ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
তাজা খবর
অসুস্থ হনুমান চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিজেই হাসপাতালে হাজির
মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র
ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন
মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও
ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন
১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী
রাদনগরে আলোচিত বিবস্ত্র হামলা ও ভাইরাল ঘটনার রহস্য

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার,
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৪:০৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
- / ৯২ বার পঠিত

রাদনগরে আলোচিত বিবস্ত্র হামলা ও ভাইরাল ঘটনার রহস্য
মুরাদনগরে আলোচিত বিবস্র অবস্থায় নারী-পুরুষকে হামলা ও ভাইরাল ঘটনার আসল রহস্য কি? ভিন্ন মানুষ জনের ভিন্ন কথা। ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন প্রচার। প্রচারিত সূত্রে দেখাযায়, কেউ বলছে প্রেম ছিলো, কেউ বলছে পরকিয়া, কেউ বলছে ষড়যন্ত্র! আসলে কি ঘটেছিলো? কেনো ঘটেছিলো? ঘটনার পেছনের ঘটনাই বা কি?
আবার চলছে রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়া ছোড়ি। যা প্রকৃত ঘটনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
প্রচারিত প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার এইসব রসালো গল্পের আড়ালে ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানতে আমাদের অনুসন্ধানে স্থানীয় এলাকাবাসী, গ্রাম পুলিশ, ওয়ার্ড মেম্বার, চেয়ারম্যান ও প্রতিবেশীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ২৬ জুন (বৃহস্পতিবার) আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা পূজায় ব্যস্ত থাকার সুযোগে ফজর আলী ভুক্তভোগীর ঘরের দরজায় এসে তাকে দরজা খুলতে বলে। রাত গভীর হওয়ায় দরজা খুলতে না চাইলে জোরপূর্বকই দরজার কপাট ভেঙে ঘরে ঢুকে নানা বাহানায় তাকে ধর্ষণ করে ফজর। এমতাবস্থায় ৮/১০ জন যুবক ঘরে ঢুকে ওই দু’জনকে মারধর করে এবং তাদের বিবস্ত্র ভিডিও ধারন করে। এসময় হামলাকারীদের এলোপাথারি হামলায় লম্পট ফজরআলী গুরুতর আহত হয়। আহত অবস্থায় তার স্বজনরা তাকে হাসপাতালে পাঠায়। পরদিন ২৭ জুন (শুক্রবার) বিকালে ভূক্তভোগী নারী মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করে।
ঘটনা যদি প্রেম বা পরকিয়া হতো তবে নির্যাতিতা ঐ নারী পরদিন ফজরআলীর বিরুদ্ধে মামলা না করে আগে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা ছিলো। কিন্তু সে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করে ফজরআলীর বিরুদ্ধে কেনো করলো অনুসন্ধানে এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকেই বলেন, হামলাকারীরা পূর্বশত্রুতা বসত এই হামলা এবং ভিডিও করেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ভূক্তভোগী নারী ও তার পরিবার সনাতন ধর্মাবলম্বী ও নিরীহ হওয়ায় ২৬ জুন রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর লোক লজ্জা ও সামাজিক কারনে প্রথমে এবিষয়ে কারো বিরুদ্ধে কোন মামলা করতে চায়নি। মারধরের ঘটনায় আশংকাজনক ফজরআলীর শারিরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে তার মৃত্যু হতেপারে ভেবে নিজেদেরকে হত্যা মামলা থেকে সেইফ করার জন্য হামলাকারীরা ঐ নারীকে ফজরআলীর বিরুদ্ধে ধর্ষনের ঘটনায় মামলা করার জন্য চাপ দিতে থাকে।
পরে ঐ নির্যাতিতা ওই নারীকে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ফজরআলীর বিরুদ্ধে ধর্ষন মামলা দেওয়ার চাপ দিতে থাকলে ঐ নারী বিবস্র ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ভয়ে গত ২৭ জুন (শুক্রবার) বিকালে মুরাদনগর থানায় হাজির হয়ে শুধু ফজরআলীর বিরুদ্ধে একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করে। এরপর ২৮ জুন (শনিবার) রাতে হামলাকারীদের একজন ওই ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
