২ লক্ষ টাকার অপারেশন ফ্রিতে করিয়ে প্রশংসায় ডাঃ আল-মাশরাফি

- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
- / ১৯২ বার পঠিত

লালমনিরহাটের বাপ্পি নামে এক যুবক গত ২৪ এপ্রিল ঢাকায় স্থানীয় ছেলেদের অতর্কিত আক্রমণে বুকে ও মাথায় যথেষ্ট আঘাত পায়।
এর ফলে মাথার ভিতরে রক্ত জমাট বাঁধে এবং নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাপ্পিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে , দৈনিক নাগরিক ভাবনার সাথে কথা হয় সুজন আহমেদ নামে এক ব্যক্তির তিনি নাগরিক ভাবনাকে বলেন,
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের, নুরুজ্জামানের ছেলে মেহেদী হাসান বাপ্পী (২০) ছোটবেলা থেকে তার মামার বাড়িতে বড় হয়েছে বাপ্পি এবং মামা আশরাফুল ইসলামের সাথে ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। বাপ্পির সকল খরচ সে নিজে কিংবা মামার সহযোগিতায় হয়, তার বাবা গরীব হওয়ায় ছেলের তেমন খোঁজখবর রাখেনা।
ডাঃ আল- মাশরাফির বিষয়ে সুজন আহমেদ দৈনিক নাগরিক ভাবনার প্রতিবেদকে বলেন,
আমাদের হাতীবান্ধা উপজেলার, ফকিরপাড়া ইউনিয়নের, দালালপাড়া গ্রামের সন্তান – ডাক্তার আল- মাশরাফি ভাইয়ের সহযোগীতায় তিনি নিজে তার মাথার অপারেশন সম্পন্ন করেছেন। যেখানে বাহিরে এই অপারেশন করাতে প্রায় ২ লক্ষ টাকার মত লাগতো সেখানে তিনি ফ্রি নিজের দ্বায়িত্বে অপারেশন সাকসেস করেছেন আলহামদুলিল্লাহ।
ডাক্তার আল- মাশরাফি দৈনিক নাগরিক ভাবনাকে জানান, “বাপ্পি ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে অসুস্থ হয়ে ভর্তি ছিল।
আমার নিয়মিত ডিউটিতে সারাদিন অপারেশন ছিল,তাই সাথে সাথে যোগাযোগ করতে পারি নি। সন্ধ্যার পর বাপ্পিকে খুঁজে বের করার পর জানতে পারলাম, আমার কর্মস্থান নিউরো সার্জারী বিভাগে ভর্তি। “CT Scan of Head” রিপোর্ট দেখে বুঝতে পারলাম,তার মাথায় কয়েক জায়গায় রক্তক্ষরন হয়েছে। এবং সামনের মাথার অংশে অনেক বেশি! যেটাকে মেডিকেলের ভাষায় বলে “Bifrontal Contusion”. এরকম হলে ব্রেইন এর প্রেশার(ICP) অনেক বেড়ে যায় এবং দ্রুত সে প্রেশার না কমাতে পারলে বেশির ভাগ সময় মৃত্যু হয়।
এরকম অবস্থায় আমরা ডি.সি(Decompressive Craniectomy) নামক অপারেশন করি,যেটাকে সহজ ভাষায় বলে মাথার খুলি কেঁটে রেখে দেয়া এবং বাপ্পিরও তাই করা হয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হলে পরবর্তীতে (প্রায় ২-৩ মাস পর) কেঁটে রাখা মাথার খুলি পুনরায় লাগিয়ে দেওয়া হবে।
অপারেশনের পরবর্তী অবস্থা জানতে চাইতে, তিনি বলেন,
এখন ওর অবস্থা একটু ভালো,তবে এ অবস্থা থেকে সুস্থ হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। একটু স্ট্যাবল হলে আমরা ছুটি দিয়ে দিব। এরপর বাসায় সম্পুর্ন বিশ্রামে থেকে চিকিৎসা চলবে। আমি তার সাথে থাকা ২ জনকে সবকিছু বুঝিয়ে বলেছি, রাতের ডিউটি ডাক্তারকে বলে এসেছি, যেকোনো সমস্যায় যেন প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়। আমার কন্ট্যাক্ট নাম্বার দিয়ে এসেছি এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা সবাই বাপ্পির জন্য দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ তাকে দ্রুত সুস্থ করে দেন।
ডাঃ আল মাশরাফি
এম.বি.বি.এস; এম.এস কোর্স(নিউরো সার্জারী)
ডিপার্টমেন্ট অব নিউরোসার্জারী
ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল(ঢাকা)।”
অপারেশন পরবর্তী তার ঔষুধের পাশাপাশি অনেক টাকার প্রয়োজন।
আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল থাকায় বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করা হয়।
আপনারা যে যা পারেন একটু সহযোগিতা করুন।

















