ঢাকা, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞপ্তি :
পত্রিকা প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। হটলাইন: 09649-230220

৩-মাস পর মুমূর্ষু স্কুলছাত্র আরবিত উদ্ধার: ১-আসামি গ্রেপ্তার, চাঞ্চল্যকর তথ্য

শ.ম.গফুর, কক্সবাজার:   কক্সবাজারের উখিয়ায় অপহরণের দীর্ঘ তিনমাস পর অবশেষে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে আবুল কাশেম নুরজাহান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র মাছুদ মোহাম্মদ আরবিত। ৯ সেপ্টেম্বর অপহারক চক্রের ঘাতকেরা তাকে একটি গাড়িতে করে এনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে, এই লোমহর্ষক অপহরণ কাণ্ডের তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, মামলার এজাহারনামীয় ১ জন আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং অপহরণের সাথে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করতে আসামিকে ইতিমধ্যে দুই দফায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এই কিশোরকে অপহরণ করেছিল তা জানতে পুলিশের নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে চরম ট্রমা ও ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর আরবিত সাংবাদিকদের জানায় তার ওপর চলা অমানুষিক নির্যাতনের কথা। সে বলে, আমাকে একটি ৩ বা ৪ তলা বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রতিদিন মাত্র একবেলা খাবার দেওয়া হতো। আর গত ৮ দিন ধরে তারা আমাকে সম্পূর্ণ না খাইয়ে রেখেছে। আমি অপহরণকারীদের বলতে শুনেছি,’একে আর রাখা যাবে না, আমাদের বিপদ হতে পারে। তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেওয়া উচিত।’ তারা আমাকে ফেলে চলে গেছে।ফিরে আসার আনন্দে চোখের পানি ফেলে আরবিত বলে,পরিবারের মাঝে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
আরবিতের মা কাজল আক্তার ছেলের করুণ দশা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বাবা আফাজ উদ্দিন জানান, গত ১৭ জুলাই উখিয়া থানায় ২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা (জিআর মামলা নং- ৪১২/২৬) দায়ের করেছিলেন তিনি।
তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি তৎপরতা এবং গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ লেখনীর কারণেই অপহরণকারীরা কোণঠাসা হয়ে আমার ছেলেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।সচেতন মহল মনে করছেন, আসামির দুই দফার রিমান্ডের সূত্র ধরে এই অপহরণ চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। পুরো উখিয়াজুড়ে এখন একটাই দাবি,আরবিতকে যারা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল, তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়,প্রশাসনের প্রতি এমনটাই দাবি রাখেন।

Share this news as a Photo Card

সম্পর্কিত খবর :
জনপ্রিয়

সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

22 September 2026

কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

বিস্তারিত লিংক কমেন্টে |
nagorikbhabna.com
nagorikbhabna

৩-মাস পর মুমূর্ষু স্কুলছাত্র আরবিত উদ্ধার: ১-আসামি গ্রেপ্তার, চাঞ্চল্যকর তথ্য

সর্বশেষ পরিমার্জন : ০৭:০১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শ.ম.গফুর, কক্সবাজার:   কক্সবাজারের উখিয়ায় অপহরণের দীর্ঘ তিনমাস পর অবশেষে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে আবুল কাশেম নুরজাহান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র মাছুদ মোহাম্মদ আরবিত। ৯ সেপ্টেম্বর অপহারক চক্রের ঘাতকেরা তাকে একটি গাড়িতে করে এনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে, এই লোমহর্ষক অপহরণ কাণ্ডের তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, মামলার এজাহারনামীয় ১ জন আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং অপহরণের সাথে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করতে আসামিকে ইতিমধ্যে দুই দফায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এই কিশোরকে অপহরণ করেছিল তা জানতে পুলিশের নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে চরম ট্রমা ও ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর আরবিত সাংবাদিকদের জানায় তার ওপর চলা অমানুষিক নির্যাতনের কথা। সে বলে, আমাকে একটি ৩ বা ৪ তলা বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রতিদিন মাত্র একবেলা খাবার দেওয়া হতো। আর গত ৮ দিন ধরে তারা আমাকে সম্পূর্ণ না খাইয়ে রেখেছে। আমি অপহরণকারীদের বলতে শুনেছি,’একে আর রাখা যাবে না, আমাদের বিপদ হতে পারে। তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেওয়া উচিত।’ তারা আমাকে ফেলে চলে গেছে।ফিরে আসার আনন্দে চোখের পানি ফেলে আরবিত বলে,পরিবারের মাঝে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
আরবিতের মা কাজল আক্তার ছেলের করুণ দশা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বাবা আফাজ উদ্দিন জানান, গত ১৭ জুলাই উখিয়া থানায় ২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা (জিআর মামলা নং- ৪১২/২৬) দায়ের করেছিলেন তিনি।
তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি তৎপরতা এবং গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ লেখনীর কারণেই অপহরণকারীরা কোণঠাসা হয়ে আমার ছেলেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।সচেতন মহল মনে করছেন, আসামির দুই দফার রিমান্ডের সূত্র ধরে এই অপহরণ চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। পুরো উখিয়াজুড়ে এখন একটাই দাবি,আরবিতকে যারা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল, তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়,প্রশাসনের প্রতি এমনটাই দাবি রাখেন।

Share this news as a Photo Card