ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
তাজা খবর
অসুস্থ হনুমান চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিজেই হাসপাতালে হাজির মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ অফিস সরকারি খাস জমিতে, নেই হাট বসানোর যায়গা, ভোগান্তিতে জনগণ

 গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি :
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:২৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫
  • / ১৩৬ বার পঠিত

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কেন্দ্রীয় বাজার হিসেবে গঙ্গাচড়া হাটের গুরুত্ব অপরিসীম। কালের
পরিক্রমায় এই হাটের জায়গা বেদখল হয়ে ফেসিস্ট সরকারের অফিস সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও
অরাজনৈতিক স্থাপনা তৈরি হয়েছে, ফলে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্ব হারাচ্ছে গঙ্গাচড়া হাট।
বর্তমানেও হাজারো মানুষের জীবিকার কেন্দ্রবিন্দু গঙ্গাচড়া হাট কিন্তু বাজার কেন্দ্রীক
সরকারি খাস জমি বেদখল থাকায় নিরুপায় হয়ে পণ্য নিয়ে বসতে হচ্ছে রাস্তায়। গঙ্গাচড়া
হাটের পণ্য কেনা – বেঁচায় একমাত্র উন্মুক্ত জায়গা ছিল থানা সংলগ্ন মাঠ। বর্তমানে
সেখানে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মিত হওয়ায় গঙ্গাচড়া
হাটে উন্মুক্ত পণ্য কেনা বেঁচায় দেখা দিয়েছে চড়ম সংকট। ফলে এখন, গরু – ছাগল, ধান, পাট,
তামাক, হাস -মুরগি, বাঁশ, আসবাবপত্র ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য নিয়ে এখন গঙ্গাচড়া হাটে না
আসায় চড়ম বিপাকে পরেছে ইজারাদার। সপ্তাহে দু’দিন হাট বসলেও হাটে পণ্য নিয়ে বসার মত
পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বিপাকে পরেছেন ব্যবসায়ীরাও। নিরুপায় হয়ে ছোট ছোট
ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য নিয়ে রাস্তায় বসছেন। এতে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে
জনদূর্ভোগ, তেমনি সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব ।
তবে এসব সমস্যার ইতি টানতেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা সহকারী কমিশনার
(ভূমি), ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও এলাকার সূধীজনের সমন্বিত সিদ্ধান্তে বাজার কেন্দ্রিক বেদখল
হওয়া খাস জায়গাগুলো উদ্ধারের প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে সবাইকে আশান্বিত করেছে।
বিশেষ করে উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন ৪২ শতাংশ খাস জমি, ইউনিয়ন পরিষদের পাশ দিয়ে
ভিতর বাজার হয়ে ভুটকা মোড় পর্যন্ত রেকর্ডীয় রাস্তা উন্মুক্ত করণ , সদর ইউনিয়ন পরিষদের
পিছনের সরকারি পুকুর ভড়াট করে হাটের কাজে ব্যবহার উপযোগী করণ, বাজারের প্রধান সড়কের
দুই পার্শ্বের ফুটপাত দখল মুক্ত করণে এই সমস্যার নিরসন ঘটবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
গঙ্গাচড়া হাটে আসা কবুতর ব্যবসায়ী আরব আলী বলেন, আমি প্রতিহাটে কবুতর নিয়ে
আসি। কিন্তু হাটের জায়গা না থাকায়, কবুতর নিয়ে রাস্তায় বসতে হয়। এতে যেমন যানযট
সৃষ্টি হয়, অনেক সময় বড় গাড়িঘোড়া আসলে কবুতর নিয়ে উঠে যেতে হয়।
আসবাব পত্র ব্যবসায়ী মোক্তারুল ইসলাম বলেন,দীর্ঘ দিন যাবৎ আমি চেয়ার – টেবিল, খাট,
আলমিরা তৈরী করে বাজারে বিক্রি করি। আগে মাট ছিল সুবিধাও ছিল অনেক, এখন হাটের
জায়গা না থাকায় আসবাবপত্র নিয়ে রাস্তায় বসে কোন রকমে ব্যাবসা করছি। আমরা হাটের
একটা নির্দিষ্ট জায়গা চাই। যেখানে এসে আমরা নির্বিঘ্নে পণ্য নিয়ে বসতে পারব। ভিতর
বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী মাহফুজার রহমান বলেন, পরিষদ হয়ে ভিতর বাজার হয়ে ভুটকা পর্যন্ত
রাস্তাটা বের হলে লোকসমাগম বাড়বে আমাদের ব্যাবসায় গতি আসবে এবং মূল সড়কের
যানজট নিরশন হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, গঙ্গাচড়া হাটের ঐতিহ্য, ব্যাবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো এবং
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে বাজার কেন্দ্রিক বেদখল হওয়া খাস জায়গা দ্রুত উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা
উচ্ছেদ সম্পূর্ণ হলে হাটের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার সমস্যা যেমন সমাধান হবে, তেমনি
ব্যাবসা বাণিজ্যে প্রসার ঘটবে। হাটে শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত
হবে।
ফেসিস্ট সরকারের আমলে জনগণ মূখ খুলতে ভয় পেলেও বর্তমানে জুলাই বিপ্লব এর পর সকলেই
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যপারে দৃঢ়।
অন্যদিকে ক্ষমতাশীনদের দ্বারা বেদখল থাকায় খাস জমি উদ্ধারে ব্যর্থ প্রশাসন, বলেও মন্তব্য করছেন
সাধারন জনগণ।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “খাস জমি উদ্ধারের জন্য
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। জেলা
প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমোদন পেলেই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”
একই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল বলেন, সরকারি হাটের জায়গা অবৈধভাবে
বেদখলের সুযোগ নেই। যতদ্রুত সম্ভব আইনগতভাবে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।

