
জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর :
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙ্গুড়া গরুর হাট। ঢাকা-যশোর মহাসড়কের একেবারে পাশে হওয়ায় প্রতি হাটবারে এখানে জমে ওঠে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম। কিন্তু হাটে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় সেই সমাগমের চাপ গিয়ে পড়ছে ব্যস্ততম মহাসড়কের ওপর। গরু-ছাগল ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বিভিন্ন যানবাহন মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় সংকুচিত হয়ে পড়ছে সড়কের চলাচলপথ। সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটবারে ভাঙ্গুড়া বাজার এলাকায় প্রবেশ করলেই দেখা যায় মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ট্রাক, পিকআপ, গরু ছাগল বহনকারী অবৈধ যানবাহন ভটভটি, ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বৈধ-অবৈধ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। কেউ গরু নিয়ে এসেছেন, কেউ ক্রেতা হিসেবে এসেছেন, আবার কেউ গরু পরিবহনের জন্য যানবাহন নিয়ে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু এসব যানবাহন রাখার জন্য হাটের ভেতরে পর্যাপ্ত ও সুশৃঙ্খল পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় মহাসড়কের ওপরই তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী পার্কিং।
এতে ঢাকা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশ্যে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাস, জরুরি রোগী বহনকারী এম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনকে হাটের অংশে এসে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন একই সময়ে পাশ কাটাতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাশাপাশি গরু-ছাগল সড়কের ওপর চলে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতি হাটবারেই একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে এমন একটি বড় পশুর হাট পরিচালিত হলেও সেখানে পর্যাপ্ত পার্কিং ও যানবাহন ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা না থাকায় জনদুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মহাসড়কের ওপর যানবাহন ও মানুষের জটলার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। হঠাৎ মহাসড়কে গরু চলে আসা, ক্রেতা-বিক্রেতাদের রাস্তা পারাপার এবং রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বড় যানবাহনের কারণে চালকদের স্বাভাবিক দৃষ্টিসীমাও অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি ব্যস্ত জাতীয় মহাসড়কের পাশে পশুর হাট পরিচালনা করতে হলে সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহন ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। কিন্তু ভাঙ্গুড়া হাটে পার্কিংয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় হাটের চাপ সরাসরি মহাসড়কের ওপর পড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, হাটের নির্ধারিত সীমানার ভেতরে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কের ওপর কোনো যানবাহন যাতে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য হাটবারে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি চালাতে হবে। হাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা গেলে মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
তাদের আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ এবং হাট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ একটি পশুর হাটের কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কোনো এক হাটবারে ছোটখাটো যানজটের পরিবর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নাগরিক ডেস্ক রিপোর্ট 



















