। যে কয়টি বিদ্যালয় নিজেদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে কটিয়াদীতে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠিত করে যাচ্ছেন এর মধ্যে কটিয়াদি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অন্যতম”।
তিনি বলেন, ১৯৯৩ সালে যখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল তখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তৎকালীন উপদেষ্টা কামাল সিদ্দিকী সাহেব এই স্কুলটি সরকারীকরণের জন্য একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে এটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই বিদ্যালয়টি অবহেলিত, তার অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন হয় নাই। সদরের ভিতর একটা বালিকা বিদ্যালয় যেরকম থাকার কথা ছিল সেরকম নেই।
আরিফুর রহমান বলেন, আজকে আমাদের কটিয়াদীরের প্রত্যেকটা মানুষের প্রত্যাশা বেগম জিয়া যেহেতু একটি ওয়াদা করেছিলেন যে এই স্কুলটির সরকারীকরণ করবে, সেটা আমরা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য কিশোরগঞ্জ-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীনের মাধ্যমে একটি চিঠি প্রেরণ করেছি। সেই চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, “দীর্ঘ ১৭ বছরেও স্কুলটি সরকারীকরণ হয়নি কিংবা তার অবকাঠামোগত উন্নয়ন যা প্রয়োজন তা হয়নি। আমরা আশা করব আগামী ১৬ই আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান কটিয়াদীতে আসছেন। আমাদের স্মারকলিপির মাধ্যমে এই স্কুলটি সরকারিকরণের জন্য আবেদন রাখবো। আমরা আশা করি বেগম জিয়ার যে প্রস্তাবনা ইনশাল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে।
এই বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত) মো. আলতাফ হোসেন বলেন, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এটি। একটি বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য যে শর্তগুলো রয়েছে তার কোনোটারই ঘাটতি নেই। জাতীয়করণ হওয়ার দরকার বলে আমি মনে করি।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 





