হামলাকারীদের সাথে কি এই পূর্বশত্রুতা? এর উত্তর খুজতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে আরেক গল্প। খোঁজনিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ ভূক্তভোগী নারীর উপর ফজরআলীর ছোটভাই শাহাপরানের কু-নজর ছিলো। সে প্রায় সময় ঐ নারীকে উত্যক্ত করতো, কু-প্রস্তাব দিতো এবং অবৈধ সম্পর্ক করার জন্য বিভিন্ন কৌশল খুঁজতো। ভূক্তভোগীর একটি সাখ্যাৎকারে বলতে দেখাযায়, আমার বাচ্চা দোকানে মজা আনতে যায় তখন শাহাপরান আমার বাচ্চা কে বলে তার সাথে আমি দেখা করার জন্য। আমি তার সাথে দেখা না করায় সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এই কথায় ধারনা করা যায় সে ঐ নারীকে কোন গোপন কথা বলতে চেয়েছিলো, বলতে না পেরেই সে ঐ নারীর উপর ক্ষিপ্ত হয়। সময়ের সাথে সাথে তার ক্ষোভও বাড়তে থাকে।
এদিকে গত বছরখানেক পূর্বে ভূক্তভোগীর ছোট বোনের বিয়ের জন্য টাকার প্রয়োজন হলে তার মা ফজরআলীর কাছে টাকা ধার চাইলে সে দু’একদিন সময় চায়। দু’দিন পর টাকা না পাওয়ায় ভূক্তভোগীর মা ফজরআলীর মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে দেখে তার ফোনে টাকা নেই। পরে মেয়ে কে নাম্বার দিয়ে তার মোবাইলে থেকে ফোন করতে বলে। তখন ভূক্তভোগী ফজরআলীকে ফোন দিয়ে টাকা দিবেন কি না জানতে চায়। এতে সে টাকা নিয়ে আসবে বলে জানায় এবং মাসিক ৪ হাজার টাকা সূদে ভূক্তভোগীর মাকে ৫০ হাজার টাকা ধার দেয়। তখন ফজর আলীর কাছ থেকে সূদের বিনিময়ে টাকা পেয়ে নির্ধারিত সময়ে তার বোনের বিবাহ সম্পন্ন হয়।
পরে মাস পেড়িয়ে গেলেও লাভের টাকা না পাওয়ায়
ফজর আলী ভূক্তভোগীর নাম্বারে ফোন দিয়ে টাকা চায়। তখন সে বলে, আমিতো ভাই আমার স্বামীর বাড়িতে চলে এসেছি। টাকাতো মায় নিছে, আপনি মাকে বলেন। এই ফোন কলের পর থেকেই ফজরআলী গল্পের শুরু।
ধারনা করা হচ্ছে ফোনে কথা বলার পর থেকেই ওই নারীর প্রতি কু-নেশার জন্ম হয় লম্পট ফজরআলীর।টাকার অযুহাতে কৌশলে ফজর প্রায়ই ঐ নারীকে সময়ে অসময়ে দিন-রাত ফোন দিতে থাকে। এক সময় তাদের দুজনের মধ্যে একটি বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই কারনে সব সময় তাদের পরিবারের খোঁজ খবর রাখতো ফজর। সে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি আসলে ফজরআলী প্রায় সময় তাদের বাড়িতে আসতো। এই বিষয়টি শাহাপরানের চোখে পড়ায় সে আরও ক্ষিপ্ত হয়। এবং তার মনে সন্দেহ হয় ফজরের সাথে ভূক্তভোগীর অবৈধ সম্পর্ক আছে। গত এপ্রিল মাসে ভূক্তভোগী নারী বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসলে ফজর তাদের বাড়ি আসে। বিষয়টি দেখার পর শাহাপরান ক্ষেপে যায়। ভক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তাকে শাসায়।
সে একজন মুসলিম হয়ে কেনো হিন্দু নারী দিপালী বালার বাড়িতে গিয়ে তাকে শাসায় এই ঘটনার রহস্য খোঁজতে গিয়ে দেখা যায়, দিপালী বালা বিভিন্ন সাক্ষাতকারে বলেছেন যে, আমার বাচ্চাটা খানার জন্য দোকানে গেলে শাহাপরান বলে তুইকি দিপালীর পুত না? আমার বাচ্চা বলে হ্যা, পরান বলে তোর মারে কইছ একটু আওয়ার ল্যাইগা। আমার বাচ্চা এসে এই কথা আমাকে বলে। আমি কইছি কিরে যাইতে কইছে, আমি হের বড়ভাই ফজরআলীকে বিষয়টি জানাই। হে বলছে আমি তাকে বইল্লা দিমু। পরে ফজরআলী মনেহয় তাকে বলছে বলার পরে সে আমাদের বাড়িতে আসে, তখন আমার মা-বাবা বাড়িতে ছিলোনা, মামার বাড়িতে গেছিলো। বাড়িতে এসেই সে আমাকে বলে তোর মোবাইলটা আমাকে দে। আমি কইছি আমার মোবাইল তরে কিরে দিতাম। সে কইছে কাম আছে। আমি কইছি না আমি আমার মোবাইল তরে দিতাম না। তখন সে আমার হাতে ধরে জোর করে আমার মোবাইলটা নিছে। আমিও তার গেঞ্জির মধ্যে ধরছি, এসময় জোরাজোরিতে তার গেঞ্জি ছিড়েযায় এবং সে আমার মোবাইল মাটিতে আছাড় মারে এতে আমার মোবাইলের গ্লাসটা ভেঙ্গেযায়। তখন আমি এই বিষয়ে ফজরআলীর কাছে বিচার দিছি।
