ঢাকা, বাংলাদেশ। , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তাজা খবর
ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে কামররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার
মানদণ্ডে শিক্ষা ব্যবস্থা

বর্তমান অবস্থা ও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম!

শেখ রিফান আহমেদ
  • সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / ২৭ বার পঠিত

শেখ রিফান আহমেদ : শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। একটি দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ অনেকাংশেই নির্ভর করে তার শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানের ওপর। শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন বা সনদ পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং একজন মানুষকে জ্ঞান, মূল্যবোধ, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া।

বর্তমান সময়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। বিশেষ করে পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা, মুখস্থ নির্ভরতা এবং কোচিংমুখী প্রবণতা শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত করছে। অনেক শিক্ষার্থী বিষয়বস্তুর গভীরতা বোঝার পরিবর্তে শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য পড়াশোনা করছে। এর ফলে সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং বাস্তব জীবনে জ্ঞান প্রয়োগের দক্ষতা কাক্সিক্ষতভাবে বিকশিত হচ্ছে না।

একটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী, উদ্ভাবনী ও আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলা। বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়, প্রযুক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা, নৈতিক শিক্ষা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় প্রয়োজন।

শিক্ষার মান উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকরা। একজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারেন। তাই শিক্ষক প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে হবে। শিক্ষকদের শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেও ভূমিকা রাখতে হবে।

পাশাপাশি বর্তমান মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধুমাত্র পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে একজন শিক্ষার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণ করা সবসময় কার্যকর নয়। শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণ, ব্যবহারিক জ্ঞান এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ মূল্যায়নের আওতায় আনা জরুরি।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও নৈতিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, সততা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার মতো গুণাবলি তৈরি করতে হবে ছোটবেলা থেকেই।

একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য আজকের শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া অপরিহার্য। কারণ আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত শক্তিশালী করা এবং যুগোপযোগী সংস্কার নিশ্চিত করা সময়ের অন্যতম দাবি।

-লেখক : সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের পড়ার সুযোগ দিন

বিশেষ আয়োজন

প্রবন্ধ কলাম

মানদণ্ডে শিক্ষা ব্যবস্থা

বর্তমান অবস্থা ও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম!

সর্বশেষ পরিমার্জন: ১২:০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

শেখ রিফান আহমেদ : শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। একটি দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ অনেকাংশেই নির্ভর করে তার শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানের ওপর। শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন বা সনদ পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং একজন মানুষকে জ্ঞান, মূল্যবোধ, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া।

বর্তমান সময়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। বিশেষ করে পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা, মুখস্থ নির্ভরতা এবং কোচিংমুখী প্রবণতা শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত করছে। অনেক শিক্ষার্থী বিষয়বস্তুর গভীরতা বোঝার পরিবর্তে শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য পড়াশোনা করছে। এর ফলে সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং বাস্তব জীবনে জ্ঞান প্রয়োগের দক্ষতা কাক্সিক্ষতভাবে বিকশিত হচ্ছে না।

একটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী, উদ্ভাবনী ও আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলা। বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়, প্রযুক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা, নৈতিক শিক্ষা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় প্রয়োজন।

শিক্ষার মান উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকরা। একজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারেন। তাই শিক্ষক প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে হবে। শিক্ষকদের শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেও ভূমিকা রাখতে হবে।

পাশাপাশি বর্তমান মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধুমাত্র পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে একজন শিক্ষার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণ করা সবসময় কার্যকর নয়। শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের গুণ, ব্যবহারিক জ্ঞান এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ মূল্যায়নের আওতায় আনা জরুরি।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও নৈতিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, সততা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার মতো গুণাবলি তৈরি করতে হবে ছোটবেলা থেকেই।

একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য আজকের শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া অপরিহার্য। কারণ আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত শক্তিশালী করা এবং যুগোপযোগী সংস্কার নিশ্চিত করা সময়ের অন্যতম দাবি।

-লেখক : সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক ভাবনা