ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
তাজা খবর
অসুস্থ হনুমান চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিজেই হাসপাতালে হাজির মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী

শরণখোলায় চলছে নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের রমরমা ব্যবসা সরকারী বই শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়না

মোঃশহীদুল ইসলাম, শরনখোলা (বাগেরহাট) 
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:২৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৯৪ বার পঠিত
শরণখোলায় চলছে গাইড বইয়ের রমরমা ব্যবসা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় গাইড বই ছাড়া সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের বই শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়না। অধিক মূল্যের গাইড বই কিনতে অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছেন। নির্দ্দিষ্ট  বই প্রকাশনী থেকে লাখ লাখ টাকা অনুদান নিয়ে  উপজেলার তিনটি শিক্ষক সমিতি ও কয়েকটি লাইব্রেরী মালিক বেআইনীভাবে এই ব্যবসা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, শরণখোলা উপজেলার সরকারী প্র্থামিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা সমূহে শিক্ষার্থীদের গাইড বই পড়ানো হয়। সরকারের দেওয়া বই পড়ানো হয়না। অধিক মূল্য মানের গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হচ্ছে। মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে  পাঞ্জেরী প্রকাশনী, অনুপম প্রকাশনী ও  লেকচার প্রকাশনীর গাইড এবং মাদ্রাসা সমূহে আলফাতাহ প্রকাশনীর গাইড বই পড়ানো হচ্ছে।
মাধ্যমিক স্তরে শ্রেণীভেদে আড়াই হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে একসেট গাইডবই কিনতে হয়। মাদ্রাসা স্তরে ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণীতে চার থেকে সাড়ে চার  হাজার টাকায় গাইডবই কিনতে হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩শ থেকে ৯শ টাকায় গাইডবই বিক্রি হয়। উপজেলার খোন্তাকাটা গ্রামের ছাত্র অভিভাবক আঃ খালেক, রাজাপুর গ্রামের সরোয়ার হোসেন, সোনাতলা গ্রামের ছালেহা বেগম বলেন, শিক্ষকরা সরকারী বই না পড়িয়ে গাইডবই কিনতে বাধ্য করছেন। বেশি দাম দিয়ে গাইডবই কিনতে তাদের খুবই কষ্ট হয় বলে ঐ অভিভাবকরা জানান।
শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারে পাঞ্জেরী প্রকাশনীর এজেন্ট ও  ইসলামিয়া লাইব্রেরীর মালিক আকন আলমগীর বলেন, সারাদেশে সহায়ক বই হিসেবে গাইড বিক্রি হয়। এতে মনে হয়,সরকারের অনুমতি আছে। পাঞ্জেরী প্রকাশনীর অপর এজেন্ট হৃদয় লাইব্রেরীর মালিক আঃ রহিম বলেন, গাইডবই ১৯৯০ সাল থেকে নিষিদ্ধ কিন্তু লোকজন চায় তাই আমরা কিনে এনে বিক্রি করে থাকি।
শরণখোলার সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামান ও খাদা গগন মেমোরিয়াল দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ওবায়দুল হক বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে  কোন গাইডবই পড়ানো হয়না। শরণখোলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ধননজয় মন্ডল বলেন, গাইডবই ক্রয় বিক্রয় আইনতঃ নিষিদ্ধ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইডবই পড়ানোর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, গাইডবই বিক্রি ও পড়ানোর কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি  তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

শরণখোলায় চলছে নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের রমরমা ব্যবসা সরকারী বই শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়না

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:২৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
শরণখোলায় চলছে গাইড বইয়ের রমরমা ব্যবসা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় গাইড বই ছাড়া সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের বই শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়না। অধিক মূল্যের গাইড বই কিনতে অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছেন। নির্দ্দিষ্ট  বই প্রকাশনী থেকে লাখ লাখ টাকা অনুদান নিয়ে  উপজেলার তিনটি শিক্ষক সমিতি ও কয়েকটি লাইব্রেরী মালিক বেআইনীভাবে এই ব্যবসা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, শরণখোলা উপজেলার সরকারী প্র্থামিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা সমূহে শিক্ষার্থীদের গাইড বই পড়ানো হয়। সরকারের দেওয়া বই পড়ানো হয়না। অধিক মূল্য মানের গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হচ্ছে। মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে  পাঞ্জেরী প্রকাশনী, অনুপম প্রকাশনী ও  লেকচার প্রকাশনীর গাইড এবং মাদ্রাসা সমূহে আলফাতাহ প্রকাশনীর গাইড বই পড়ানো হচ্ছে।
মাধ্যমিক স্তরে শ্রেণীভেদে আড়াই হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে একসেট গাইডবই কিনতে হয়। মাদ্রাসা স্তরে ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণীতে চার থেকে সাড়ে চার  হাজার টাকায় গাইডবই কিনতে হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩শ থেকে ৯শ টাকায় গাইডবই বিক্রি হয়। উপজেলার খোন্তাকাটা গ্রামের ছাত্র অভিভাবক আঃ খালেক, রাজাপুর গ্রামের সরোয়ার হোসেন, সোনাতলা গ্রামের ছালেহা বেগম বলেন, শিক্ষকরা সরকারী বই না পড়িয়ে গাইডবই কিনতে বাধ্য করছেন। বেশি দাম দিয়ে গাইডবই কিনতে তাদের খুবই কষ্ট হয় বলে ঐ অভিভাবকরা জানান।
শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারে পাঞ্জেরী প্রকাশনীর এজেন্ট ও  ইসলামিয়া লাইব্রেরীর মালিক আকন আলমগীর বলেন, সারাদেশে সহায়ক বই হিসেবে গাইড বিক্রি হয়। এতে মনে হয়,সরকারের অনুমতি আছে। পাঞ্জেরী প্রকাশনীর অপর এজেন্ট হৃদয় লাইব্রেরীর মালিক আঃ রহিম বলেন, গাইডবই ১৯৯০ সাল থেকে নিষিদ্ধ কিন্তু লোকজন চায় তাই আমরা কিনে এনে বিক্রি করে থাকি।
শরণখোলার সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামান ও খাদা গগন মেমোরিয়াল দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ওবায়দুল হক বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে  কোন গাইডবই পড়ানো হয়না। শরণখোলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ধননজয় মন্ডল বলেন, গাইডবই ক্রয় বিক্রয় আইনতঃ নিষিদ্ধ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইডবই পড়ানোর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, গাইডবই বিক্রি ও পড়ানোর কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি  তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।