পরে ফজরআলী তার ভাই শাহাপরানকে মারধর করছে। শুনছি এইবিষয়ে তাদের বাড়িতে বিচারও হইছে। এই বিষয়ে ক্ষিপ্তহয়ে গত এপ্রিল মাসে ফেইসবুক থেকে ছবি সংগ্রহ করে ফজরআলীর ছবির সাথে আমার ছবি জড়িয়ে দিয়ে ফেইজবুকে অনেক বাজে লেখা লেখি হয়। এইটাও শাহাপরানের কাজ। তাকে তার ভাই মারছে এবং বিচারে তাকে শাসিয়েছে এইজন্য সে আমাদের উপর আরও ক্ষুব্দ হয়। এরপর আমি আমার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যাই।
গত ১৫ দিন আগে ওই ভূক্তভোগী নারী আবার তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসে। এই খবর পেয়ে ফজরআলীর ছোটভাই শাহাপরান একটি পরিকল্পনা করে যে, ঐ নারীকে ফজর আলীর সাথে একত্রে পেলে দুজনকেই হামলা করবে এবং প্রতিশোধ নিবে। ঐ পরিকল্পনায় টাকার বিনিময়ে আরও ৬/৭ জনকে যুক্ত করে পরান। গত ২৬শে জুন (বমহস্পতিবার) রাত আনুমান: ১১টায় ফজরআলী তাদের ঘরে ঢুকার পাঁচ মিনিটের মধ্যে শাহাপরান তার দলবল নিয়ে ওই ঘরে ঢুকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দু’জনকে মধ্যযোগীয় কায়দায় অতর্কিত হামলা করে। এবং টেনে হিচরে কাপরচোপর ছিড়ে ফেলে বিবস্র ভিডিও ধারন করে তার ক্ষোভ মিটায়। তাদের এলোপাথারি হামলায় ফজরআলী মারাত্বক আহত হয়। এসময় ভূক্তভোগী নারীর চিৎকারে আশেপশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
ভাইরাল ঘটনায় সারাদেশে ক্ষোভপ্রতিবাদের ঝড় উঠলে পুলিশ প্রথমে হামলাকারী চার জনকে এবং পরে সায়দাবাদ থেকে ধর্ষক ফজরআলীকে গ্রেফতার করে। পরে গত ২৯ জুন (সোমবার) হামলাকারী, ভিডিও ধারন ও ভাইরাল ঘটনায় শাহাপরানকে প্রধান আসামী করে তাদের বিরুদ্ধে ভূক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করে। এরপর গতকাল ৩ জুলাই বুড়িচং উপজেলা থেকে পলাতক শাহাপরানকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ এর আভিযানিক দল।
এবিষয়ে র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত শাহ পরান এই ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী এবং তার ভাই ফজর আলীর সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিশোধ নিতে ভিকটিম ও ভাইকে লক্ষ্য করে এই পরিকল্পনা করে। শাহ পরানের সঙ্গে আরও কয়েকজন — আবুল কালাম, অনিক, আরিফ, সুমন, রমজান এবং অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জন এই ঘটনায় অংশ নেয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ জুলাই কুমিল্লার বুড়িচং থানার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, তাকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করা হবে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়া ছোড়ির বিষয়ে আমাদের অনুসন্ধান বলছে, ফজরআলী কোন দলের নয়, ফজরআলী একটি ভাইরাসের নাম। সে একজন সুযোগ সন্ধানী, সুবিধা ভোগী, নারী লোভী। ব্যক্তিগত ভাবে সে একজন সূদ কারবারি, মাদক সেবনকারী। তার ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের জন্য সে যখন যেই দল ক্ষমতায় সে দলের পা চেটেছে। এমনিতে রাজনৈতিক ভাবে ফজরআলীর কোন রাজনৈতিক দলেই কোন প্রকার পদ পদবী ছিলোনা/নেই।
ভূক্তভোগী দিপালী বালা একজন সহজ সরল নারী। তার পরিবার সমজে একটি দূর্বল অসহায় পরিবার। হামলা ও ভাইরাল পরিকল্পনাকারী শাহাপরান এবং তার বড়ভাই ধর্ষক শাহাপরান তাদের দু’জনেরই কু-নজর ছিলো ভূক্তভোগীর উপর। ওই নারীকে প্রথমে ছোটভাই উত্যক্ত করতো পরে বড়ভাই বিপদের সময় লাভে টাকা ধার দিয়ে কৌশলে তার সরলতার সুযোগ নিয়েছে। দুই ভাইয়ের একই নারীর প্রতি কু-নেশার কারনে এই দন্দ্বের সৃষ্টি। ঘটনায় জরিত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন সমাজের সচেতন মহল।
আরও পড়ুন:

















