ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
তাজা খবর
অসুস্থ হনুমান চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নিজেই হাসপাতালে হাজির
মেধার স্বাক্ষরে দেশসেরা মনিরামপুরের সুরাইয়া ও অরিত্র
ব্যারিস্টার জাইমা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করেছেন
মঠবাড়িয়ায় ৩০ আঙুল নিয়ে নবজাতকের জন্ম, নেই জিহ্বাও
ক্রিসেন্ট জুট মিল ৩০ বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিল মাহবুব গ্রুপ
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন
১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী
আশ্রয় শিবিরের বাইরে রোহিঙ্গা’র বসবাস!

শ.ম.গফুর, কক্সবাজার
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৭:২২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১৭৪ বার পঠিত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামজুড়ে রোহিঙ্গাদের বসবাসের চিত্র একেবারে ওপেন সিক্রেট।পাড়া-মহল্লায় দেখা যাচ্ছে পুরো পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাসের দৃশ্য। সরকারের প্রদত্ত আশ্রয় শিবিরের বাইরে শত-সহস্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ বাসা ভাড়া নিয়ে কিংবা নিজস্ব ঘর নির্মাণ করে অবস্থান করছে। সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রভাবশালী ও জমির মালিকদের সহযোগিতায় এসব রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকায় বসবাসের সুযোগ পাচ্ছে।প্রাপ্ত তথ্যমতে, শুধু বালুখালী এলাকাতেই অর্ধশতাধিক বাড়িতে রোহিঙ্গারা ভাড়া থাকছেন। অভিযোগ রয়েছে,বাদাম বিক্রেতা মনিয়ার বাড়িতে ১৪টি পরিবার,আনোয়ারের বসতভিটায় ২২টি, ছগির আহমদের বাড়িতে ১২টি, আর আবদুর রহমান ও লুৎফুর নাহারের বাড়িতে যথাক্রমে ২০ ও ৪৫টি পরিবার বসবাস করছে। প্রতিটি পরিবার মাসিক গড়ে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা ভাড়া প্রদান করছে। এছাড়া ভাড়া বাসার জামানত বাবদ প্রতি পরিবার থেকে নগদ ৪৫–৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।এভাবেই ফরিদ আলমের বসতভিটায় ৩৪টি, আব্দুল করিম প্রকাশ বিডিআর বাড়িতে ১৬টি, জুনির বাড়িতে ২টি, ছৈয়দ আলম ও শামসুল আলমের বাড়িতে ১টি করে রোহিঙ্গা পরিবার অবস্থান করছে। নুরুল আমিন, রেহেনা আক্তার, বেলালসহ আরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার বাড়িতেও রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি মিলেছে।এদিকে উপজেলার কুতুপালং লাগোয়া কচুবনিয়া,কুতুপালং পশ্চিম পাড়ায় ব্যাপক হারে নতুন-পুরানো রোহিঙ্গারা বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছেন।শুধু ভাড়া নয়, জমি কিনেও বসবাসের প্রমাণ মিলেছে। পালংখালী ইউনিয়নের মোছারখোলা, তেলখোলা, প্রেমবাজার, গর্জনখোলা ও বাইলাখালী এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে দেখা গেছে, চাকমা সম্প্রদায়ের কিছু পরিবারসহ স্থানীয়দের কাছ থেকে জায়গা কিনে একাধিক রোহিঙ্গা পরিবার ঘর নির্মাণ করেছে। বিশেষ করে তেলখোলা বাজার থেকে পশ্চিমের বাইলাখালী এলাকায় অন্তত ১৫টি রোহিঙ্গা পরিবার নিজস্ব ঘর তুলেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এদের মধ্যে কয়েকজনের নামে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পর্যন্ত রয়েছে।
একইভাবে জামতলী, থাইংখালী ও পশ্চিম বালুখালী এলাকাতেও রোহিঙ্গাদের ভাড়া থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি উখিয়া সদর হাজমপাড়া, শীলেরছড়া ও দোছড়ি এলাকাতেও একাধিক পরিবার গৃহ নির্মাণ করে বসবাস করছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের বসবাস দিনদিন বিস্তার লাভ করছে।এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেক পরিবার রয়েছে ইয়াবা কারবার,অস্ত্র ব্যবসা ও চুরি-ছিনতাই এবং ডাকাতির মত বহুমুখি অপরাধে সম্পৃক্ত রয়েছে।
ভাড়া বাসায় থেকে ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধমুলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে।রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ক্যাম্প প্রশাসন নির্বিকার থাকায়,রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণে কোন প্রকার কঠোরতা না থাকায় দিন-দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা।রোহিঙ্গারা রাত-বিরাতে গ্রামের লোকালয়ে অবাধ বিচরণের ফলে স্থানীয়দের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে।পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান(ইউপি) এম.গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন,শুধু তাহার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ভাড়া বাসা ও জমি কিনে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে অন্তত ১০ সহস্রাধিক রোহিঙ্গা। তালিকা করে তাদের ক্যাম্পে ফিরিয়ে নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)জিয়াউল হক জানান,এ বিষয়ে আমার জানা নেই।তবে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















