ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার
কর্মীদের ভালোবাসার টানে

বাংলাদেশ সফরে কুয়েতি ব্যবসায়ী সেমলান

এম.জে.এ মামুন
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫০ বার পঠিত
 এম.জে.এ মামুন: কর্মীদের প্রতি ভালোবাসা ও মানবিক সম্পর্কের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন কুয়েতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান আহমেদ আলী সেমলান। তিনি গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে আগমন করেন এবং ঢাকা ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫ দিন সফর করেন।
সফরকালে তিনি তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেন, একসঙ্গে সময় কাটান ও খাবার গ্রহণ করেন। কর্মীদের সঙ্গে মালিক নয়—বরং আপনজনের মতো আচরণে তিনি সবার হৃদয় জয় করেন।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পোমকাড়া গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী রুবেল পারভেছ সালমান আহমেদ আলী সেমলানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত কর্মী। তিনি জানান, “আমার মালিক সালমান একজন বিশিষ্ট ও সফল ব্যবসায়ী। কুয়েত ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কুয়েতে আমরা প্রায় ১০ জন বাংলাদেশি তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। তিনি কখনো আমাদের কর্মচারী হিসেবে দেখেন না—সবসময় পরিবারের সদস্যের মতো ভালোবাসেন। আমাদের সঙ্গে ঘুরতে যান, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন এবং আমাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন।”
রুবেল পারভেছ আরও জানান, গত কয়েক মাসে তাদের মধ্যে ৮ জন কর্মী ছুটিতে বাংলাদেশে আসেন। বিষয়টি আগে থেকে কাউকে না জানিয়ে ২ জানুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সালমান ফোন করে জানান, তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। বিষয়টি প্রথমে বিশ্বাস না হলেও মালিকের আগমনের খবরে সবাই বিমানবন্দরে ছুটে যান। কিছুক্ষণ পর সামনে এসে হাজির হন সালমান আহমেদ আলী সেমলান। কর্মীদের সঙ্গে সালাম বিনিময়, কোলাকুলি ও আবেগঘন মুহূর্তের পর সবাই একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করেন।
এই সফরে তিনি কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সময় কাটান। কর্মীদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
৮ জানুয়ারি তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এগারগ্রাম বাজারে কুয়েতপ্রবাসী রুবেল মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বাংলাদেশ সম্পর্কে অনুভূতি জানতে চাইলে সালমান আহমেদ আলী সেমলান বলেন, “বাংলাদেশ সম্পর্কে আগে তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু এখানে এসে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা অসাধারণ। বাংলাদেশের মানুষ আমাকে খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে কুমিল্লা এবং আপনাদের আন্তরিকতা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। ইনশাআল্লাহ, আমি আবারও বাংলাদেশে আসবো।”
তার এই বক্তব্য আরবি থেকে বাংলায় উপস্থিত সবার জন্য অনুবাদ করে শোনান রুবেল পারভেছ।
কুমিল্লার মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ এই কুয়েতি নাগরিক দেবিদ্বার উপজেলার মুগসাইর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রুবেল মিয়ার বাসায় গেলে এলাকাবাসী ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। স্থানীয়দের আন্তরিক আপ্যায়নে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন।
এছাড়াও তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সফর শেষে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সালমান আহমেদ আলী সেমলান বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। তবে কর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা এই মানবিক সম্পর্ক ও ভালোবাসার স্মৃতি তিনি আজীবন বহন করবেন বলে জানান।
আরও পড়ুন:

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

কর্মীদের ভালোবাসার টানে

বাংলাদেশ সফরে কুয়েতি ব্যবসায়ী সেমলান

সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৩:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
 এম.জে.এ মামুন: কর্মীদের প্রতি ভালোবাসা ও মানবিক সম্পর্কের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন কুয়েতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান আহমেদ আলী সেমলান। তিনি গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে আগমন করেন এবং ঢাকা ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫ দিন সফর করেন।
সফরকালে তিনি তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেন, একসঙ্গে সময় কাটান ও খাবার গ্রহণ করেন। কর্মীদের সঙ্গে মালিক নয়—বরং আপনজনের মতো আচরণে তিনি সবার হৃদয় জয় করেন।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পোমকাড়া গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী রুবেল পারভেছ সালমান আহমেদ আলী সেমলানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত কর্মী। তিনি জানান, “আমার মালিক সালমান একজন বিশিষ্ট ও সফল ব্যবসায়ী। কুয়েত ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কুয়েতে আমরা প্রায় ১০ জন বাংলাদেশি তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। তিনি কখনো আমাদের কর্মচারী হিসেবে দেখেন না—সবসময় পরিবারের সদস্যের মতো ভালোবাসেন। আমাদের সঙ্গে ঘুরতে যান, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন এবং আমাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন।”
রুবেল পারভেছ আরও জানান, গত কয়েক মাসে তাদের মধ্যে ৮ জন কর্মী ছুটিতে বাংলাদেশে আসেন। বিষয়টি আগে থেকে কাউকে না জানিয়ে ২ জানুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সালমান ফোন করে জানান, তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। বিষয়টি প্রথমে বিশ্বাস না হলেও মালিকের আগমনের খবরে সবাই বিমানবন্দরে ছুটে যান। কিছুক্ষণ পর সামনে এসে হাজির হন সালমান আহমেদ আলী সেমলান। কর্মীদের সঙ্গে সালাম বিনিময়, কোলাকুলি ও আবেগঘন মুহূর্তের পর সবাই একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করেন।
এই সফরে তিনি কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সময় কাটান। কর্মীদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
৮ জানুয়ারি তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এগারগ্রাম বাজারে কুয়েতপ্রবাসী রুবেল মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বাংলাদেশ সম্পর্কে অনুভূতি জানতে চাইলে সালমান আহমেদ আলী সেমলান বলেন, “বাংলাদেশ সম্পর্কে আগে তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু এখানে এসে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা অসাধারণ। বাংলাদেশের মানুষ আমাকে খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে কুমিল্লা এবং আপনাদের আন্তরিকতা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। ইনশাআল্লাহ, আমি আবারও বাংলাদেশে আসবো।”
তার এই বক্তব্য আরবি থেকে বাংলায় উপস্থিত সবার জন্য অনুবাদ করে শোনান রুবেল পারভেছ।
কুমিল্লার মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ এই কুয়েতি নাগরিক দেবিদ্বার উপজেলার মুগসাইর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রুবেল মিয়ার বাসায় গেলে এলাকাবাসী ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। স্থানীয়দের আন্তরিক আপ্যায়নে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন।
এছাড়াও তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সফর শেষে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সালমান আহমেদ আলী সেমলান বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। তবে কর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা এই মানবিক সম্পর্ক ও ভালোবাসার স্মৃতি তিনি আজীবন বহন করবেন বলে জানান।