N.v.s.s

আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

আওয়ামী লীগ অফিস সরকারি খাস জমিতে, নেই হাট বসানোর যায়গা, ভোগান্তিতে জনগণ

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:২৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কেন্দ্রীয় বাজার হিসেবে গঙ্গাচড়া হাটের গুরুত্ব অপরিসীম। কালের
পরিক্রমায় এই হাটের জায়গা বেদখল হয়ে ফেসিস্ট সরকারের অফিস সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও
অরাজনৈতিক স্থাপনা তৈরি হয়েছে, ফলে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্ব হারাচ্ছে গঙ্গাচড়া হাট।
বর্তমানেও হাজারো মানুষের জীবিকার কেন্দ্রবিন্দু গঙ্গাচড়া হাট কিন্তু বাজার কেন্দ্রীক
সরকারি খাস জমি বেদখল থাকায় নিরুপায় হয়ে পণ্য নিয়ে বসতে হচ্ছে রাস্তায়। গঙ্গাচড়া
হাটের পণ্য কেনা – বেঁচায় একমাত্র উন্মুক্ত জায়গা ছিল থানা সংলগ্ন মাঠ। বর্তমানে
সেখানে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মিত হওয়ায় গঙ্গাচড়া
হাটে উন্মুক্ত পণ্য কেনা বেঁচায় দেখা দিয়েছে চড়ম সংকট। ফলে এখন, গরু – ছাগল, ধান, পাট,
তামাক, হাস -মুরগি, বাঁশ, আসবাবপত্র ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য নিয়ে এখন গঙ্গাচড়া হাটে না
আসায় চড়ম বিপাকে পরেছে ইজারাদার। সপ্তাহে দু’দিন হাট বসলেও হাটে পণ্য নিয়ে বসার মত
পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বিপাকে পরেছেন ব্যবসায়ীরাও। নিরুপায় হয়ে ছোট ছোট
ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য নিয়ে রাস্তায় বসছেন। এতে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে
জনদূর্ভোগ, তেমনি সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব ।
তবে এসব সমস্যার ইতি টানতেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা সহকারী কমিশনার
(ভূমি), ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও এলাকার সূধীজনের সমন্বিত সিদ্ধান্তে বাজার কেন্দ্রিক বেদখল
হওয়া খাস জায়গাগুলো উদ্ধারের প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে সবাইকে আশান্বিত করেছে।
বিশেষ করে উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন ৪২ শতাংশ খাস জমি, ইউনিয়ন পরিষদের পাশ দিয়ে
ভিতর বাজার হয়ে ভুটকা মোড় পর্যন্ত রেকর্ডীয় রাস্তা উন্মুক্ত করণ , সদর ইউনিয়ন পরিষদের
পিছনের সরকারি পুকুর ভড়াট করে হাটের কাজে ব্যবহার উপযোগী করণ, বাজারের প্রধান সড়কের
দুই পার্শ্বের ফুটপাত দখল মুক্ত করণে এই সমস্যার নিরসন ঘটবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
গঙ্গাচড়া হাটে আসা কবুতর ব্যবসায়ী আরব আলী বলেন, আমি প্রতিহাটে কবুতর নিয়ে
আসি। কিন্তু হাটের জায়গা না থাকায়, কবুতর নিয়ে রাস্তায় বসতে হয়। এতে যেমন যানযট
সৃষ্টি হয়, অনেক সময় বড় গাড়িঘোড়া আসলে কবুতর নিয়ে উঠে যেতে হয়।
আসবাব পত্র ব্যবসায়ী মোক্তারুল ইসলাম বলেন,দীর্ঘ দিন যাবৎ আমি চেয়ার – টেবিল, খাট,
আলমিরা তৈরী করে বাজারে বিক্রি করি। আগে মাট ছিল সুবিধাও ছিল অনেক, এখন হাটের
জায়গা না থাকায় আসবাবপত্র নিয়ে রাস্তায় বসে কোন রকমে ব্যাবসা করছি। আমরা হাটের
একটা নির্দিষ্ট জায়গা চাই। যেখানে এসে আমরা নির্বিঘ্নে পণ্য নিয়ে বসতে পারব। ভিতর
বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী মাহফুজার রহমান বলেন, পরিষদ হয়ে ভিতর বাজার হয়ে ভুটকা পর্যন্ত
রাস্তাটা বের হলে লোকসমাগম বাড়বে আমাদের ব্যাবসায় গতি আসবে এবং মূল সড়কের
যানজট নিরশন হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, গঙ্গাচড়া হাটের ঐতিহ্য, ব্যাবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো এবং
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে বাজার কেন্দ্রিক বেদখল হওয়া খাস জায়গা দ্রুত উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা
উচ্ছেদ সম্পূর্ণ হলে হাটের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার সমস্যা যেমন সমাধান হবে, তেমনি
ব্যাবসা বাণিজ্যে প্রসার ঘটবে। হাটে শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত
হবে।
ফেসিস্ট সরকারের আমলে জনগণ মূখ খুলতে ভয় পেলেও বর্তমানে জুলাই বিপ্লব এর পর সকলেই
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যপারে দৃঢ়।
অন্যদিকে ক্ষমতাশীনদের দ্বারা বেদখল থাকায় খাস জমি উদ্ধারে ব্যর্থ প্রশাসন, বলেও মন্তব্য করছেন
সাধারন জনগণ।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “খাস জমি উদ্ধারের জন্য
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। জেলা
প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমোদন পেলেই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”
একই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল বলেন, সরকারি হাটের জায়গা অবৈধভাবে
বেদখলের সুযোগ নেই। যতদ্রুত সম্ভব আইনগতভাবে উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।

N.v.s.s