ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ সভা

  • এম.জে.এ মামুন
  • সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:০৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ১১৪ বার পঠিত
এম.জে.এ মামুন:   আগামী ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনফারেন্স রুমে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. মহিবুস সালাম খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব অশোক বিক্রম চাকমা।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও ভিটামিন ‘এ’ সরাসরি হাম প্রতিরোধ করে না, তবে হামে আক্রান্ত শিশুদের গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে এটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে যেসব শিশুর শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এ ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা বাড়ায়।
আলোচনায় আরও জানানো হয়, ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতির কারণে শিশুদের চোখের বিভিন্ন জটিলতা, বিশেষ করে জেরোফথ্যালমিয়া (Xerophthalmia) এবং দৃষ্টিশক্তি ক্ষতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ প্রয়োগ করলে বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া-সম্পর্কিত মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সুপারিশ অনুযায়ী, যেসব এলাকায় ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি বেশি, সেখানে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের ১ লাখ আইইউ (IU) মাত্রার একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২ লাখ আইইউ (IU) মাত্রার একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য মায়ের বুকের দুধই ভিটামিন ‘এ’-এর প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারীবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আগামী ২৮ জুন নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করতে স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

লোহাগড়া উপজেলা কৃষকদলের নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে মিছিল

20 September 2026

নাঙ্গলকোট গ্রাজুয়েটস অ্যাসোসিয়েশন'র অভিষেক ও আহ্বায়ক কমিটি গঠন

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ সভা

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৫:০৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
এম.জে.এ মামুন:   আগামী ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনফারেন্স রুমে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. মহিবুস সালাম খান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব অশোক বিক্রম চাকমা।
সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও ভিটামিন ‘এ’ সরাসরি হাম প্রতিরোধ করে না, তবে হামে আক্রান্ত শিশুদের গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে এটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে যেসব শিশুর শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এ ভিটামিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা বাড়ায়।
আলোচনায় আরও জানানো হয়, ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতির কারণে শিশুদের চোখের বিভিন্ন জটিলতা, বিশেষ করে জেরোফথ্যালমিয়া (Xerophthalmia) এবং দৃষ্টিশক্তি ক্ষতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ প্রয়োগ করলে বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া-সম্পর্কিত মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সুপারিশ অনুযায়ী, যেসব এলাকায় ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি বেশি, সেখানে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের ১ লাখ আইইউ (IU) মাত্রার একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২ লাখ আইইউ (IU) মাত্রার একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য মায়ের বুকের দুধই ভিটামিন ‘এ’-এর প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারীবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আগামী ২৮ জুন নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান।
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করতে স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card